প্রাকৃতিক মাউথ ওয়াশ কোন গুলো।

পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা প্রতিটি মানুষের জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর প্রাথমিকভাবে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি সামনে এলে পোশাক পরিচ্ছদ ধারনাই মাথায় আসে। কিন্তু তার সঙ্গেও সমান ভাবে গুরুত্বপূর্ণ নিজেদের মুখ অর্থাৎ মুখ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা।

আজকাল যে সমস্যাটা অনেকের মধ্যে দেখা যায় তা হল মুখের দুর্গন্ধ। এ এক এমন সমস্যা যা আপনাকে কারও সঙ্গে ভালো করে মিশতে দেবে না। আপনার ব্যক্তিত্বেও সমস্যা দেখা দিতে পারে এর জন্য। তাই মুখের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিতে হবে বাড়তি যত্ন-আত্তি। প্রতিবেলা খাবারের পরে ভালো করে মুখ ধুইয়ে ফেলতে হবে।

আমরা অভ্যাসের কারণে দাঁত মাজার কাজটা সকালেই করি। কিন্তু সত্যি হলো, দাঁত মাজতে হবে রাতে ঘুমানোর আগে। আর সকালে খাবারের পরে। অভ্যাসটা এভাবেই গড়তে হবে।

মুখে দুর্গন্ধ হওয়ার অনেকগুলি কারণ রয়েছে। আপনার লিভারের সমস্যার জন্যেও এই সমস্যা দেখা দেয়। এছাড়া ডায়াবেটিস, কিডনির সমস্যা, ব্রঙ্কাইটিসের জন্যেও মুখে দুর্গন্ধ হতে পারে। কয়েকটি ঘরোয়া উপায় রয়েছে মুখের দুর্গন্ধ দূর করার জন্য।

আসুন জেনে নিই সেগুলো সম্পর্কে-

মৌরি:

আমরা অনেকেই খাবার পর মুখশুদ্ধি হিসাবে মৌরি খাই। এটি সত্যি খুব উপকারি মুখের দুর্গন্ধ দূর করার ক্ষেত্রে। তাই যাদের মুখে দুর্গন্ধের সমস্যা আছে, তারা খাবার পর একটু মৌরি মুখে রাখুন।

এছাড়াও মৌরি চাও খুবই কার্যকর। মৌরি মাউথ ফ্রেশনার হিসেবে কাজ করে। নিয়মিত মৌরি চা খেলে আপনার নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ দূর হবে। এছাড়া আস্ত মৌরি খেতে পারেন। এতে করে মুখের দুর্গন্ধ অনেকটা দূর হয়ে যাবে।

দারুচিনি:

দারুচিনির অ্যান্টি-মাইক্রোবায়াল প্রভাব দাঁত ক্ষয় রোধে এবং দুর্গন্ধকে কমাতেও সহায়তা করে। এছাড়া দারুচিনি ও মধুতে একাধিক উপকারী উপাদান রয়েছে যা মুখের ক্ষতিকর ও দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী জীবাণু ধ্বংস করতে পারে। এর জন্য দারুচিনি পানিতে ভালো করে ফোটান। সেই পানিটা দিয়ে মুখ কুলকুচি করুন দিনে দুবার। এটি প্রাকৃতিক মাউথ ওয়াশ হিসাবে কাজ করে।

আপেল সিডার ভিনেগার:

আপেল সিডার ভিনেগারকে বলা হয় প্রাকৃতিক মাউথ ওয়াশ। একটি পাত্রে দুই টেবিল চামচ আপেল সিডার ভিনেগার, এক কাপ লবণ পানি এবং ১-২ ফোটা ভ্যানিলা এসেনশিয়াল তেল নিয়ে ভাল করে মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি বোতলে সংরক্ষণ করুন এবং এই দ্রবণটি দিয়ে প্রতিদিন এক থেকে দুইবার আপনার মুখ কুলকুচি করুন ভালো উপকার পাবেন।

ধনেপাতা:

মুখের দুর্গন্ধ কমাতে খুব উপকারি উপাদান হল ধনেপাতা। কারণ এতে থাকে প্রচুর পরিমানে ক্লোরোফিল। মুখের দুগন্ধ কমাতে যা বিশেষ কার্যকরী। এর জন্য প্রতিদিন কাঁচা ধনেপাতা চিবিয়ে খান বা ধনেপাতা ফুটিয়ে সেই পানি খেতে পারেন। এই সমস্যা থেকে অনেকটা মুক্তি পাবেন।

লবঙ্গ:

মুখের দুর্গন্ধ কমাতে আরেকটি উপকারী উপাদান হল লবঙ্গ। রোজ এক থেকে দুটো করে লবঙ্গ খান। লবঙ্গ ধীরে ধীরে মুখের দুর্গন্ধ কমাতে সাহায্য করবে বা লবঙ্গ ভালো করে ফুটিয়ে সেই পানি খেতে পারেন। এছাড়াও লবঙ্গ চাও খেতে পারেন। লবঙ্গ প্রাকৃতিক মাউথ ওয়াশ হিসাবে খুবই কার্যকরী।

পুদিনা:

প্রাকৃতিক মাউথ ওয়াশ হিসাবে যত উপাদান আছে তার মধ্যে অন্যতম হল পুদিনা পাতা। এটি মাউথ ওয়াশ খুবই কার্যকরী। মুখের দুর্গন্ধ দুর করতে পুদিনা পাতা পানির সাথে মিশিয়ে কুলি করুন। বা কাঁচা চিবিয়ে খান।

লেবু:

লেবুও মুখের দুর্গন্ধ কমাতে বেশ সাহায্য করে। এর জন্য গরম পানিতে লেবুর রস ফেলে একটু নুন মিশিয়ে সেটা দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। এটা দিনে দুবার করুন। মুখের দুর্গন্ধ কমে আসবে।

লবণ কিংবা ফিটকিরি:

খাবার পর দুবার গরম পানিতে লবণ কিংবা ফিটকিরি দিয়ে কুলকুচি করুন। অন্তত রাতে শোওয়ার আগে এটি করলে মুখে কোনো ইনফেকশন ও দুর্গন্ধ হবে না। এই দুটি উপাদান প্রাকৃতিক মাউথ ওয়াশ হিসাবে কাজ করবে।

চা:

যারা চা খেতে ভালোবাসেন মুখের দুর্গন্ধ কমাতে বেশি করে চা খান। কারণ চায়ে থাকে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান। যা মুখের ভেতরের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াকে নির্মূল করে ও দুর্গন্ধ রোধ করে।

এলাচ:

মুখের দুর্গন্ধের চিকিৎসায় এবং মুখের স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে এলাচের ব্যবহার প্রাচীন কাল থেকে। এর কারণ এলাচ সাধারণত মুখের দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়াগুলিকে মেরে ফেলতে সাহায্য করে।

একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে যে পাঁচটি ব্যাকটেরিয়া যেগুলি দাঁতের গহ্বরের কারণ সেগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করতে এলাচির নির্যাস কার্যকর ছিল। এলাচের নির্যাস লালার ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা ৫৪% কমাতে পারে।

অ্যালোভেরা:

২০১৪ সালে এক গবেষণায় দেখা গেছে অ্যালোভেরা জেল মাউথ ওয়াশের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এতে এমন একটি উপাদান আছে যা মুখের জীবাণু দূর করে মাড়ি ফোলা, মাড়ি থেকে রক্তপাত বন্ধ করে দিয়ে থাকে। এছাড়া মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে সাহায্য করে।

শসা:

দুর্গন্ধযুক্ত সংক্রমণে আক্রান্ত মাড়ির চিকিৎসায় শসা দারুণ কাজ করে। গোল করে কাটা এক স্লাইস শসা জিহ্বার ওপরে আধা মিনিট রাখুন। শসার সাইটোকেমিক্যাল এর মধ্যে বিশেষ বিক্রিয়া ঘটিয়ে আপনার মুখের জীবাণু ধ্বংস করবে। সজীব হয়ে উঠবে আপনার নিঃশ্বাস।

পেয়ারা পাতা:

মুখে দুর্গন্ধ খুবই অস্বস্তিকর একটা বিষয়। কারও সঙ্গে মুখোমুখি কথা বলতে গেলে বিব্রত লাগে, হাসতে গেলেও প্রাণ খুলে হাসা যায় না। যাদের মুখ থেকে বাজে গন্ধ বেরোয় তাদের ক্ষেত্রে ভীষণ উপকারী পেয়ারা পাতা। পেয়ারা পাতার চা মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে এবং ব্যাকটিরিয়াকে মেরে ফেলতে সক্ষম। তাই একে প্রাকৃতিক মাউথ ফ্রেশনার বলা যেতে পারে।

এছাড়াও মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে প্রতিদিন কিছু বিষয় মাথায় রাখা জরুরী।

  • প্রতিদিন সকালে ও রাতে খাবার পর দুবার ব্রাশ করা দরকার।
  • বেশি করে জল খান। পানি শরীরকে ডিহাইড্রেড করে। কোন খাবার আটকে থাকলে সেটাও বেরিয়ে যাবে।
  • খাবার পর সবসময় মুখ ধুয়ে নেবেন। যাই খান না কেন। এমনকি দুধ, চা, বিস্কুট এসব খাবার পরও মুখ দুবার কুলকুচি করে নেবেন।
  • জিভ পরিষ্কার করুন। মুখের ভেতরের স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য দাঁত পরিষ্কার করার পাশাপাশি জিভও পরিষ্কার করুন। দুর্গন্ধ বন্ধ করার জন্য জিভ পরিষ্কার রাখা দরকার।

রেফারেন্স: