জ্বরঠোসা হলে করণীয় কি?

ঠোঁট ও ঠোঁটের চারপাশে সৃষ্ট ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র তরলে পূর্ণ ফুসকুড়িকে জ্বরঠোসা বলে। সাধারণত এই ফুসকুড়িগুলি একসাথে পুঞ্জাকারে হয়ে থাকে। এটাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় ফিভার ব্লিস্টার বা কোল্ড সোর বলে।

জ্বর হলে বা দেহে কোনো সংক্রমণ হলে ঠোঁটের কোণে ছোট ছোট ফুসকুড়ি দেখা দেয়। কখনো ঠোঁটের কোণ ফেটে যায় ও লাল দেখায়। প্রচণ্ড ব্যথা করে ও অস্বস্তি লাগে। এ অবস্থাকে আমরা বলি জ্বরঠোসা (Cold sore)। যদিও এটি বড় কোনো সমস্যা নয়, তবে বেশ যন্ত্রণাদায়ক।

সাধারণত জ্বর ঠোসার পেছনে হারপিস সিমপ্লেক্স ভাইরাস দায়ী। শরীরে কোনো কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে, যেমন কোনো সংক্রমণ বা জ্বরের পর এমন সমস্যা বেশি হয়।

জ্বরঠোসা হলে আমাদের করণীয়:

চলুন জেনে নেওয়া যাক, জ্বরঠোসা হলে আমাদের করণীয় সম্পর্কে –

নারিকেল তেল ব্যবহার করুণ :

জ্বরঠোসা দূর করতে নারিকেল তেল খুবই কার্যকরী। এ পদ্ধতি ব্যবহার করতে নারিকেল তেল এবং সুতির কাপড় নিতে হবে। সুতির কাপড় নারিকেল তেলে ভিজিয়ে আপনার ক্ষতস্থানে বা জ্বরঠোসা যেখানে হয়েছে সেই স্থানে হালকা চেপে চেপে লাগাতে হবে।

ভালো ফলাফল পেতে প্রত্যেক ঘণ্টায় এই পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে। নারিকেল তেলে আছে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল এজেন্ট ও ট্রাইগ্লিসারাইডস। এছাড়া লৌরিক এসিড এবং ওলিক এসিড রয়েছে যা ভাইরাসকে মারতে পারে এবং জ্বরঠোসা দূর করে।

দুধ ব্যবহার করুণ :

জ্বরঠোসা দূর করতে দুধ ভালো একটি পদ্ধতি। এ পদ্ধতি ব্যবহার করতে কটন বল এবং সামান্য দুধ নিতে হবে। কটন বলটি দুধে ভিজিয়ে জ্বরঠোসার ওপরে লাগিয়ে, কিছু সময় অপেক্ষা করুন।

২ ঘণ্টা পরপর এই পদ্ধতি ব্যবহার করুন। দুধে রয়েছে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টি ভাইরাল প্রপার্টি। এটি কেবল সংক্রমণটি পরিষ্কার করার ক্ষেত্রেই নয়, আপনার ত্বকে শীতল করার ক্ষেত্রে সাহায্য করে।

বরফ ব্যবহার করুণ :

বরফ আপনার ফোলা ভাবকে দূর করবে এবং দ্রুত জ্বরঠোসা সারিয়ে তুলতে সাহায্য করবে। এ পদ্ধতি ব্যবহার করতে আপনি বরফ ছোট ছোট টুকরা করে জ্বরঠোসার ওপরে লাগাতে পারেন।

আবার বরফকে গলিয়ে বরফের জল লাগাতে পারেন। দুই পদ্ধতি একই কাজ দিবে। কয়েকবার এই পদ্ধতি ব্যবহার করলে জ্বরঠোসা থেকে মুক্তি মিলবে।

মধু ব্যবহার করুণ :

জ্বরঠোসা দূর করতে মধু খুব উপকারী। প্রথমে আধা চামচ মধু নিন। তারপর আপনার আঙ্গুলের সাহায্যে মধু ক্ষতস্থানে বা জ্বরঠোসা যে স্থানে হয়েছে সেই স্থানে ৫ থেকে ১০ মিনিট লাগিয়ে রাখুন।

এই পদ্ধতি দিনে দুই বার করে ৩-৪ দিন ব্যবহার করুন। মধুতে আছে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল প্রোপারটিস সমৃদ্ধ। এটি খুব দ্রুত সংক্রমন দূর করে।

রসুন ব্যবহার করুণ :

রসুনের রয়েছে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টিফাঙ্গাল গুণ, যা ঘাঁ, জ্বরঠোসা খুব দ্রুত নির্মূল করে। এ পদ্ধতি ব্যবহার করতে একটি রসুনের কোয়া নিতে হবে। তারপর রসুনের কোয়া বেটে সরাসরি ক্ষত বা জ্বরঠোসার ওপর লাগাতে হবে। দিনে দুই থেকে তিনবার প্রয়োগ করতে হবে।

ভালো ফলাফলের জন্য, সকালে খালি পেটে কাঁচা রসুন চিবিয়েও খেতে পারেন। রসুনের নির্যাস হার্পিস সিম্পলক্স ভাইরাস প্রতিরোধে কাজ করে। যার ফলে জ্বরঠোসা থেকে দ্রুত মুক্তি পাওয়া যায়।

  • প্রচুর জল বা পানি পান করুন। ভালো হয়, জলের সাথে লেবুর রস ও মধু মিশিয়ে খেলে। এটি আপনাকে হাইড্রেট রাখবে এবং দ্রুত ক্ষত সারিয়ে উঠতে সাহায্য করবে।
  • ঘরোয়া প্রতিকারগুলোর পাশাপাশি আপনি ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী এন্টিভাইরাল ওষুধ খেতে পারেন এবং মলমও লাগাতে পারেন।
রেফারেন্স: