পেটের ফোলাভাব দূর করে যেসব খাবারগুলি।

পেট ফোলাভাব একটি সাধারণ সমস্যা, যা কোষ্ঠকাঠিন্য বা অতিরিক্ত গ্যাস্ট্রিকের মতো সমস্যার কারণে ঘটে। এছাড়াও, খাবারের কারণেও হজমের সমস্যা হতে পারে।

এমন কিছু খাবার আছে যেগুলি আমাদের পেটের পেটের ফোলাভাব দূর করতে সাহায্য করে।

নিচে এমন কয়েকটি খাবার দেওয়া হলো –

অ্যাভোকাডো:

অ্যাভোকাডো অত্যন্ত পুষ্টিকর একটি ফল। এতে ফোলেট এবং ভিটামিন “সি” এবং ভিটামিন “কে” রয়েছে। এছাড়া অ্যাভোকাডো পটাশিয়ামে সমৃদ্ধ।

পটাশিয়াম একটি অপরিহার্য খনিজ যা তরলের ভারসাম্য এবং সোডিয়ামের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল অ্যাভোকাডোতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার রয়েছে, যা আপনার পাচনতন্ত্রের মাধ্যমে ধীরে ধীরে চলাচল করে, পেটের ফোলাভাব দূর করে কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে সহায়তা করে।

শসা:

শসায় প্রায় ৯৫% পানি থাকে, যা পেটের ফোলাভাব দূর করতে দুর্দান্ত। উচ্চ জলীয় খাবার আমাদের হাইড্রেটেড রাখতে এবং দৈনন্দিন তরলের চাহিদা মেটাতে সাহায্য করে।

দই:

দই প্রোবায়োটিক দ্বারা পরিপূর্ণ। প্রোবায়োটিক একটি উপকারী ব্যাকটেরিয়া যা অন্ত্রের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

কিছু গবেষণার মতে, প্রোবায়োটিক মলের গতিবিধি ঠিক রাখতে সহায়তা করে। এছাড়া প্রোবায়োটিক পেটের জ্বালাপোড়া এবং পেটের ব্যাঘাত কমাতে সাহায্য করে।

গ্রিন টি:

গ্রিন টি আমাদের হাইড্রেটেড থাকতে সাহায্য করে। এছাড়া গ্রিন টি এপিগালোক্যাটেকিন গ্যালেট (EGCG) এর মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে পরিপূর্ণ, যা শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।

এই চাতে ক্যাফিনও থাকে, একটি যৌগ যা পাচনতন্ত্রের চলাচলকে উদ্দীপিত করার জন্য প্রাকৃতিক রেচক হিসাবে কাজ করে পেট ফুলে যাওয়া কমাতে পারে।

ধনেপাতা:

ধনেপাতা খুবই পুষ্টিকর এর প্রায় ৯৫% পানি। উচ্চ পরিমানে পানি ছাড়াও, ধনেপাতাতে রয়েছে ম্যানিটল।

ম্যানিটল এক ধরনের চিনি অ্যালকোহল যা পাচনতন্ত্রের মধ্যে পানি টেনে নিয়মিততা বাড়ানোর জন্য মলকে নরম করে।

আদা:

আদার হজম সমস্যা দূর করার ক্ষমতা রয়েছে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে, আদা পেট ফাঁপার অনুভূতি রোধ করতে পারে।

জিংগাইবাইন (zingibain) নামে একটি এনজাইম রয়েছে আদাতে, যা হজম স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং প্রোটিনকে ভাঙ্গতে সহায়তা করে।

২৪ জন স্বাস্থ্যকর ব্যক্তিদের একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, খাবারের আগে ১.২ গ্রাম আদা ৫০% পেটের সমস্যা দূর করতে পারে।

কলা:

পেটের বন্ধু কলা। কলা অত্যন্ত পুষ্টিকর এবং ফাইবারের একটি দুর্দান্ত উৎস, ১ টি মাঝারি কলাতে ৩ গ্রাম ফাইবার থাকে।

এছাড়া কলা পটাশিয়াম সমৃদ্ধ, যা শরীরে তরলের ভারসাম্য ধরে রাখতে সহায়তা করে।

পেঁপে:

পেঁপেতে পেপাইন নামক এনজাইম রয়েছে, যা আমাদের শরীরকে অ্যামিনো অ্যাসিড ভাঙতে সাহায্য করে। এটি স্বাস্থ্যকর হজমকে উৎসাহিত করে এবং পেটের ফুলে যাওয়া কমাতে সাহায্য করে।

আনারস:

আনারসে প্রচুর ভিটামিন “সি”, ম্যাঙ্গানিজ এবং বি ভিটামিন থাকে। এটি আমাদের হজম শক্তি বৃদ্ধি করতে বেশ কার্যকরী। কারণ আনারসে “ব্রোমেলিন” নামক একটি হজম এনজাইম রয়েছে।

যা আমাদের হজমশক্তিকে উন্নত করতে সাহায্য করে। বদহজম বা হজমজনিত যে কোনো সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে।

কিছু গবেষণায় দেখা গেছে আনারস পেটের ফোলাভাব দূর করতে পারে।

হলুদ:

হলুদ এমন একটি মশলা যা ছাড়া বাঙালির রান্না অসম্পূর্ন। এতে কারকিউমিন নামে একটি যৌগ রয়েছে, যার প্রদাহ বিরোধী প্রভাব রয়েছে।

কিছু গবেষণার মতে, কারকিউমিন অন্ত্রের স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে পারে এবং গ্যাস, ফুসকুড়ি এবং কোষ্ঠকাঠিন্য সহ IBS লক্ষণগুলি হ্রাস করতে পারে।

আপেল:

আপেলে প্রচুর পানি রয়েছে। পটাসিয়ামেরও ভালো উৎস, যা হাইড্রেটেড থাকতে সাহায্য করে। সুস্বাদু ফল আপেলে পেকটিন নামক একটি ফাইবার থাকে যা অন্ত্রে স্বাস্থ্যকর ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বৃদ্ধি করে।

পুদিনা চা:

পুদিনা চা একটি ভেষজ চা যা হজমের চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত হয়। এই পাতাতে থাকা মেন্থল প্রদাহ কমাতে এবং IBS এর উপসর্গ যেমন পেট ব্যথা, কোষ্ঠকাঠিন্য এবং ফোলাভাব নিরাময়ে সাহায্য করে।

মৌরি:

মৌরি হজমজনিত সমস্যাগুলি দূর করতে সহায়তা করে। সুগন্ধে ভরা মৌরি হজম শক্তি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।

এক গ্লাস পানিতে সারা রাত মৌরি ভিজিয়ে রেখে সেই পানি খেলে পেট ফাঁপা ও গ্যাসের কারণে হওয়া পেট ব্যাথা কমে।

গবেষণায় দেখা গেছে যে মৌরি অ্যান্টিস্পাসমোডিক (antispasmodic) বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যার অর্থ এটি অন্ত্রের পেশীগুলিকে শিথিল করতে সাহায্য করে গ্যাস এবং ফোলাভাব থেকে মুক্তি দিতে দেয়।

রেফারেন্স: