লাল পেয়ারা দেখলেই খেতে ইচ্ছে করে। জেনে নিন লাল পেয়ারার গুনাগুন, না খেলেই লস।

স্বাদ, পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্যসুরক্ষা।  স্বাদে অতুলনীয়, পুষ্টিগুণেও সেরা তাই স্বাস্থ্যসুরক্ষায় পেয়ারাকে আপনার ডায়েটে রাখতেই হবে। স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পেয়ারা রাখলে অনেক লাভ।

পেয়ারার বা লাল পেয়ারার বিশেষ কয়েকটি গুণের মধ্যে রয়েছে, এটি ডায়াবেটিসের জন্য উপকারী, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়,  গর্ভবতী মায়েদের জন্য উপকারী, ক্যানসার প্রতিরোধী ও কোষ্টকাঠিন্য দূর করে।

লাল পেয়ারাকে (Marroonguava) রেড আপেলও বলা হয়। পেয়ারার বৈজ্ঞানিক নাম Psidiun guajava । পেয়ারার প্রায় ১০০টিরও বেশি প্রজাতি আছে। পেয়ারার ভেতরের মাংসল অংশ সাদা, গোলাপি, লাল, হলুদ বিভিন্ন রঙের হয়ে থাকে।

লাল পেয়ারা বা পেয়ারা Myrteae পরিবারের সদস্য। মেক্সিকো, মধ্য আমেরিকা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া প্রভৃতি স্থানে পেয়ারা বেশি জন্মে। অনুমান করা হয় ১৭শ শতাব্দীতে পেয়ারা আসে। এটি সবুজ রঙের বেরী জাতীয় ফল।

লাল পেয়ারাতে ক্যালরি খুব কম থাকে। ফাইবার বেশি থাকে, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ভিটামিন ও মিনারেলে পরিপূর্ণ। তাই এই ফলটিকে গ্রীষ্মমন্ডলীয় এলাকায় আপামর জনগণের আপেল হিসাবে বিবেচনা করা হয় অর্থাৎ গরীবের আপেল বলা হয়।

একটি পেয়ারাতে একটি কমলালেবুর তুলনায় দুই থেকে পাঁচগুন বেশি ভিটামিন সি বিদ্যমান। বিজ্ঞানীদের করা গবেষণায় দেখা গেছে যে, সারাবছর জুড়েই শরীর সুস্থ রাখতে পেয়ারার কোনো তুলনা হয় না।

redguava

লাল পেয়ারার বা রেড আপেলের উপকারীতা বা স্বাস্থ্যসুবিধা:

এটি ভিটামিন সি, ক্যারোটিনয়েডস, ফোলেট, পটাশিয়াম, আঁশ এবং ক্যালসিয়াম প্রভৃতিতে সমৃদ্ধ। একশ’ গ্রাম পেয়ারায় দুইশ’ মি.গ্রা. ভিটামনি সি আছে অর্থাৎ পেয়ারায় কমলার চেয়ে ৪গুণ বেশি ভিটামিন সি আছে।

ডায়াবেটিস রোধে:

নিয়মিত পেয়ারা খেলে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে। কারণ পেয়ারায় যে আঁশ আছে, তা শরীরে চিনি শোষণ কমাতে পারে। পেয়ারায় রয়েছে প্রচুর পরিমানে ফাইবার, যা রক্তে শর্করার মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। ডায়াবেটিস রোগীরা কোনো চিন্তা ছাড়াই পেয়ারা খেয়ে যেতে পারেন। গ্লাইকেমিক ইনডেক্সে পেয়ারার অবস্থান একেবারে নিচের দিকে।

রোগ প্রতিরোধে:

ফলের রানী পেয়ারা স্বাদে গন্ধে যেমন সকলের মন কেড়ে নেয় তেমনি পুষ্টিগুণেও কোনো তুলনা হয় না। পেয়ারাতে পাওয়া যায় প্রচুর পরিমানে ভিটামিন সি, ভিটামিন এ ও ভিটামিন বি৬। এই এন্টিঅক্সিডেন্টগুলি শরীরের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি করে শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। তাছাড়া যে কোন ইনফেকশন থেকে পেয়ারা শরীরকে সুস্থ রাখে।

পেয়ারায় যে পরিমাণ ভিটামিন ‘সি’ থাকে তা শরীরে গেলে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করে শরীরের রোগ প্রতিরোধ করতে পারে।

দৃষ্টিশক্তির জন্য:

পেয়ারায় থাকা ভিটামিন ‘এ’ চোখের দৃষ্টিশক্তি বাড়ায়। রাতকানা রোগ থেকে বাঁচায়। প্রচুর মাত্রায় ভিটামিন “এ” থাকার কারণে দৃষ্টিশক্তির উন্নত করে। সেই সঙ্গে ছানি পড়া, গ্লুকোমা ও অন্যান্য রোগ দূরে রাখে।

ওজন হ্রাস করতে সহায়তা করে :

পেয়ারা হলো একটি লো-ক্যালরি স্ন্যাক। একটি ফলের মধ্যে কেবলমাত্র ৩৭ ক্যালোরি এবং আপনার জন্য প্রস্তাবিত দৈনিক ফাইবার খাওয়ার ১২% ।অন্যান্য লো-ক্যালোরি স্ন্যাকগুলির বিপরীতে, এগুলিতে ভিটামিন এবং খনিজগুলি রয়েছে – তাই আপনি গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টিগুলি হারাচ্ছেন না। ফাইবারে পূর্ণ এবং ক্যালরি কম থাকে, এর অর্থ পেয়ারা আপনাকে পূর্ণ বোধ করতে অর্থাৎ পেট ভরিয়ে রাখতে এবং ওজন হ্রাসে সহায়তা করতে পারে।

ডায়রিয়া রোধে:

লাল পেয়ারা বা পেয়ারা ডায়রিয়ার বিরুদ্ধে লড়তে পারে। তাই নিয়মিত পেয়ারা খেলে ডায়রিয়া হওয়ার আশঙ্কা কমে যাবে অনেকটা। পেয়ারার আছে ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা।

ক্যানসার প্রতিরোধী:

ক্যানসার প্রতিরোধেও লাল পেয়ারা কাজ করে। এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, লাইকোপেন, ক্যানসার কোষের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে পারে। নির্দিষ্ট করে বললে, প্রোস্টেট ক্যানসার আর স্তন ক্যানসারের জন্য পেয়ারা উপকারী।

গর্ভবতী মায়ের ফলিক অ্যাসিড-এর উৎস:

লাল পেয়ারা বা পেয়ারাতে আছে ফলিক এসিড। আর ফলিক এসিড একজন গর্ভবতী মায়ের জন্য খুবই প্রয়োজন।সব গর্ভবতীদেরই ডাক্তাররা ফলিক এসিড দিয়ে থাকেন কারণ এটি বাচচার নার্ভাস সিস্টেমকে উন্নত করে। আর সেই সাথে এটি বাচচাদের নিউরোলোজিক ডিজঅর্ডার থেকে দুরে রাখে।

গর্ভবতী মায়ের ক্যান্সার বিশেষ করে স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ করে:

লাইকোপেন (Lycopene), কোয়ারকেটিন( Quercetin), ভিটামিন সি এবং আরো কিছু পলিফেনল আছে যা কিনা শক্তিশালী এন্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে আর এই এন্টি-অক্সিডেন্ট ক্যান্সার হওয়ার ঝুকি কমায়। বিশেষ করে প্রোস্টেট ক্যান্সার কমাতে অনেক সাহায্য করে পেয়ারা। আর সেই সাথে পেয়ারা খেলে মেয়েদের ব্রেস্ট ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে।

পেয়ারার ন্যায় পেয়ারার পাতারও অনেক স্বাস্থ্যসুবিধা রয়েছে। পেয়ারা পাতা বেটে রস করে খেলে অর্থাৎ পেয়ারা পাতার নির্যাস মেয়েদের ঋতুস্রাবের সময়ের বিভিন্ন সমস্যা, ডায়াবেটিস, হার্ট-সহ অনেক সমস্যার উপশম করে থাকে।

সতর্কতা:

যা খাবেন পরিমাণমতো খাবেন। অতিরিক্ত কোনো কিছুই ভালো নয়। আপনার শরীরের অবস্থা বুঝে খাবেন। আপনি যদি কোনো জটিল রোগে আক্রান্ত হন বা নিয়মিত কোনো মেডিকেল কোর্স-এর ভেতর দিয়ে যান তাহলে অবশ্যই আপনার ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী খাবেন।

 

 

Share