মাল্টা বা মাল্টার জুস রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে ও ভিটামিন “সি” এর চাহিদা পূরণ করতে পারে।

আমরা যেসব ফলের জুস করে খাই তার মধ্যে মালটা অন্যতম। কি সুন্দর দেখতে দুর্দান্ত রং। স্বাদেও কিন্তু কম নয়। গোলাকার, হলুদ রঙের, খোসা পাতলা, ভেতরে রসে টইটম্বুর।

সারা বিশ্ব জুড়ে বছরের প্রায় সর্বাধিক পানকৃত, ছোট্ট শিশু থেকে বড় সকলের পরিচিত ও পছন্দের মাল্টার জুস। এটি সুস্বাদু, এটি চিত্তাকর্ষক, এটি চিরকালীন বা সর্বদা আনন্দদায়ক। সকালের ব্রেকফাস্ট বা নাস্তায় এক গ্লাস মাল্টার জুস বা সকালের মর্নিং-ওয়াক বা দীর্ঘক্ষণ ব্যায়াম শেষে আমাদের মনটাই ভালো করে দেয়।

মাল্টা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। তাই বহুমূত্র রোগ আছে যাঁদের, তাঁরা কিন্তু নির্দ্বিধায় খেতে পারেন। মাল্টার ম্যাগনেসিয়াম উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। তাই এ ধরনের রোগীর জন্য এটি উপকারী ফল।

এটি ভিটামিন “সি” সমৃদ্ধ ফল, যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট-সম্পন্ন। ভিটামিন “সি” রক্তে শ্বেতকণিকার সংখ্যা বাড়ায়, যা দেহের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা শক্তিশালী করে। মাল্টায় পেকটিন নামের একধরনের ফাইবার আছে যা কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে।

নিয়মিত মাল্টা খেলে ত্বকে সজীবতা বজায় থাকবে এবং এটি আপনাকে মুক্তি দেবে ত্বকের বলিরেখা থেকে। সে সঙ্গে লাবণ্য ধরে রাখার কাজটিও করবে। মাল্টা সংক্রমণ প্রতিরোধে সহায়তা করে। এটি প্রদাহজনিত রোগ সারিয়ে তোলে।

মাল্টা বা মাল্টার জুস খাওয়ার স্বাস্থ্য উপকারিতা

নিচে মাল্টা বা মাল্টার জুস খাওয়ার স্বাস্থ্য উপকারিতা নিয়ে আলোচনা করা হলো –

ভিটামিন “সি” এর চাহিদা পূরণে:

ভিটামিন “সি” এর চাহিদা পূরণে মাল্টার জুড়ি নেই। এক গ্লাস মাল্টার জুসকে ভিটামিন “সি” এর সবচেয়ে কার্যকর উৎস বলে মনে করা হয়। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ১০০ গ্রাম মাল্টায় ভিটামিন “সি” আছে ৩২ মিলিগ্রাম৷ প্রতিদিন মানবদেহে ভিটামিন “সি” এর চাহিদার অর্ধেকটাই পূরণ করতে পারে একটি মাল্টা।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে:

প্রতিনিয়ত মাল্টা খেলে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেকাংশে বেড়ে যায়। জিহ্বায় ঘা, ঠোঁটের ঘা, জ্বরের সময় ঠোঁটসহ ত্বক, জিহ্বার অনেক রোগ ভাল করে মাল্টা। সর্দি, নাক বন্ধ থাকা, টনসিলের সমস্যা, গলা ব্যথা, জ্বর-জ্বর ভাব, হাঁচি-কাশি, মাথা ব্যথা, ঠাণ্ডা জনিত দুর্বলতাসহ এ জাতীয় সমস্যাগুলো থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার উৎস হিসেবে খেতে পারেন মাল্টা বা মাল্টার জুস।

ভিটামিন “সি” রক্তে শ্বেত-কণিকার সংখ্যা বাড়ায়, যা দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করে। রক্তশূন্যতায় ভুগছে এমন মানুষের জন্য বেশ সহায়ক ভূমিকা পালন করে মাল্টা।

দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে:

প্রতিদিন একটি মাল্টা দৃষ্টিশক্তিকে ভালো রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। কারণ এতে রয়েছে ভিটামিন “এ”। “এ” ভিটামিন দৃষ্টিশক্তির জন্য বেশ উপকারী। তাই দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে নিয়মিত খান মাল্টা বা মাল্টার জুস।

ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে:

মাল্টাতে বা মাল্টার জুসে অন্যান্য ভিটামিন উপস্থিত থাকলেও এটি মূলত ভিটামিন “সি” সমৃদ্ধ একটি ফল। যা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমূহের সমৃদ্ধ উৎস। এটি ত্বকে সজীবতা বজায় রাখে এবং ত্বকের বলি রেখা প্রতিরোধ করে লাবণ্য ধরে রাখতে সহায়তা করে।

পাকস্থলীর ক্রিয়া সচল রাখতে:

পাকস্থলীকে সুস্থ রাখে মাল্টা। তাই নিয়মিত মাল্টা খাওয়ার অভ্যাস পাকস্থলীর আলসার ও কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে সুরক্ষা দেয়। এতে উপস্থিত পটাশিয়াম ইকেট্রোলাইট ব্যালেন্স বজায় রাখে এবং কার্ডিও-ভাস্কুলার সিস্টেম ভালো রাখতে সহায়তা করে।

ওজন হ্রাস:

মাল্টাতে বা মাল্টা জুসে ক্যালরি কম এবং এতে ফ্যাটও একেবারে শূন্য। যদি আপনি অতিরিক্ত ২ বা ১ কেজি ওজন কমাতে চান তবে এটি একটি দুর্দান্ত বিকল্প হিসাবে কাজ করে। পুরো সজ্জা সহ মাল্টা খেলে এর তন্তুগুলি দীর্ঘ সময়ের জন্য পেট ভরিয়ে রাখতে সহায়তা করে। যখন আপনি পূর্ণ বোধ করবেন তখন আপনি স্বাভাবিকভাবেই কম খাবেন।

হজম শক্তি বাড়ায়:

অনেকেই হজমের সমস্যায় ভুগে থাকেন। যা খান তা ঠিক মতো হজম হয় না। এই হজম ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলতে মালটা খুবই উপকারি। এতে প্রচুর পরিমাণে ফ্লামনয়েট রয়েছে, যা হজমে সাহায্যকারী এসিড বেশি মাত্রায় বাইরে বের করতে সাহায্য করে। চিকিৎসকরাও হজম ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য মালটা খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

কোষ্ঠকাঠিণ্য থেকে মুক্তি দেয়:

মালটা কোষ্ঠকাঠিণ্য থেকেও মুক্তি দিয়ে থাকে। এতে থাকা ভিটামিন “সি” শরীরের রক্ত চলাচলকে স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। ঋতু পরিবর্তনের সময় অনেকেরই জ্বর হয়ে থাকে। আর জ্বর হলে একটা বমি বমি ভাব হয়। এবমি ভাব বা জ্বর কমানোর জন্য মালটা খুবই উপকারি।

ক্যান্সার প্রতিরোধ করে:

মাল্টাতে ক্যালরি কম থাকে। এছাড়া এতে পেকটিন নামের এক ধরনের ফাইবার থাকায় এটি কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। মালটা শরীরের ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। ফুসফুস ও মুখের ক্যান্সার প্রতিরোধের জন্যও মালটা বেশ উপকারী। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় মালটা রোগ প্রতিরোধে দারুন ভূমিকা রাখে।

শরীর ঠান্ডা রাখে:

গরমে অনেকেরই পানিশূন্যতা দেখা দেয়। তখন বেশির ভাগ সময় কোল্ড ড্রিকংস খেয়ে থাকি। এই কোল্ড ড্রিকংস না খেয়ে মালটা খেলে শরীরের প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও মিনারেলসের ঘাটতি পূরণ হবে। যা শরীরকে ডি-হাইড্রেডের হাত থেকেও রক্ষা করবে।

মহিলাদের প্রসাবজনিত নানা রকম সমস্যা থাকে। এ সমস্যাগুলো বেশির ভাগই হয়ে থাকে কিডনি বা ব্লাডারের দূর্বলতা থেকে। এদূর্বলতা থেকে রক্ষা করতে পারে মালটা।

ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণে:

মাল্টা ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। মাল্টা শরীরের ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। যাদের রক্তে চর্বির পরিমাণ বেশি তাদের রক্তের চর্বির পরিমাণ কমাতে সহায়তা করে মাল্টা।

সতর্কতাঃ

যা কিছু খাবেন পরিমাণমতো খাবেন। আপনার শরীরের অবস্থা বুঝে খাবেন। অতিরিক্ত কোনো কিছুই ভালো নোই। আপনি যদি কোনো জটিল রোগে আক্রান্ত হন বা নিয়মিত কোনো চিকিৎসকের তত্বাবধানে থেকে কোনো ওষুধ গ্রহণ করলে খাওয়ার আগে অবশ্যই আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাবেন।

এ সম্পর্কিত আরও পোস্ট পড়ুন: