ডালিম প্রোস্টেট ক্যান্সারের সাথে লড়তে ও হার্ট ভালো রাখতে সাহায্য করে।

ডালিম এর ইংরেজী শব্দ Pomegranate. ডালিম ছাড়া এর বাংলাতে আরও একটি নাম আছে সেটি হলো বেদানা। ফ্রেঞ্চ ভাষায় ডালিমকে গ্রেনেড বলা হয় এবং হিন্দিতে বলে আনার। এটি খুবই সুস্বাদু একটি ফল। ডালিম গাছ ও ফল বিভিন্ন ঔষধ তৈরি করতে ব্যবহৃত হয়। এটি মূলত ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, আফগাস্তান, রাশিয়া, ভারত, বাংলাদেশ, চীন এবং জাপানে চাষ করা হয়। ডালিম সারাবছর পাওয়া যায়। এটি পুষ্টি গুনে ভরপুর একটি ফল।

ডালিমের পুষ্টি গুন :

  • ফাইবার: ৭গ্রাম
  • প্রোটিন: ৩গ্রাম
  • ভিটামিন সি: ৩০%(RDI)
  • ভিটামিন কে: ৩৬%(RDI)
  • ফলেট্: ১৬%(RDI)
  • পটাশিয়াম: ১২%(RDI)

হার্ট ভালো রাখে:

প্রতিদিন কোনো না কোনো ভাবে আমরা চর্বি জাতীয় খাবার গ্রহণ করি। এর ফলে আমাদের ধমনীর আবরণে চর্বি জমে। ফলে ধমনী আস্তে আস্তে পুরু ও শক্ত হতে থাকে। ডালিমের রস মাংসপেশিতে দ্রুত অক্সিজেন পৌঁছে দেয় এবং ধমনীকে পুরু ও শক্ত হতে বাধা দেয়। এছাড়াও ডালিমে থাকা উচ্চ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের কলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করে।

প্রোস্টেট ক্যান্সারের সাথে লড়তে সাহায্য করে:

পুরুষদের ক্ষেত্রে বয়স হয়ে গেলে প্রোস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি থেকে যায়। পুরুষদের ক্ষেত্রে PSA (প্রোস্টেট স্পেসিফিক এন্টিজেন) অতিরিক্ত মাত্রায় বেড়ে গেলে প্রোস্টেট ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। নিয়মিত ডালিম খেলে এই PSA মাত্রা বাড়তে পারে না। ফলে ক্যান্সার সংক্রমণের ভয় কমে যায়।

স্তন ক্যান্সারের বিরুদ্ধেও সহায়ক হতে পারে:

স্তন ক্যান্সার মহিলাদের মধ্যে সবচেয়ে কমন এক ক্যান্সার। ডালিম স্তন ক্যান্সারের কোষ প্রজননে বাধা দেয়।

রক্তচাপ কমায়:

Punicic Acid ডালিমের প্রধান একটি উপাদান। যা রক্তের কলেস্টেরলও ট্রাইগ্লিসারাইড কমাতে সাহায্য করে। ফলে রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকে।

ত্বক সুস্থ্য ও উজ্জল রাখে:

ডালিমের তেল (pomegranate oil) ময়েশ্চারাইজার হিসাবে ভালো কাজ করে। এছাড়াও ডালিমে থাকা ফলিক এসিড, ভিটামিন “সি”, সাইট্রিক এসিড ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখে।

দাঁতের যত্নে:

ডালিমে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়া এবং এন্টি-ফাংগাল এর বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা দাঁতের প্লেক তৈরি করতে বাধা দেয়। দাঁতের মাঝে বাদামি ও হলুদ রঙের যে ব্যাকটেরিয়া জন্মে তাকে দাঁতের প্লেক বলে। এছাড়াও মুখের বিভিন্ন ইনফেকশন দূর করতে সাহায্য করে।

ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধী:

দেহে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে ডালিম। এছাড়া ডালিম ফাংগাস ইনফেকশনের বিরুদ্ধে ভূমিকা রাখে।

ডালিম পরিষ্কার পানিতে ভালোভাবে ধুয়ে খেতে হবে। এটি আমরা দুই ভাবে খেতে পারি। প্রথমতঃ জুস করে দ্বিতীয়তঃ বীজ সহ। ডালিম ভিটামিন সি, পটাসিয়াম, এবং ফাইবার সমৃদ্ধ। এই ফাইবার এর অধিকাংশ উৎস হল ডালিমের বীজ। ডালিম অনেক সহজলভ্য এবং সারা বছর পাওয়া যায়। শিশুদের জন্যও ডালিমের জুস খুবই উপকারী। তাই প্রতিদিন খাবারের তালিকায় ডালিম রাখা খুব জরুরি।

Share