কিছু স্বাস্থ্যকর খাবার।

আমাদের শরীরের জন্য স্বাস্থ্যকর খাবারের গুরুত্ব অপরিসীম। শরীরের ফিটনেস ভালো রাখতে প্রতিদিন স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া জরুরী। আমরা সবাই চাই নিজের স্বাস্থ্যকে ভালো রাখতে।

যদি শরীর ভালো না থাকে তাহলে কোন কাজ সঠিক ভাবে করা যায় না। স্বাস্থ্যকর খাবার আমাদেরকে শারিরীক ও মানসিক ভাবে সুস্থ্য রাখতে সাহায্য করে।

আমাদের স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য বিভিন্ন উপায় রয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া।

কিছু স্বাস্থ্যকর খাবার

কিছু স্বাস্থ্যকর খাবার সম্পর্কে নিচে আলোচনা করা হল:-

বাদাম:

বাদামে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি রয়েছে যেমন: ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন “ই”, রিবোফ্লাভিন, ক্যালসিয়াম, ফাইবার। এগুলি প্রোটিন এবং কার্বোহাইড্রেটের একটি চমৎকার উৎস।

বাদামে অনেক সেলেনিয়াম রয়েছে। সেলেনিয়াম মানব শরীরের জন্য একটি ভালো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।

মসুর ডাল:

মসুর ডাল আমাদের শরীরের জন্য খুব উপকারী। মসুর ডাল পাকিস্তান, নেপাল, বাংলাদেশ, ভারত, ভুটান এবং শ্রীলঙ্কা সহ অনেক দেশে খুব জনপ্রিয়। মসুর ডালে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, ম্যাগনেসিয়াম এবং পটাসিয়াম থাকে যা আমাদের শরীরের জন্য জরুরী।

ওটমিল:

ওটমিলের অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে। ওটমিল কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে এবং কার্ডিওভাসকুলার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

এতে রয়েছে কার্বোহাইড্রেট এবং ফাইবার। এগুলি হজমকে ধীর করে এবং রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্থিতিশীল করে। এটি ফোলেট এবং পটাসিয়ামের একটি ভাল উৎস।

ব্রোকলি:

ব্রোকলি ফাইবার, ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম, ফোলেট এবং ফাইটোনিউট্রিয়েন্টের ভালো উৎস। ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট হল একটি যৌগ যা হার্টের রোগ, ডায়াবেটিস এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। ব্রকলিতে ভিটামিন “সি” এবং বিটা ক্যারোটিনের মতো প্রয়োজনীয় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে।

তবে ব্রকলি রান্না করলে অনেক পুষ্টি নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই এটি কাঁচা বা হালকা ভেপে খাওয়া ভাল।

আপেল:

আপেল একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার যা ফ্রি-র‌্যাডিক্যালের বিরুদ্ধে লড়াই করে। ফ্রি-র‌্যাডিক্যাল ক্ষতিকারক পদার্থ যা আমাদের শরীর তৈরি করে।

কিছু গবেষণায় দেখা যায় যে, আপেলে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আয়ু বাড়াতে পারে এবং দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি কমায়।

ব্লুবেরি:

ব্লুবেরিতে যথেষ্ট ফাইবার, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট রয়েছে। এটা রোগ প্রতিরোধ করতে এবং শারীরিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।

ব্লুবেরি স্মৃতিশক্তি হ্রাস থেকে রক্ষা করতে পারে, যা আলঝেইমার রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া ব্লুবেরি কার্ডিওভাসকুলার রোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

অ্যাভোকাডো:

অ্যাভোকাডো স্বাস্থ্যকর চর্বির একটি উৎস, এতে রয়েছে ভিটামিন “বি”, ভিটামিন “কে” এবং ভিটামিন “ই”। এছাড়া অ্যাভোকাডো ফাইবারের একটি ভাল উৎস।

অ্যাভোকাডোতে ক্যান্সার প্রতিরোধক বৈশিষ্ট্য রয়েছে। রঙিন অ্যাভোকাডো বীজের নির্যাস কোলন এবং প্রোস্টেট ক্যান্সার কোষগুলি কমাতে সাহায্য করে।

তৈলাক্ত মাছ:

তৈলাক্ত মাছে উচ্চ মাত্রার ওমেগা-3 ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে। এই তেল হার্ট এবং স্নায়ুতন্ত্রের বিভিন্ন সুবিধা প্রদান করে।

ওমেগা-3 ফ্যাটি অ্যাসিড আর্থ্রাইটিসের প্রদাহজনক অবস্থা হ্রাস করতে পারে। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন “এ” এবং ভিটামিন “ডি” রয়েছে।

মুরগির মাংস:

মুরগির মাংস আমাদের জন্য একটি সাশ্রয়ী এবং স্বাস্থ্যকর খাবার। মুরগির মাংস প্রোটিনের একটি ভালো উৎস। মুরগির মাংস কতটা স্বাস্থ্যকর হবে তা রান্নার পদ্ধতির উপর নির্ভর করে। মুরগির চামড়াতে উচ্চমাত্রায় স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে।

ডিম:

ডিমে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন থাকে যা সহজেই সুষম খাদ্য হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা যায়। ডিমে ভিটামিন B-2 এবং B-12 রয়েছে যা লোহিত রক্তকণিকা তৈরি করে।

ডিমে অ্যামিনো অ্যাসিড লিউসিন রয়েছে যা পেশী তৈরি করতে সাহায্য করে। ডিমের কুসুমে ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থের পাশাপাশি ফ্যাট এবং কোলেস্টেরল রয়েছে।

কার্ডিওভাসকুলার রোগ এবং ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের ডায়েটে ডিম অন্তর্ভুক্ত করার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

রেফারেন্স: