গোলাপ জল ত্বকের শুষ্কতা দূর করে ত্বক উজ্জ্বল করে ও ব্রণ থেকে মুক্তি দেয়।

গোলাপ আয়ুর্বেদিক সৌন্দর্য যত্নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং হাজার হাজার বছর থেকে, মহিলারা গোলাপ জল আকারে এটি তাদের প্রতিদিনের সৌন্দর্য চর্চায় ব্যবহার করে। গোলাপজলের একটি বৃহত্তম সুবিধা হল এর শক্তিশালী অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি বৈশিষ্ট্য। এই বৈশিষ্ট্য ত্বকের অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক উভয় ক্ষেত্রে একাধিক রোগের চিকিৎসা করতে সহায়তা করতে পারে।

আপনি কি নিজের ত্বক নিয়ে খুশি নন? মুখের সৌন্দর্য দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। তাহলে প্রাকৃতিক উপাদান গ্রহণের সময় এসে গেছে। এই রকম অবস্থায় আপনার ত্বকের জন্য গোলাপ জলের থেকে ভালো আর কিছু হতেই পারে না। সৌন্দর্য ধরে রাখার জন্য যুগ-যুগ ধরে গোলাপ জলের ব্যবহার চলে আসছে। গোলাপজল আপনার তৈলাক্ত, শুকনো বা অসমান ত্বকে অন্য এক মাত্রা যোগ করে।

গোলাপজলের ব্যবহার ছিল মোগল আমলেও। তখন সুগন্ধি হিসেবে, আবার খাবারেও বাড়তি স্বাদ আনতে ব্যবহার করা হতো এটি। ইরানে প্রথম বড় বড় গোলাপের পাপড়ি পানিতে বাষ্পীভূত করে বিশুদ্ধ করে নেওয়া হয়। এরপর নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেই বাষ্পকে পানিতে রূপান্তর করে বোতলজাত করা হয়।

ত্বকের যত্নে গোলাপ জলের ব্যবহার

নিচে ত্বকের যত্নে গোলাপ জলের ব্যবহারের দিকগুলি তুলে ধরা হলো –

ত্বক উজ্জ্বল করে:

ত্বকের রং উজ্জ্বল করতে গোলাপজল ব্যবহার করা যেতে পারে। আপনার যদি কিছুটা অসম ত্বক থাকে তবে এটি আপনার জন্য দুর্দান্ত কাজ করবে। গোলাপজল আপনার ত্বকের পিএইচ ভারসাম্য পুনরুদ্ধার করে।

মেকআপ সেটিং স্প্রে:

মেকআপ করার পর সেটিং স্প্রে আমরা ব্যবহার করে থাকি। এক্ষেত্রে গোলাপ জলও করতে পারে সেটিং স্প্রের কাজ। একটি খালি স্প্রের বোতলে গোলাপ জল ভরে মেকআপ করার পর ব্যবহার করুন। শুধুমাত্র মেকআপ নয়, ঘুম থেকে উঠে সকালে মুখে গোলাপ জল স্প্রে করে নিলে ত্বককে দেখাবে উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত।

মেকআপ রিমুভার হিসাবে:

গোলাপজল প্রাকৃতিক মেকআপ রিমুভার হিসাবে কার্যকরী। দু’ চাচামচ গোলাপজলের সঙ্গে এক চাচামচ নারকেল তেল বা আমন্ড অয়েল মিশিয়ে সারা মুখে লাগিয়ে তুলোয় করে মুছে নিন। খুব চড়া মেকআপও সহজেই উঠে যাবে। এবং ত্বক হবে আর্দ্র ও নরম।

ত্বকের শুষ্কতা দূর করতে:

আপনার ত্বক কি খুব রুক্ষ আর শুকনো? তা হলে ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করার আগে গোলাপজল ব্যবহার করুন। স্প্রে বোতলে গোলাপজল ভরে রাখুন। স্নানের পরে ও আগে সারা শরীরে স্প্রে করে নিন, তারপর সঙ্গে সঙ্গে ময়শ্চারাইজার মেখে ফেলুন। গোলাপজল ময়শ্চারাইজারের আর্দ্রতা ত্বকের গভীরে ঢুকতে সাহায্য করবে।

ব্রণ থেকে মুক্তি:

এক টেবিল চামচ লেবুর রসের সঙ্গে এক টেবিল চামচ গোলাপজল মিশিয়ে তা মুখে লাগিয়ে রাখুন। তারপর ৩০ মিনিট অপেক্ষা করুন এবং ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত ব্যবহারে আপনার ত্বক ব্রণ মুক্ত হবে।

ত্বক পরিষ্কার করতে: 

                                                                                           
সেক্ষেত্রে কিছু পরিমাণে মেথি সারা রাত ভিজিয়ে রেখে পরের দিন সকালে পেস্ট করে নিন। মেথির পেস্টের সাথে গোলাপ জল মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। ত্বকে এই প্যাকটি লাগিয়ে নিন। ২০ মিনিট পর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।গোলাপ জলে অ্যান্টি ইনফ্লামেনটরী উপাদান রয়েছে যা ত্বক পরিষ্কার করতে সাহায্য করে।

PH লেবেলের ভারসাম্য বজায় রাখতে:

গোলাপজল একটি প্রাকৃতিক astringent যা ত্বকের পিএইচ ভারসাম্য পুনরুদ্ধার করে। তৈলাক্ত বা ব্রণজনিত ত্বকের জন্য নিখুঁত টোনার হিসাবে কাজ করে। দিনের যে কোনও সময় ত্বককে সতেজ করতে ব্যবহার করা যেতে পারে।

ত্বকের লালচেভাব কমায়:

গোলাপজলের অ্যান্টিব্যাকটিরিয়াল বৈশিষ্ট্যগুলি ব্রণ হ্রাস করতে সাহায্য করতে পারে। অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্যগুলি ত্বকের লালচেভাব কমাতে পারে। কালো দাগ হালকা করার জন্য গোলাপজলকে দুর্দান্ত বলে মনে করা হয়।

টোনার হিসেবে: 

                                                                                             
মুখ পরিষ্কারের অন্যতম ধাপ টোনিং। টোনিংয়ে গোলাপজলের জুড়ি নেই। গোলাপজলের অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল গুণ ত্বক স্নিগ্ধ করে, ত্বকের জ্বালাভাব, র‍্যাশ কমায়। তুলোয় করে নিয়ে মুখে বুলিয়ে নিন, ত্বক ঠান্ডা হয়ে যাবে নিমেষে।

ঠোঁটের যত্নে:

অনেকের ঠোঁট ফাটার সমস্যা থাকে। একটুতেই শুষ্ক হয়ে যায়। গোলাপজলে তুলা বা নরম কাপড় ভিজিয়ে আলতো করে ঠোঁটে চেপে নিন। মরা ত্বক দূর হয়ে যাবে। নিয়মিত গোলাপজল ব্যবহারে গোলাপি আভা তৈরি হয়।

রেফারেন্স:

Share