গর্ভাবস্থায় পাকা আম। গর্ভবতী মা দিনে কয়টি আম খাবে বা গর্ভাবস্থায় আম কতটুকু নিরাপদ?

আপনি কি গর্ভবতী? যদি হয়ে থাকেন তাহলে শুনুন। আপনি গর্ভবতী থাকাকালীন, আম শুধু খেতে নিরাপদ নয়, এই ফলের মধ্যে প্রচুর পুষ্টি রয়েছে যা আপনার পক্ষে উপকারী। একটি মাঝারি সাইজের আম ফোলেটের একটি ভাল উৎস যা গর্ভাবস্থায় অতীব জরুরি।

এই ধরিত্রী বা বিশ্বে একটি নতুন জীবনের আনয়ন বা মা-বাবা হওয়া সত্যিই যেন অসম্ভব সুন্দর ও আনন্দের অনুভূতি। গর্ভাবস্থার যে থ্রী টাইমস্টার অর্থাৎ নয়টি গুরুত্বপূর্ণ মাসে, আপনার গর্ভাবস্থা জুড়ে আপনার কাছে অগ্রাধিকার পাবে নিজেকে ও আপনার ক্রমবর্ধমান শিশুকে সুস্থ অবস্থায় রাখা।

আম পুষ্টি উপাদানে এতটা সমৃদ্ধ যে, গর্ভাবস্থায় ডায়েটে আম রাখতে ভূল করবেন না। এটি গর্ভবতী মায়ের শক্তি ও পুষ্টির উৎস।

আম খাওয়ার কারণে কি গর্ভপাত হতে পারে?

না, পাকা আম খাওয়ার ফলে গর্ভপাত হয় না। আপনার পেঁপে, আম বা আনারস খাওয়া উচিত নয় কারণ এগুলি গর্ভপাত হতে পারে – মিথ্যা। অনেক মিথ্যা ভূল ধারণা আমাদের সমাজে প্রচলিত আছে। আগেই বলা হয়েছে যে, ভ্রূণে সাধারণত Abnormality বা অস্বাভাবিকতা থাকলে গর্ভপাত ঘটে থাকে। অস্বাভাবিক শিশুর আরও বৃদ্ধি রোধ করার প্রকৃতির একটি উপায় গর্ভপাত।

আমের আকার ভালো অর্থাৎ বড় হলে দিনে একটি আম যথেষ্ট। ছোট আম হলে দিনে দুটো খাবেন। আপনার শরীরের অবস্থা বুঝে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী খাবেন।

গর্ভবতী মায়ের পাকা আম খাওয়ার উপকারিতাঃ

আইরনের অভাব পূরণ করে:

গর্ভাবস্থায় অনেক মায়ের শরীরে আইরনের ঘাটতি দেখা যায়। মায়ের নিজের পুষ্টি ও তার ভেতরে বেড়ে ওঠা ছোট্টটির পুষ্টি। এই কারণে মায়ের শরীরে অর্থাৎ রক্তে হেমোগ্লোবিনের ঘাটতি পাওয়া যায়। গর্ভবতী মাকে পাকা আম খেতে দিন। পাকা আম গর্ভবতী মায়ের রক্ত বাড়াতে অর্থাৎ হেমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়াতে দারুণভাবে সাহায্য করে।

কোষ্টকাঠিন্য দূর করে:

আমে প্রচুর পরিমানে খাদ্য আঁশ রয়েছে। কিছু কিছু গর্ভবতী মায়ের গর্ভকালীন সময়ে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দেখা যায়। পাকা আমে প্রচুর ফাইবার বা আঁশ থাকায় গর্ভবতী মায়ের কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করে।

অকাল জন্ম ও স্বল্প ওজন রোধ করে:

যে মহিলারা পর্যাপ্ত ফোলেট পান না তাদের স্নায়ু বিফিডার মতো নিউরাল টিউব ত্রুটিযুক্ত বাচ্চা হওয়ার ঝুঁকি থাকে। ফোলেটের ঘাটতি অকাল বা স্বল্প জন্মের ওজনের বাচ্চা হওয়ার সম্ভাবনাও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

আপনার প্রতিদিনের ফোলেটের 15% যুক্ত ছাড়াও, 3/4 কাপ আমের আপনার প্রতিদিনের ভিটামিন সি এর 50%, আপনার প্রতিদিনের ভিটামিন এ এর 8%, আপনার প্রতিদিনের ফাইবারের 7%, এবং আপনার প্রতিদিনের ভিটামিন বি 6 এর 8% থাকে এবং আপনার প্রতিদিনের তামার 15%। এই সমস্ত ভিটামিন এবং পুষ্টির জন্য আমকে না বলা শক্ত। আমের কাছে আপনার মাথা নত করতেই হবে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে:

আম ভিটামিনের ভালো উৎস। আমে ভিটামিন এ, বি ও সি রয়েছে। গর্ভবতী মা বিনা সঙ্কোচে আনন্দসহকারে আম খাবে। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে। ভিটামিন এ বাচ্চার চোখের জন্য উপকারী।

রসালো মিষ্টি-অম্ল স্বাদের আম সকালের অসুস্থতা কমানোর জন্য পরিচিত। গর্ভবতী নারীর এটি সাধারণ অবস্থা, এতে সাহায্য করার জন্য আম বিস্ময়কর কাজ করে। আমের ভিটামিন বি৬ আপনার সকালের অসুস্থ্যতা দূর করার জন্য উপযুক্ত।

এছাড়া ভিটামিন বি৬ ও মিনারেল ম্যাগনেসিয়াম গর্ভবতী মায়ের ও বাচ্চার বিপাক, রক্তচলাচল ও মস্তৃষ্কের জন্য খুব উপকারী।

সতর্কতাঃ

যা কিছু খাবেন পরিমাণমতো খাবেন। অতিরিক্ত কোনো কিছুই ভালো নয়।

পাকা আমে শর্করা ও চিনি থাকে। তাই পাকা আম রক্তের সুগার ও ওজন বাড়িয়ে দিতে পারে। গর্ভাবস্থায় অনেক মা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হন। তাই পরিমাণমতো খাবেন।

ক্যালসিয়াম কার্বাইড শরীরের জন্য ক্ষতিকর। তাই কোনো রাসায়নিক দিয়ে পাকানো ফল এড়িয়ে চলুন।

FDA-অনুসারে, আপনি গর্ভবতী হওয়ার সময় আম এবং ফলগুলি খাওয়া নিরাপদ। অবশ্যই, আপনার গর্ভাবস্থায় আপনার কোন খাবারটি খাওয়া উচিত এবং কী খাওয়া উচিত নয় সেজন্য আপনার চিকিৎসকের সাথে সবসময় পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সূত্রঃ

https://www.mango.org/blog-is-mango-safe-during-pregnancy/

https://parenting.firstcry.com/articles/eating-mangoes-during-pregnancy-safe-or-unsafe/