বেল বদহজম, গ্যাস, আলসার, কোষ্টকাঠিন্যসহ বহু রোগের মহৌষধ। বেল এর উপকারীতা।

লিভার বা যকৃৎ আমাদের শরীরের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের মধ্যে একটি। লিভার সর্বদা কাজ করে যাচ্ছে খাদ্য বিপাকক্রিয়ায়। পেটব্যথা, বদহজম, গ্যাস, আলসার থেকে শুরু করে জন্ডিস সারাতে বেল অব্যার্থ ঔষুধের মতো কাজ করে। এইজন্য অনেকে বেলকে পাকস্থলীর বন্ধু বলে থাকে। পাকস্থলীর বেস্ট ফ্রেন্ড এই বেল ভারতীয় উপমহাদেশে–Spiritual, Religious এন্ড Medicinal প্লান্ট হিসাবে আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। তারা এই গাছটিকে খুব পবিত্র গাছ মনে করে। বাইরের কাঠের মতো শক্ত আবরণের জন্য Western Country – লোকেরা এই ফলটিকে Wood apple নাম দিয়েছেন। এর বৈজ্ঞানিক নাম: Aegle marmelos Correa.

বেল একটি খুবই পুষ্টিকর এবং উপকারি ফল। কাঁচা বেল অথবা পাকা বেল, দুই ধরণের বেলই আমাদের শরীরের জন্য সমান উপকারী। বেলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন “সি”, এ এবং ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও পটাসিয়ামের মত মূল্যবান পুষ্টি উপাদান। নিচে বেল এর পুষ্টিগুণ উল্লেখ করা হলো।

বেল এর পুষ্টিগুণ

প্রতি ১০০ গ্রাম বেলে যে পুষ্টিগুণ আছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু পুষ্টিগুণ নিচে দেওয়া হলো:

  • খাদ্যশক্তি: ৮৭ কিলোক্যালরি
  • জলীয় অংশ: ৭৭.৫ গ্রাম
  • শর্করা: ১৮. ৮ গ্রাম
  • আমিষ: ২.৬ গ্রাম
  • চর্বি: ০.২ গ্রাম
  • ক্যালসিয়াম: ৩৮ মিলিগ্রাম
  • আইরণ: ০.৬ মিলিগ্রাম
  • ভিটামিন বি-১: ০.০৩ মিলিগ্রাম
  • ভিটামিন বি-২ : ০.০২ মিলিগ্রাম
  • ভিটামিন “সি” : ৯ মিলিগ্রাম

বেল খাওয়ার স্বাস্থ্য উপকারীতা:

বেল সাধারণত কোষ্ঠকাঠিন্য, বদহজম, পেপটিক আলসার, পাইলস এবং ডায়রিয়া ইত্যাদি সারাতে অব্যার্থ ঔষুধের মতো কাজ করার পাশাপাশি আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। শারীরিক বিভিন্ন প্রদাহ হ্রাস করে এবং এটি যৌন অনীহা রোধেও সহায়তা করে। নিচে বেল এর স্বাস্থ্য উপকারীতা আলোচনা করা হলো:

হজম শক্তি বৃদ্ধি:

বেল হজম শক্তি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। বেলে রয়েছে আঠার মতো পদার্থ যাকে বলে ‘ফেরোনিয়া গাম’। এটি সাধারণত হজম শক্তি বৃদ্ধি করে ডায়রিয়া এবং আমাশয় থেকে মুক্তি দিতে ব্যবহৃত হয়।

ক্লান্তি দূর করে:

গরমের সময় পরিশ্রমের পর বেল বা বেলের শরবত খেলে শরীরের ক্লান্তি ভাব দূর হয়। বেল শরীরের ক্লান্তিভাব দূর করে শরীরকে চাঙ্গা করে তোলে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি:

বেলে রয়েছে ভিটামিন ‘সি’ যা দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, স্কার্ভি ও অনান্য ভাইরাল রোগের হাত থেকে রক্ষা করে। জল বসন্ত ও গ্রীষ্মকালীন ছোঁয়াচে রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।

মলদ্বারের রোগ নিরাময়ে

যারা মলদ্বারের রোগে (হেমোরয়েড) আক্ৰান্ত যেমন পাইলস, অ্যানাল ফিস্টুলা ইত্যাদি তাদের জন্য বেল খুবই উপকারী ফল। মলদ্বারের রোগে আক্ৰান্ত ব্যাক্তি নিয়মিত বেল খেলে এই রোগের উপশম হয়।

ত্বক ভালো রাখে:

বেলে রয়েছে প্রচুর পরিমান আঁশ। নিয়মিত বেল খেলে আমাদের ত্বক মসৃণ ও উজ্জ্বল হয় এবং ত্বকের ব্রন ভাল করে বেল। তবে, ভাল ত্বকের জন্য বেল খাওয়ার পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণ পানি, পুষ্টিকর খাবার ও ত্বকের বিশেষ পরিচর্যা প্রয়োজন।

কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যায়:

যারা দীর্ঘদিন ধরে কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যায় ভুগছেন তাদের জন্য বেল মহৌষধ। কারণ বেল আমাদের পাচন প্রক্রিয়াকে স্বাবাভিক করে কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যার সমাধান করে।

দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে:

যারা নিয়মিত বেল খায়, তাদের চোখের বিভিন্ন অসুখ যেমন- গ্লুকোমা, জেরোসিস, জেরোপথ্যালমিয়া হওয়ার প্রবনতা থাকে তুলুনামূলকভাবে অনেক কম। কারণ বেলের ভিটামিন “এ” চোখের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলোর পুষ্টি যোগায়।

ক্যান্সার প্রতিরোধে:

নিয়মিত বেল খেলে নারীদের স্তন ক্যান্সার ও ইউটেরাস ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকাংশে কমে আসে। এছাড়া কোলন ক্যান্সারের প্রতিরোধেও সাহায্য করে।

শক্তি বৃদ্ধি করে:

বেল আমাদের শারীরিক সক্ষমতা বাড়ায় এবং শরীরের শক্তিবর্ধক হিসাবে কাজ করে।

সতর্কতা:

আপনি যদি জটিল কোনো রোগে আক্রান্ত হন বা অন্য কোনো কারণে রেগুলার কোনো মেডিকেল কোর্স-এর মধ্য দিয়ে যান তাহলে অবশ্যই খাওয়ার আগে আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ নিবেন।

সূত্র: organicfacts; Photo credit: Wikipedia

Share