মুখের ঘা কেন হয়? মুখের ঘা দূর করার প্রাকৃতিক উপায়।

মুখের ঘা (canker sores) এটার সাথে কম বেশি আমরা সবাই পরিচিত। মুখের ভেতরে ঠোটের নীচে ও দাঁতের মাড়িতে এটা হয়ে থাকে। এটা দেখতে মাঝ খানে সাদা আর চারপাশে লাল। আকারে ছোট হলেও বেশ যন্ত্রনা দায়ক এটা। মুখের ঘা ছোট বড় সবারই হতে পারে।

মুখে ঘা কেন হয়?

ঠিক কী কারণে মুখের ঘা হয়, তা এখনও সঠিকভাবে জানা সম্ভব হয়নি। তবে গবেষকরা অনুমান করেন যে মুখের ভিতরে কোনো কারণে আঘাত পেলে, বেশি জোরে দাঁত ব্রাশ করতে গিয়ে মুখে আঘাত পেলে, দুর্ঘটনাবশত মুখের ভেতরে দাঁতের কামড় বসলে, খাদ্যে বি-১২ ভিটামিন, জিঙ্ক, ফোলিক অ্যাসিড বা আয়রনের অভাব হলে, মুখের ভেতরে কিছু ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতির কারণে এবং পাকস্থলির ক্ষত (পেপটিক আলসার) সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া হেলিকোব্যাক্টর পিলোরি-এর কারণে মুখের ঘা হতে পারে।

মুখের ঘা হলে কি কি সমস্যা হতে পারে?

কিছু ক্ষেত্রে মুখের ঘা এর জন্য জ্বর হতে পারে, শরীরের ভিতর খারাপ লাগতে পারে, ব্রাশ করতে এবং খাবার খেতে গেলে প্রচন্ড ব্যথা করতে পারে।

এটি সাধারণত চিকিৎসা ছাড়াই ৭-১০ দিনের মধ্যে নিরাময় হয়ে যায়। তবে এটি যদি দীর্ঘ স্থায়ী হয় তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন।

কয়েকটি প্রাকৃতিক উপকরণ ব্যবহার করে আমরা মুখের দূর করতে পারি। নিচে এই প্রাকৃতিক উপাদানগুলো দেওয়া হলো –

লবণপানি:

মুখের ঘা দূর করার প্রাকৃতিক উপকরণের কথা বলতে গেলে প্রথমেই আসে লবণ পানি। এটি মুখের ঘা শুকাতে সাহায্য করে। ১ চা চামচ নুন ১/২ কাপ উষ্ণ গরম পানিতে মিশিয়ে নিন। তারপর লবণ পানি মুখে নিয়ে ১৫ থেকে ৩০ সেকেন্ড কুলকুচি করে ফেলে দিন। দিনে ২-৩ বার করতে পারেন।

মধু:

মধুর অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ক্ষমতার জন্য পরিচিত। মধু মুখের ঘা এর ব্যথা, আকার এবং লালভাব হ্রাস করতে কার্যকর। প্রতিদিন ৪ বার ঘায়ে মধু লাগান। চেষ্টা করবেন খাঁটি মধু ব্যবহার করতে।

নারিকেল তেল:

গবেষণায় দেখা গেছে যে, নারকেল তেলে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ক্ষমতা রয়েছে। এটি ব্যাকটেরিয়াজনিত ক্ষতিকারক ঘা নিরাময় করতে এবং ছড়িয়ে পড়তে বাধা দিতে পারে। নারকেল তেল ব্যথা কমাতে দুর্দান্ত উপাদান। মুখের ঘা না যাওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন কয়েকবার ব্যবহার করতে হবে।

তুলসি পাতা:

কয়েকটি তুলসি পাতা পানি দিয়ে ফুটিয়ে দিনে তিন থেকে চারবার পান করুন। এটি দ্রুত মুখের ঘা প্রতিরোধ করবে এবং মুখের ঘা হওয়ার প্রবণতা কমিয়ে দেবে।

বেকিং সোডা:

এক চা চামচ বেকিং সোডা ১-২ কাপ পানিতে মিশিয়ে নিন। তারপর বেকিং সোডা মেশানো পানি মুখে নিয়ে ১৫ থেকে ৩০ সেকেন্ড কুলকুচি করে ফেলে দিন।। এটি দিনে কয়েকবার করুন।

সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে স্বাস্থ্যকর খাবার যেমন, ফল, দুধ, শাক-সবজি, মাছ এবং চর্বি ছাড়া মাংস খাওয়া জরুরি। এসব খাবারে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন, আয়রন, জিঙ্ক থাকায় মুখের ঘা-এর সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

Share