মাথার চুল বৃদ্ধির জন্য উপকারী কোন খাবারগুলো।

মানুষের চেহারার সৌন্দর্য বা মাধুর্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হলো চুল। সুশ্রী, সুন্দর, সুদর্শন, রূপবান, রূপবতী এই শব্দগুলোই মানুষ অপরের কাছ থেকে শুনতে আশা করে। অনেক মানুষ তাদের চুলকে তাদের সর্বশ্রেষ্ট সৌন্দর্য সম্পদ হিসাবে বিবেচনা করে। প্রকৃতপক্ষে সুন্দর, পরিপাটি, মেঘকালো স্বাস্থ্যকর চুল আমাদের চেহারার সৌন্দর্যকে অনেকখানি বাড়িয়ে দেয়।

লম্বা, সুন্দর স্বাস্থ্যকর চুল প্রায় প্রত্যেকেরই স্বপ্ন তবে সবাই এটি পূরণ করতে সক্ষম হয় না। অনেকে স্বাস্থ্যকর ঘন চুলের জন্য বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করেন। আবার অনেকে চুল বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন শ্যাম্পু ও তেল ব্যবহার করেন। শুধু বাহির থেকে চুলে জিনিস পত্র ব্যবহার করলে হবে না। পাশাপাশি আমাদের খাদ্য তালিকায় এমন কিছু খাবার রাখতে হবে যেগুলো আমাদের মাথার চুল বৃদ্ধি করতে সাহায্য করবে।

চুলের জন্য ভিটামিন “এ” ভিটামিন “সি” ভিটামিন “ডি” প্রোটিন, জিংক, নিয়াসিন, ফলিক অ্যাসিড এবং আয়রন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

এসব ভিটামিন ও খনিজ উপাদান আমরা খাবার থেকে পেতে পারি। এসব উপাদান চুলকে ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে, নতুন চুল গজাতে, চুলের গ্রন্থিকোষ রক্ষা করতে এবং কোলাজেনের মাত্রা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।

নিচে এমন কিছু খাবার দেওয়া হলো যেগুলো মাথার চুল বৃদ্ধির জন্য উপকারী।

ডিম:

ডিম প্রোটিন এবং বায়োটিনের একটি দুর্দান্ত উৎস। এই দুটি পুষ্টি উপাদান চুলের বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। চুলের বৃদ্ধির জন্য পর্যাপ্ত প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া গুরুত্বপূর্ণ কারণ চুলের গোড়া বেশিরভাগ প্রোটিন দিয়ে তৈরি। এছাড়া ডিম চুলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ জিঙ্ক, সেলেনিয়াম এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের এক দুর্দান্ত উৎস। ডিম খাওয়ার পাশাপাশি চুলে ডিম মাখলেও উপকার পাবেন।

পালং শাক:

সবুজ শাকের মধ্যে পালং শাক চুল বৃদ্ধির জন্য উপকারী। কারণ এতে ফোলেট, আয়রন এবং ভিটামিন “এ” এবং “সি” এর মতো উপকারী পুষ্টিতে ভরা থাকে, যা চুল বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। ভিটামিন “এ” মাথার তালু তৈলাক্ত রাখে যা চুলকে সুস্থ্য রাখতে এবং মাথার ত্বক ময়শ্চারাইজ করতে সহায়তা করে। এছাড়া পালং শাক আয়রনের একটি দুর্দান্ত উদ্ভিদ উৎস, যা চুল বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয়।

মিষ্টি আলু:

মিষ্টি আলু বিটা ক্যারোটিনের দুর্দান্ত উৎস। আমাদের শরীর বিটা ক্যারোটিন কে ভিটামিন “এ” তে রূপান্তর করে, যা চুলের জন্য ভালো। একটি মাঝারি মিষ্টি আলু প্রতিদিনের ভিটামিন “এ” এর থেকে চারগুণ বেশি বিটা ক্যারোটিন থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে যে, ভিটামিন “এ” মাথার তালু তৈলাক্ত (Sebum) রাখতে সাহায্য করে যা চুলের জন্য ভালো।

বাদাম:

বাদাম খুবই সুস্বাদু এবং এতে বিভিন্ন ধরণের পুষ্টি উপাদান থাকে যা চুলের বৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ২৮ গ্রাম বাদামে আপনার প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় ভিটামিন “ই” এর ৩৭% পর্যন্ত থাকে। এছাড়া বাদাম ভিটামিন “বি”, জিঙ্ক এবং প্রয়োজনীয় ফ্যাটি অ্যাসিড সরবরাহ করে। এই পুষ্টি উপাদানগুলো চুল দ্রুত বৃদ্ধি করে, চুলের গোড়া মজবুত করে এবং চুল পড়া কমাতে পারে।

চিংড়ি:

চিংড়ি চুল বৃদ্ধির জন্য উপকারী। এতে প্রোটিন, ভিটামিন “বি”, জিঙ্ক, আয়রন এবং ভিটামিন “ডি” আছে। ১০০-গ্রাম চিংড়ি আপনার প্রতিদিনের ভিটামিন “ডি” এর চাহিদার ৩৮% পূরণ করতে পারে। ভিটামিন ডি এর ঘাটতি চুল কমে যেতে পারে। তাই চুল বৃদ্ধির জন্য চিংড়ি উপকারী।

মটরশুটি:

চুলের জন্য খুবই প্রয়োজনীয় উপাদান কেরাটিন। মটরশুঁটি এবং ডাল এই কেরাটিন প্রোটিনে সমৃদ্ধ। শক্তপোক্ত চুলের জন্য নিয়মিত মটরশুঁটি এবং ডাল খেতে পারেন। এতে চুলের বৃদ্ধি যেমন হবে, তেমনি চুল থাকবে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ও ঝলমলে।

সূত্র: হেলথলাইন

Share