ওরাল ক্যান্সারের লক্ষণ ও সতর্কতা।
ক্যান্সার…। ক্যান্সার ভয়াবহ মরণ রোগের নাম, যা শুনলেই আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। এখনও পর্যন্ত এই রোগে মৃত্যুর হার অনেক বেশি।
প্রাথমিক অবস্থায় ক্যান্সার রোগ সহজে ধরা পড়ে না। এখনও পর্যন্ত ক্যান্সারের চিকিৎসায় পুরোপুরি কার্যকর কোনও ওষুধ আবিষ্কৃত হয়নি।
প্রত্যেক ক্যান্সারই আলাদা আলাদা যেমনঃ স্কিন ক্যান্সার, ওরাল ক্যান্সার, জরায়ু ক্যান্সার, ব্লাড ক্যান্সার, ব্রেন ক্যান্সার, ব্রেস্ট ক্যান্সার ইত্যাদি এবং এদের চিকিৎসা পদ্ধতিও আলাদা আলাদা। আজ আমরা যেটা সম্পর্কে জানবো সেটা হল ওরাল ক্যান্সার।
ওরাল ক্যান্সার কী?
ওরাল ক্যান্সার মানে মুখের ক্যান্সার। মুখের ক্যান্সার ঠোঁট, জিব্বা, চোয়াল, দাঁত, মাড়ি, টনসিল ও আশপাশের স্থানে ক্যান্সার হওয়াকে বোঝায়। মুখের ক্যান্সার যদি প্রথম অবস্থায় নির্নয় করে চিকিৎসা করা যায় তাহলে ভালো হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
ওরাল ক্যান্সার কেন হয়?
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর ৪৯,০০০ জনের ওরাল ক্যান্সার ধরা পরে, প্রায়শই ৪০ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে এটি ঘটে। উপমহাদেশে মুখের ক্যান্সার হওয়ার অন্যতম কারণসমূহ হল –
তামাক:
তামাক ওরাল ক্যান্সারের জন্য সবথেকে বেশি দায়ী। তামাক গ্রহণকারী ব্যাক্তির ক্ষেত্রে ওরাল ক্যান্সারের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাই ৩.৪ – ৬.৮। যে কোনো ব্যাক্তির ক্ষেত্রে ওরাল ক্যান্সারের জন্য তামাক গ্রহণ প্রায় ৪০% দায়ী।
অতিরিক্তমাত্রায় অ্যালকোহল গ্রহণ:
অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক এ কথা আমরা সবাই জানি। যারা অ্যালকোহল পান করে থাকেন তাদের ওরাল ক্যান্সার হওয়ার সম্ভবনা বেশি।
অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল এবং জার্মানির কিছু গবেষণা ওরাল ক্যান্সারের কারণ হিসাবে মদ্যপান বা অ্যালকোহল গ্রহণকে বিবেচনা করা হয়।
প্রচুর পরিমাণে অ্যালকোহল এবং তামাক গ্রহণকারী লোকেরা বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, বিশেষত যখন দুটি পণ্যই নিয়মিত ভিত্তিতে ব্যবহৃত হয়।
ধূমপান করা:
হ্যাঁ ওরাল ক্যান্সারসহ নানা ধরণের রোগের কারণ হল ধূমপান করা।
সূর্য এক্সপোজার:
অতিরিক্ত সূর্যের এক্সপোজার যে কেবল ত্বকের ক্ষতি করে তাই নয়, বরং ওরাল ক্যান্সারের কারণ হতে পারে এটি।
বিশেষ করে অতিরিক্ত সূর্য এক্সপোজারে ঠোঁটের ক্ষতি হয়ে থাকে। আর এ কারণে ওরাল ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
এছাড়া জর্দা, গুল, সুপারি, ক্ষত, হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (HPV) সংক্রমণ, ওরাল ক্যান্সার বা অন্যান্য ধরণের ক্যান্সারের কারণ হতে পারে।
মুখের ক্যান্সারের লক্ষণগুলি কী কী?
- ঠোঁটে বা মুখে ভিতরে লাল অথবা সাদা ক্ষত হওয়া।
- মুখের মধ্যে আলসার হয় যার নিরাময় করা যায় না।
- কোন কারণ ছাড়া মুখ থেকে রক্ত পড়া।
- দাঁত নড়বড়ে হয়ে যাওয়া এবং দাঁতের গঠন খারাপ হয়ে যাওয়া।
- মুখের ভেতর ফুলে যায় কিংবা লাম্প হয়।
- চিবাতে কিংবা গিলতে ব্যাথা এবং কষ্ট হয়।
- কানে ব্যথা হওয়া যা কমে না।
- ত্বকে ক্ষত হওয়া
- মাড়ি বা মুখের ভেতরে অন্য কোথাও ক্ষত হওয়া।
- জিবে বা মুখের ভেতর ব্যথা হওয়া।
এগুলো সবই ওরাল ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে। তবে অন্য কোনো কারণে এসব হচ্ছে কিনা, সেটা নিশ্চিত হতে অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।
ওরাল ক্যান্সার প্রতিরোধে সতর্কতা
কয়েকটি সতর্কতা অবলম্বন করার মাধ্যমে আমরা ওরাল ক্যান্সার (oral cancer) প্রতিরোধ করতে পারি। নিচে কয়েকটি সতর্কতা দেওয়া হলো-
- সিগারেট-পানসহ নানা তামাকজাত দ্রব্য গ্রহণ বন্ধ করুন।
- অ্যালকোহল থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করুন।
- অতিরিক্ত সূর্য এক্সপোজার থেকে ঠোঁটকে সুরক্ষিত রাখতে লিপ বাম বা লিপ গ্লস ব্যবহার করুন।
- বছরে অন্তত দুবার দাঁতের চিকিৎসকের কাছে গিয়ে দাঁত এবং মুখের ক্যান্সারের ঝুঁকি পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো।
- নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম এবং ব্যায়াম করা সুস্বাস্থ্যের জন্য খুবই ভালো।
- প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় প্রচুর সবজি ও ফল রাখুন।
কীভাবে ওরাল ক্যান্সারের চিকিৎসা করা হয়?
- সার্জারি
- রেডিয়েশন থেরাপি (Radiation therapy)
- কেমোথেরাপি (Chemotherapy)
- টার্গেটেড থেরাপি (Targeted therapy)
- পুষ্টিকর খাবার খাওয়া