ব্রাউন রাইস বা লাল চাল আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য ভাল।

ভাত ছাড়া বাঙালির এক বেলাও চলে না। তাই ভাত যদি খেতেই হয়, তবে যে চালের ভাত সব থেকে বেশি পুষ্টিকর সেটাই খাওয়া উচিত। সব থেকে পুষ্টিকর চালের কথা বলতে গেলে লাল চালের কথা আসে। হ্যাঁ লাল চাল। কারণ লাল চাল ধান থেকে খোসা ছাড়ানোর পর পরই পাওয়া যায় বলে এতে পুষ্টি উপাদান ও বেশি থাকে।

ভাতের রং সাদা হয় না, এটি প্রসেস করে কয়েক বার ছাটাই করার ফলে চাল সাদা করা হয়। চালের লাল অংশ হলো চালের আবরণ। লাল চালে প্রচুর অ্যান্থোসায়ানিন নামের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে।

সাধারণত আমরা যে চালের ভাত খাই অর্থাৎ সাদা চাল অপেক্ষা এই লাল চাল স্বাস্থ্যের জন্য অধিক উপকারী।

প্রাচীনকালে গ্রাম বাংলার মানুষ ঢেঁকি ছাঁটা চাল খেত। বর্তমানে সমাজ ঢেঁকি ছাঁটা চালের নামকরণ করেছে ব্রাউন রাইস। ঢেঁকি ছাঁটা পালিশ করা হয় না বলে সাধারণ চালের তুলনায় পুষ্টিগুণ কয়েকগুণ বেশি।

লাল চাল জিঙ্ক, আয়রন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন বি 1, বি 2 এবং বি 6, ম্যাঙ্গানিজ, সেলেনিয়াম, আমিষ এবং পটাসিয়াম সমৃদ্ধ।

ব্রাউন রাইস (brown rice) বা লাল চাল। আমরা সাধারণত ব্রাউন রাইসকে লাল চাল বলে চিনি। লাল চাল আস্ত শস্য হিসাবে বিবেচনা করা হয়। বাদামী চালের তুলনায় সাদা চালে ভিটামিন, খনিজ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কম থাকে। অনেক সময় কম-কার্ব ডায়েটের কারণে অনেকেই ব্রাউন রাইস এড়িয়ে চলে।

ব্রাউন রাইস এর পুষ্টি উপাদান

সাদা চালের তুলনায়, বাদামী চালের পুষ্টির দিক থেকে আরও অনেক কিছু রয়েছে। যদিও ক্যালোরি এবং কার্বোহাইড্রেট সামগ্রী একই রকম।

এক কাপ বাদামী চালে যে পরিমানে পুষ্টি উপাদান থাকে তা নিচে দেওয়া হলো-

  • ক্যালোরি: ২১৬
  • কার্বোহাইড্রেট: ৪৪ গ্রাম
  • ফাইবার: ৩.৫ গ্রাম
  • প্রোটিন: ৫ গ্রাম
  • থায়ামিন (B1): ১২% RDI
  • নিয়াসিন (B3): ১৫% RDI
  • পাইরিডক্সিন (B6): ১৪% RDI
  • প্যান্টোথেনিক অ্যাসিড (B5): ৬% RDI
  • আয়রন: ৫% RDI
  • ম্যাগনেসিয়াম: ২১% RDI
  • ফসফরাস: ১৬% RDI
  • জিংক: ৮% RDI
  • কপার: ১০% RDI
  • ম্যাঙ্গানিজ: ৮৮% RDI
  • সেলেনিয়াম: ২৭% RDI

এই চাল ফোলেট, রিবোফ্লাভিন (B2), পটাসিয়াম এবং ক্যালসিয়ামের একটি ভাল উৎস। লাল চালে ম্যাঙ্গানিজ বেশি থাকে। এই খনিজটি শরীরের অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ার জন্য অত্যাবশ্যক। যেমন হাড়ের বিকাশ, ক্ষত নিরাময়, পেশী সংকোচন বিপাক, স্নায়ু ফাংশন এবং রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণ করে।

বাদামী চালে ফেনল এবং ফ্ল্যাভোনয়েড রয়েছে, এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা শরীরকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। অক্সিডেটিভ স্ট্রেস হৃদরোগ, নির্দিষ্ট ধরণের ক্যান্সার এবং অকাল বার্ধক্য সহ বেশ কয়েকটি স্বাস্থ্যের সমস্যা দূর করে।

ব্রাউন রাইস আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য ভাল

নিচে ব্রাউন রাইসের স্বাস্থ্য উপকারীতা সম্পর্কে আলোচনা করা হল:-

অত্যন্ত পুষ্টিকর:

যদিও বাদামী চাল একটি সাধারণ খাবার তবে সাদা চালের তুলনায় বাদামী চালের পুষ্টি অনেক বেশি। এই চাল ক্যালোরি এবং কার্বোহাইড্রেটের দিক থেকে একই রকম। এই চাল ফোলেট, রিবোফ্লাভিন (B2), পটাসিয়াম এবং ক্যালসিয়ামের রয়েছে। এছাড়া ম্যাঙ্গানিজও বেশি থাকে। এই খনিজটি শরীরের গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ার জন্য অত্যাবশ্যক। যেমন হাড়ের বিকাশ, ক্ষত নিরাময়, পেশী সংকোচন এবং রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে।

ওজন কমাতে সাহায্য করে:

বাদামী চাল আমাদের ওজন কমাতে সাহায্য করে। সাদা চাল, সাদা পাস্তা এবং সাদা রুটির মতো পরিশোধিত খাবার গুলোতে ফাইবার এবং পুষ্টি উপাদানের অভাব থাকে। এই চলে থাকা ফাইবার দীর্ঘ সময়ের জন্য পেট ভরিয়ে রাখতে সাহায্য করে। তাই ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার ক্যালোরি কম গ্রহণ করতে সাহায্য করে।

কিছু গবেষণায় দেখা যায় যে, যারা বাদামী চালের মতো গোটা শস্যদানা খায় তাদের ওজন কমে। এছাড়া বাদামী চাল পেটের চর্বি কমাতেও সাহায্য করে।

হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী:

কোন সন্দেহ নেই যে বাদামী চাল একটি স্বাস্থ্যকর খাবার। এটি ফাইবার এবং উপকারী যৌগ সমৃদ্ধ যা আমাদের হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে পারে। বাদামী চাল ফাইবারের একটি ভাল উৎস এবং বাদামী চালে লিগনান নামক যৌগ রয়েছে যা আমাদের হার্টের রোগের ঝুঁকি কমায়

৫৬০,০০০ জন লোকের উপর একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, যারা বেশি পরিমাণে ফাইবার যুক্ত খাবার খেয়েছেন তাদের ক্যান্সার, হৃদরোগ এবং শ্বাসযন্ত্রের রোগের ঝুঁকি ২৪-৫৯% কম ছিল। এছাড়া বাদামী চালে ম্যাগনেসিয়ামের পরিমাণ বেশি থাকে যা আমাদের হার্টকে সুস্থ্য রাখতে সাহায্য করে।

লাল চাল প্রাকৃতিকভাবে গ্লুটেন মুক্ত:

গ্লুটেন হল একটি প্রোটিন যা গম, বার্লি এবং রাইয়ের মতো শস্যতে পাওয়া যায়। অনেকের গ্লুটেন সমৃদ্ধ থেকে অ্যালার্জি এবং পেটে ব্যথা, ডায়রিয়া, ফোলাভাব এবং বমি হয়ে থাকে। বাদামী চাল স্বাভাবিকভাবেই এই গ্লুটেন প্রোটিন থেকে মুক্ত। যারা গ্লুটেন গ্রহণ করতে চান না এই চাল তাদের জন্য নিরাপদ।

পাকস্থলী সুস্থ রাখে:

ব্রাউন রাইসে থাকা ফাইবার অন্ত্রের মুভমেন্টের জন্য খুবই উপকারী। সাধারণ সাদা ভাতের চাইতে ব্রাউন রাইস পরিপাক হয় ভালোভাবে। এছাড়া খাদ্য পরিপাক, পাকস্থলীর ক্রিয়া সচল রাখা এবং পাকস্থলীর সুস্থ্যতায় ব্রাউন রাইস খুবই উপকারী।

রেফারেন্স: