ঢেঁড়শ গর্ভবতী মহিলাদের জন্য ভালো, হার্টের রোগের ঝুঁকি কমায় ও দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে।

আমাদের প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় যে শাক সবজি থাকে তার মধ্যে একটি হলো ঢেঁড়শ। দেখতে মরিচের মতো। পার্থ্যক শুধু মরিচটা ঝাল আর ঢেঁড়শ খেতে হালকা মিষ্টি মিষ্টি স্বাদযুক্ত।

ঢেঁড়শ ভর্তা বা পেঁয়াজ কুঁচি দিয়ে ঢেঁড়স ভাজি কিংবা মাছের ঝোলে ঢেঁড়শ। তবে মাছের ঝোলের ঢেঁড়শটা খেতে কিন্তু মজা বেশি। যেমন মজার তেমন রসালো মুখে দেওয়ার সাথে সাথে কোথায় যেন হারিয়ে যায় বোঝাই যায় না।

অত্যন্ত পরিচিত ও সহজলভ্য গ্রীষ্মকালীন এই সবজিটি ইংরেজিতে ladies finger বা ladys finger. কোনো কোনো জায়গায় এটা okra নামে পরিচিতি।

ঢেঁড়শে ফাইবার (৯%), ফোলেট, পাইরিডক্সিন, থায়ামাইন, ভিটামিন “সি”, ভিটামিন “এ” এবং ভিটামিন “কে”, কপার, ক্যালসিয়াম, এবং পটাসিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাগানিজ, জিংক এবং ফসফরাস ইত্যাদি রয়েছে।

কম ক্যালরি হওয়ায় এটি কোলেস্টেরল মাত্রা কমিয়ে ওজন হ্রাস করে থাকে। ঢেঁড়শ অধিক ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ সবজি। এসব পুষ্টি উপাদানের কারণে ঢেঁড়শ আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারপরও দেখা যায় যে অনেকেই ঢেঁড়শ পছন্দ করে না। বিশেষ করে বাচ্চারা।

ঢেঁড়শের পুষ্টি উপাদান

ঢেঁড়শে গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান রয়েছে। নিচে ঢেঁড়শের পুষ্টি উপাদান দেওয়া হলো –

  • ক্যালোরি: ৩৩
  • কার্বস: ৭ গ্রাম
  • ফাইবার: ৩ গ্রাম
  • ম্যাগনেসিয়াম: ১৪% (DV)
  • ফোলেট: ১৫% (DV)
  • ভিটামিন “এ”: ১৪% (DV)
  • ভিটামিন “সি”: ২৬% (DV)
  • ভিটামিন “কে”: ২৬% (DV)
  • ভিটামিন বি-6: ১৪% (DV)

ঢেঁড়শের উপকারিতা:

এই সবুজ সবজিটি পটাসিয়াম, ফলিক অ্যাসিড, ভিটামিন “বি”, ভিটামিন “সি”, ক্যালসিয়াম এবং ফাইবার (আঁশ) এর সবচেয়ে ভালো উৎস। এসব পুষ্টি বিভিন্ন ভাবে উপকারী নিচে সেগুলো সম্পর্কে আলোচনা করা হলো:

গর্ভবতী মহিলাদের জন্য উপকারী:

গর্ভবতী মায়েদের ঢেঁড়শ খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে। ঢেঁড়শের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান ভিটামিন-B গর্ভের শিশুর সুস্থ্য বৃদ্ধি নিশ্চিত করে এবং শিশুর জন্মগত সমস্যা, যেমন- স্পাইনাল বিফিডা (spinal bifida) হওয়ার আশঙ্কা কমায়।

এছাড়া ফলিক অ্যাসিডে সমৃদ্ধ এই সবজি নতুন কোষ উৎপাদন ও তার সুস্থ্যতা বজায় রাখতে সাহায্য করে, যা কিনা সুস্থ্য গর্ভধারণের জন্য অপরিহার্য। ঢেঁড়শের ফলেট গর্ভপাত প্রতিরোধ করে এবং ভিটামিন সি ভ্রুণের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গর্ভাবস্থায় খাদ্য তালিকায় ঢেঁড়শ অন্তর্ভুক্ত করুন।

স্তন ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা কমে:

প্রতি ৮ জনের মধ্যে ১ জন নারীর তাদের জীবনকালের মধ্যে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। খাদ্য তালিকায় ঢেঁড়শ অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে এই হার অনেকটাই হ্রাস করা সম্ভব। এক গবেষণায় জানা যায়, ঢেঁড়শে উপস্থিত ল্যাকটিন স্তন ক্যান্সারের কোষ বিনষ্ট করতে সক্ষম।

হাড়ের জন্য ভালো:

ঢেঁড়শ আমাদের শরীরের ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি পূরণ করে। সুস্থ্য হাড় গঠনের পাশাপাশি পেশী ও স্নায়ু সঞ্চালনেও ক্যালসিয়াম ভূমিকা রাখে।

হার্টের জন্য ভালো:

ঢেঁড়শের দ্রবণীয় ফাইবার রক্তের খারাপ কোলেস্টেরলকে স্বাভাবিকভাবে কমিয়ে আনে এবং আমাদের শরীরে হার্টের রোগের সম্ভাবনা হ্রাস করে। এছাড়া ঢেঁড়শের অন্যতম পুষ্টি উপাদান পেক্টিন (Pectin) রক্তে উচ্চ কোলেস্টেরল কমিয়ে হার্টের সুস্থ্যতা নিশ্চিত করে।

চোখের জন্য ভালো:

চোখ ভালো রাখতে ঢেঁড়শের জুড়ি নেই। ঢেঁড়স ভিটামিন “এ” এবং বিটা-কেরাটিনে ভরপুর, যা চোখের চমৎকার দৃষ্টিশক্তি বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখার পাশাপাশি এটি আমাদের চোখের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

পেটের সমস্যা দূর করে:

ঢেঁড়শ আমাদের হজম স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। এর উচ্চ ফাইবার খাদ্য হজমে সাহায্য করে। ঢেঁড়স পেটের অতিরিক্ত গ্যাস, হজমজনিত কারণে পেটে ব্যথা, কোষ্ঠকাঠিন্য ইত্যাদি সমস্যা প্রতিরোধ করে।

রোগ প্রতি রোধ ক্ষমতা বাড়ায়:

ঢেঁড়শের বিভিন্ন অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান এবং উচ্চ ভিটামিন “সি” উপাদান শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে। ভিটামিন “সি” রক্তে হোয়াইট ব্লাড সেল তৈরি করার মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত করে বাইরের রোগ জীবাণু শরীরে প্রবেশ করতে বাধা সৃষ্টি করে শরীরকে সুস্থ রাখে।

ডায়বেটিস রোগীদের জন্য ভালো:

ঢেঁড়শের ফাইবার এটাই সবচেয়ে বড় পয়েন্ট। আটটি মাঝারি আকারের ঢেঁড়শে ৩ গ্রামের বেশি ফাইবার থাকে – যা অনেক। ডায়াবেটিস রোগীদের ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। কারণ ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে এমনকি ইনসুলিন সংবেদনশীলতা উন্নত করতে পারে। গবেষণায় পাওয়া যায়, ঢেঁড়স শরীরের অতিরিক্ত গ্লুকোজের শোষণ হ্রাস করতে সাহায্য করে, যার ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যায়।

স্কিন ও চুল এর জন্য ভালো:

চুলের সৌন্দর্য ধরে রাখতে ঢেঁড়শ টুকরো টুকরো করে কেটে পানিসহ সিদ্ধ করে সেই পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। আপনার চুলের হারানো উজ্জ্বলতা ফিরে পাওয়ার সাথে সাথে চুল আরও বাউন্সি এবং স্বাস্থ্যবান হবে এতে। শুধু তা-ই নয়, ঢেঁড়শ-পানির এই মিশ্রণ খুশকি সমস্যার সমাধান করতেও ওস্তাদ। এটি মাথার ত্বককে প্রাকৃতিকভাবে মশ্চারাইজ করে চুল খুশকি মুক্ত রাখে। পাশাপাশি স্কিন এর জন্যও ভালো।

সতর্কতা:

আপনি যদি জটিল কোনো রোগে আক্রান্ত হন বা অন্য কোনো কারণে রেগুলার কোনো মেডিকেল কোর্স-এর মধ্য দিয়ে যান তাহলে অবশ্যই খাওয়ার আগে আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ নিবেন।


Reference:
7 Nutrition and Health Benefits of Okra

Share