জলপাই স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করে ও হার্টের জন্য ভালো।

কাঁচা জলপাই নাম শুনলেই অনেকের জিভে পানি চলে আসে। জলপাই সাধারণত আমরা আচার বানিয়ে খায়, কেউ হয়তো ডালের সাথে খায় আবার কেউ টক রান্না করে খায়। কিন্তু কাঁচা জলপাই এর পুষ্টিগুণ সবথেকে বেশি। কাঁচা জলপাই খাওয়ার অভ্যাস করতে পারলে আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। জলপাইয়ের খোসায় প্রচুর পরিমাণে আঁশ রয়েছে। এই আঁশ আমাদের হজম শক্তির জন্য খুবই উপকারী। জলপাই আমাদের হজম শক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি আমাদের রক্তচাপ হ্রাস করতে পারে। এছাড়াও জলপাই রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। জলপাইয়ের মত এর তেলও খুবই স্বাস্থ্যকর।

জলপাইতে অনেক উপকারী উপাদান আছে। উল্লেখযোগ্য কিছু উপাদান নিচে দেওয়া হলো-

  • ক্যালোরি: ১১৫
  • পানি: ৮০%
  • প্রোটিন: ০.৪ গ্রাম
  • কার্বস: ৬.৩ গ্রাম
  • চিনি: ০ গ্রাম
  • ফাইবার: ৩.২ গ্রাম
  • ফ্যাট: ১০.৭ গ্রাম
  • স্যাচুরেটেড: ১.৪২ গ্রাম
  • মনস্যাচুরেটেড: ৭.৮৯ গ্রাম
  • পলিউনস্যাচুরেটেড: ০.৯১ গ্রাম

জলপাইয়ের স্বাস্থ্য উপকারীতা:

জলপাইতে ১১% ফ্যাট থাকে, যার ৭৪% শতাংশ অ্যালিক অ্যাসিড। অ্যালিক অ্যাসিড এক ধরণের মনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড। এটি জলপাই তেলের প্রধান উপাদান। অ্যালিক অ্যাসিড বেশ কয়েকটি স্বাস্থ্য সুবিধার সাথে যুক্ত, যার মধ্যে হার্টের রোগের ঝুঁকি কমানো, ক্যান্সারের সাথে লড়াই করতে সহায়তা করা। জলপাই প্রতি ১০০ গ্রামে ১১৫-১৪৫ ক্যালোরি, বা ১০টি জলপাইয়ে প্রায় ৫৯ ক্যালোরি রয়েছে। জলপাই বিভিন্ন ভিটামিন এবং খনিজের একটি ভাল উৎস। নিচে জলপাইয়ের আরো কিছু স্বাস্থ্য উপকারীতা দেওয়া হলো –

হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো:

উচ্চ রক্তের কোলেস্টেরল এবং উচ্চ রক্তচাপ হার্টের রোগের ঝুঁকির কারণ। জলপাইয়ে অলিভ অ্যাসিড, ফ্যাটি অ্যাসিড হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। এটি কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে এবং LDL (খারাপ) কোলেস্টেরলকে জারণ থেকে রক্ষা করতে পারে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে জলপাই এবং জলপাইয়ের তেল রক্তচাপ হ্রাস করতে পারে। মনো-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে এছাড়া বাদাম এবং অ্যাভোকাডোতে ও এই ফ্যাট পাওয়া যায়।

হাড়ের জন্য ভালো:

অস্টিওপোরোসিস এমন একটা রোগ যা হাড়ের ঘনত্ব ও হাড়ের দৃঢ়তা কমিয়ে দেয়। জলপাইয়ে এমন কিছু উপাদান আছে যা হাড়ের অস্টিওপোরোসিস রোগ কমায়।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়:

জলপাই প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন “সি” আছে। সর্দি, জ্বর ইত্যাদি দূরে থাকে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে:

জলপাই রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। জলপাইয়ে থাকা অলিক অ্যাসিডগুলি (oleic acids) (হার্টের এক ধরণের স্বাস্থ্যকর ফ্যাট) এবং পলিফেনল রক্তের শর্করা মাত্রা হ্রাস করে। গবেষণায় দেখা গেছে যে, মনউস্যাচুরেটেড (monounsaturated) ফ্যাট এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়।

ক্যান্সার প্রতিরোধ:

জলপাইয়ে থাকা উচ্চ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যালিক অ্যাসিড (oleic acid) ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে। টেস্ট-টিউব সমীক্ষায় জানা যায় যে, এই যৌগগুলি স্তন, কোলন এবং পাকস্থলীতে ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি কমায়।

স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করে:

জলপাইতে ভিটামিন “ই” রয়েছে, এটি একটি অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট যা স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করে। এছাড়া জলপাইয়ে থাকা পলিফেনল মস্তিষ্কের অক্সিডেটিভ স্ট্রেসকে হ্রাস করে।

জলপাইয়ে শর্করা কম তবে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট বেশি। তাই এই শীতে জলপাই প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখুন।

Share