হাম নিরাময়ের প্রাকৃতিক উপায়।

হাম একটি সংক্রামক ভাইরাস রোগ। হাম রুবেলা নামেও পরিচিত। এটি শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ এবং প্যারামিক্সো দ্বারা সৃষ্ট, একটি ভাইরাস যা শিশুদের বেশি হয়ে থাকে। টিকা হল হাম প্রতিরোধের একমাত্র উপায়।

ভাইরাসটির পূর্ণ বৈজ্ঞানিক নাম মিজল্‌স মর্বিলি ভাইরাস (Measles morbillivirus)।

হামের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো কপালের উপর দাগ এবং মুখের ভিতরে ছোট লাল দাগ।

হামের লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে হাঁচি-কাশি, চোখের পাতা ফোলা, উচ্চ জ্বর, মুখে ছোট ধূসর-সাদা দাগ, কাশি, গলা ব্যথা, চোখ দিয়ে পানি পড়া এবং নাকের উপর ফুসকুড়ি হওয়া।

উজ্জ্বল আলোর প্রতি সংবেদনশীলতা হামের রোগীদের মধ্যে আরেকটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য।

হাম মানে সারা শরীর জুড়ে ফুসকুড়ির ওঠা। এই ফুসকুড়ি সাধারণত লাল বাদামী রঙের এবং প্রাথমিকভাবে মুখের উপর, কানের চারপাশে এবং ঘাড়ের উপরে থাকে।

হাম হওয়ার প্রথম তিন দিন মুখে, কানে ও ঘাড়ে ফুসকুড়ি হয়। পরের দিনগুলিতে শরীরের বাকি অংশে এবং পায়ে ছড়িয়ে পড়ে। ফুসকুড়ি প্রায় এক সপ্তাহ স্থায়ী হয়।

হাম নিরাময়ের প্রাকৃতিক উপায়গুলি:

নিচে হাম নিরাময়ের প্রাকৃতিক উপায়গুলি দেওয়া হলো –

নিমপাতা:

নিমপাতায় আছে অ্যান্টিভাইরাল এবং এন্টিসেপটিক বৈশিষ্ট্য যা হাম নিরাময়ে সহায়তা করে। নিমপাতা হামের ফুসকুড়ি বা চুলকানি দূর করার জন্য খুবই কার্যকরী। নিমপাতা বেটে তার রস শরীরে ভালো করে লাগিয়ে ২৫-৩০ মিনিট পর স্নান করুণ। এছাড়া গরম জলের সাথে নিমপাতার রস মিশিয়ে স্নান করতে পারেন।

তেঁতুলের বীজ এবং হলুদ:

হাম নিরাময়ের তেঁতুলের বীজ এবং হলুদ ভালো উপায়। সমপরিমাণ তেঁতুলের বীজ গুঁড়া এবং হলুদ নিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করুন। এই মিশ্রণটি দিনে ৩ বার রোগীর শরীরে ভালো করে লাগান। এরপর কিছুসময় অপেক্ষা করে স্নান করে নিন।

রসুন:

রসুন হামের চিকিৎসার ক্ষেত্রে খুবই উপকারী। রসুন ভেষজ ওষুধ হিসাবে ব্যবহার করা হয়। সকালে খালি পেটে রসুন চিবিয়ে খেলে ভালো উপকার পাওয়া যায়। এছাড়া রসুনের সাথে লবঙ্গ ও মধু মিশিয়ে খেতে পারেন। হাম নিরাময়ের জন্য প্রাকৃতিক হিসাবে রসুন খুবই কার্যকরী।

লেবুর রস:

হাম নিরাময়ের জন্য প্রাকৃতিক উপায় হিসাবে লেবুর রস খুবই কার্যকরী। ১৫ থেকে ২৫ মিলিলিটার লেবুর রস পানিতে মিশিয়ে হাম নিরাময়ের প্রাকৃতিক থেরাপি হিসাবে ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়া চা এর ভিতর লেবুর রস দিয়ে খেতে পারে। মধু এবং লেবুর রস একসাথে করে শরবত বানিয়ে খেতে পারেন।

করলা পাতা এবং কাঁচা হলুদ:

করলা পাতা এবং কাঁচা হলুদ হাম নিরাময়ের জন্য প্রাকৃতিক একটি ভালো উপায়। করলা পাতা বেটে তার রস খেতে পারেন। এছাড়া করলা পাতার রসের সাথে কাঁচা হলুদ বেটে একসাথে মিশিয়ে শরীরে ভালো করে লাগাতে পারেন। কিছু সময় অপেক্ষা করে গোসল করতে হবে।

নারকেল জল:

প্রাকৃতিক চিনির একটি ভাণ্ডার নারকেল জল, যা শরীরের বিষাক্ত উপাদানগুলির পরিষ্কারক হিসাবে কাজ করে। নারকেলের জল হামের বিরুদ্ধে কার্যকর পানীয় হিসাবে কাজ করে। অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ নারকেল জল আপনার পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে।

আমলকি:

আমলকি এবং পানির মিশ্রণ হামের সময় জ্বালাপোড়া এবং চুলকানি থেকে মুক্তি পাওয়ার সর্বোত্তম উপায়। আমলকির রস হামের বিরুদ্ধে কাজ করে। আমলকি দৌওয়া জল দিয়ে স্নান করলে ভালো উপকার পাওয়া যায়।

শিশুদের হাম হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

রেফারেন্স: