পুষ্টি গুনে সমৃদ্ধ গাজর ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায় এবং ক্যান্সার প্রতিরোধ করে

অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ গাজর এর ইংরেজী নাম carrot। এর বৈজ্ঞানিক নাম Daucus carota। এটি একপ্রকার মূল জাতীয় সবজি। আমরা যত প্রকারের সবজি খাই তার মধ্যে গাজর দ্বিতীয় জনপ্রিয় একটি সবজি।

গাজর স্বাদে অত্যন্ত সুস্বাদু, পুষ্টিকর এবং আঁশসমৃদ্ধ শীতকালীন সবজি, যা প্রায় সারা বছরই পাওয়া যায়। গাজর সাধারণত পাঁচ বর্ণের হয়ে থাকে। যেমনঃ সাদা, কমলা, বেগুনি, হলুদ ও লাল।

এতে উচ্চমানের বিটা ক্যারোটিন, ভিটামিন “এ”, মিনারেলস ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আছে। তবে এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতা হল দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি পাওয়া। এ ছাড়াও আছে আরও অনেক স্বাস্থ্যগত সুবিধা।

গাজরের পুষ্টিগুন

প্রতি ১০০গ্রাম গাজরে ১৭৩ ক্যালোরি শক্তি + শর্করা ৯.৬গ্রাম + চিনি ৪.৭গ্রাম + ফাইবার ২.৮গ্রাম + প্রোটিন ০. ৯৩গ্রাম + বিটা ক্যারোটিন ৭৭% + ভিটামিন সি ৭%+ ভিটামিন ই ৪% + ক্যালসিয়াম ৩% + পটাশিয়াম ৭%।

নিচে গাজরের উপকারিতা সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

সালাদ অথবা সবজি কিংবা সামান্য লবণ মেখে এমনিতেই গাজর খাওয়া যায়। এছাড়া আছে গাজরের হালুয়া। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন যদি গাজর থেকে সর্বোচ্চ পুষ্টিটা পেতে হয় তবে কাঁচা গাজর খাওয়াই সর্বোত্তম। তাই গাজরের জুস বানিয়ে খেলেই পাওয়া যাবে গাজরের সর্বোচ্চ পুষ্টি উপাদান।

প্রতিদিন সকালে এক গ্লাস গাজরের জুস স্বাস্থ্যের উন্নতি করবে কয়েকগুণ। নিচে আর আরও কিছু উপকারিতা দেওয়া হল –

ক্যান্সার প্রতিরোধক:

হজমের পর খাদ্যের কিছু উচ্ছিষ্ট অংশ আমাদের শরীরে থেকে যায়। যাকে ফ্রি র‍্যাডিকেলস বলে। এই ফ্রি র‍্যাডিকেলস শরীরের কিছু উপকারী কোষ নষ্ট করে। গাজরের মধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ফ্রি র‍্যাডিকেলস এর বিরুদ্ধে লড়াই করে। ফলে শরীরে ক্যান্সারের প্রতিরোধে সাহায্য করে। এছাড়া পেঁপে, টমেটো, ডালিম ইত্যাদি ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে।

দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে:

গাজরের মধ্যে থাকা বেটা ক্যারোটিন লিভারে গিয়ে ভিটামিন -এ তে রূপান্তরিত হয়। যা আমাদের চোখের দৃষ্টিশক্তি বাড়ায় এবং চোখের অন্যান্য সমস্যা দূর করে।

হার্ট ভালো রাখে:

হার্ট পেশেন্টের জন্য গাজর খুব ভালো। কারণ এতে উপস্থিত বেটা ক্যারোটিন‚ ভিটামিন “সি”, ভিটামিন বি6 রয়েছে। এছাড়া আলফা ক্যারোটিন আর Lutein এগুলো সবই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এই উপাদান গুলো হার্টের কর্মক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে যার ফলে হার্ট অ্যাটাক হওয়ার সম্ভাবনা কমে। এছাড়াও গাজরে উপস্থিত পটাশিয়াম কার্ডিওভ্যাসকুলার সিস্টেমের স্ট্রেস কমায়।

লিভারের সুরক্ষা করে:

গাজরে উচ্চ পরিমাণে ভিটামিন “এ” আছে যা শরীর থেকে ক্ষতিকারক টক্সিন বের করতে সাহায্য করে। এছাড়াও লিভারে ফ্যাট জমতে দেয় না।

এছাড়াও গাজরের যে সলিউবল ফাইবার আছে তা লিভার পরিষ্কার রাখে। নিয়মিত গাজর খেলে হেপাটাইটিস‚ সিরোসিস আর cholestasis মতো অসুখ দূরে থাকে।

ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়:

গাজরের মধ্যে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং পটাসিয়াম রয়েছে। এই উপাদান গুলো ত্বককে সুস্থ এবং সতেজ রাখে। এসব পুষ্টি উপাদান ত্বক শুকিয়ে যাওয়া, স্কিন টোনকে উন্নত করা এবং ত্বককে দাগ পড়ার হাত থেকে রক্ষা করে।

নিমিয়ত গাজর খেলে শরীরে ফ্রি র‍্যাডিকেলস এর প্রভাব কম থাকে যা বয়সের ছোপ দূর করতে সাহায্য করে। নিমিয়ত গাজরের জুস খেলে গায়ের রং উজ্জল হয়, কারণ এটি রক্ত পরিষ্কার করে ও ত্বকের উজ্বলতা ফিরিয়ে আনে।

ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখে:

ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে একটা গাজরই যথেষ্ট। গাজরে পটাসিয়াম এবং বিটা-ক্যারোটিনে গাজর বেশি থাকে যা উচ্চ রক্তচাপ কমাতে কার্যকরী ভূমিকা রাখে। গাজরের জুস হার্ট এবং কিডনি ফাংশন নিয়ন্ত্রণ করে স্বাভাবিক রক্তচাপ বজায় রাখতে সহায়তা করে।

দাঁত ও মাড়ি সুস্থ রাখে:

ভিটামিন “সি” থাকায় গাজর দাঁত ও মাড়ির সুস্থতা বজায় রাখে। মাড়ি ফোলা ও দাঁত থেকে রক্ত পড়া সমস্যা সমাধানে গাজর ভূমিকা পালন করে। এছাড়াও মুখের মধ্যে প্লাক জমতে দেয় না ফলে দাঁত আর মাড়ি ঠিক থাকে।

হজম শক্তি বাড়ায়:

গাজরে রয়েছে ডায়াটারি ফাইবার। যা হজমের সহায়ক পাচক রসের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়। ফলে বদহ হজম ও অ্যাসিডিটির মতো সমস্যা খুব তাড়াতাড়ি কমে যায়। সেই সাথে হজম ক্ষমতা বাড়তে শুরু করে। এছাড়াও গাজরে ২.৮গ্রাম ফাইবার রয়েছে যা কোষ্টকাঠিন্যতা দূর সাহায্য করে।

ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখে:

ডায়বেটিস একটা আতঙ্কের নাম। ডায়বেটিস রোগীদের জন্য গাজর খুব কার্যকরী। গাজরের মধ্যে থাকা ভিটামিন ও মিনারেল ইনসুলিনের কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। ফলে ডায়বেটিস রোগের সরাসরি প্রতিরোধক হিসাবে কাজ করে। গাজর মধ্যে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমূহ এবং phytochemicals রক্তে ​​শর্করা নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করতে পারে।

গাজরের পুষ্টিগুণের কথা বিবেচনা করলে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় গাজর রাখা উচিত। গাজর আমরা রান্না করে, হালকা সেদ্ধ করে, সালাদ হিসাবে এবং জুস করে খেতে পারি। পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ ও স্বাস্থ্যকর খাবার খান এবং সুস্থ্য থাকুন এটাই কাম্য।

রেফারেন্স: