কিসমিস দ্রুত শক্তি যোগায়, রক্তাল্পতা হ্রাস করে, হাড় ও দাঁতের জন্য দুর্দান্ত।

কিসমিসকে শুকনো ফলের রাজা বলা হয়। সোনালী-বাদামী রংয়ের চুপসানো ফলটি খুবই শক্তিদায়ক। সুস্বাদু ফল আঙ্গুর সূর্যের তাপে অথবা মাইক্রোওয়েভ ওভেনের সাহায্যে শুকিয়ে তৈরি করা হয় কিসমিস। এটা ছোট-বড়ো সবাই কম-বেশি পছন্দ করে। কিসমিস বাচ্চারাও খেতে খুব ভালোবাসে।

যেকোন মিষ্টি খাবারের স্বাদ এবং সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য কিসমিস ব্যবহার করা হয়। পোলাও, কোরমা, বিরিয়ানি এমনকি বিভিন্ন ফাস্ট ফুডেও কিসমিস ব্যবহার করা হয়। আর পায়েসতো কিসমিস ছাড়া যেন ঠিক জমে না। কিসমিস ইংরেজীতে Raisin বা kishmish. কিসমিসের বৈজ্ঞানিক নাম হলো Vitis Vinifera.

কিসমিসে রয়েছে পটাশিয়াম, যা হার্টকে ভাল রাখে এবং খারাপ কোলেস্টরল দূর করতে সাহায্য করে। এছাড়া রয়েছে আয়রন যা রক্তাল্পতা দূর করতে সাহায্য করে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মহিলারা রক্তাল্পতায় ভোগেন, তাই চিকিৎসকরা বলেন কিসমিস খাওয়া মহিলাদের স্বাস্থ্যের পক্ষে বিশেষ উপকারী।

এতে ক্যালোরি ও চিনি বেশি আছে। তাই কিসমিসকে “প্রকৃতির ক্যান্ডি” হিসাবে উল্লেখ করা হয়।

কিসমিসের উপকারীতা

কিসমিস প্রাকৃতিক শর্করাই পূর্ণ এবং শক্তির বুস্টার হিসাবে পরিচিত। এতে আয়রন, পটাসিয়াম এবং ক্যালসিয়ামের মতো পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ। নিচে কিসমিসের উপকারীতা দেওয়া হলো –

দেহে শক্তি যোগায়:

আমাদের দেহে শক্তি সরবরাহ করতে কিসমিসের অবদান অনেক বেশি। কিসমিসে রয়েছে চিনি, গ্লুকোজ এবং ফ্রুক্টোজ, যা তাৎক্ষণিকভাবে দেহের দুর্বলতা দূর করে শক্তি সরবরাহ করে।

রক্তাল্পতা দূর হয়:

কিসমিস আয়রনের একটি ভাল উৎস। যা রক্তশূন্যতা দূর করতে সাহায্য করে। দেড় কাপ কিসমিসে ১.৩ মিলিগ্রাম আয়রন থাকে। এটি প্রাপ্তবয়স্ক মহিলাদের প্রতিদিন যে পরিমাণ আয়রন দরকার হয় তার প্রায় ৭ শতাংশ এবং প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের ১৬% পূরণ করে। লোহিত রক্তকণিকা তৈরি করতে এবং দেহের কোষগুলিতে অক্সিজেন বহন করতে সহায়তা করে।

ক্যালোরির ভালো উৎস:

আধা কাপ কিসমিসের প্রায় ২১৭ ক্যালোরি এবং ৪৭ গ্রাম চিনি রয়েছে। ক্রীড়াবিদদের জন্য অনেক দামী দামী খাবারের তুলনায় কিসমিস একটি দুর্দান্ত বিকল্প। কারণ এতে প্রয়োজনীয় কার্বোহাইড্রেট রয়েছে যা পারফরমেন্স ভালো করতে সহায়তা করে।

কোষ্ঠকাঠিন্যতা দূর করে:

এতে ৩.৩ গ্রাম ফাইবার রয়েছে। যা দৈনিক প্রয়োজনের প্রায় ১০ থেকে ২৪ শতাংশ পূরণ করে। ফাইবার মলের পরিমাণ বৃদ্ধি এবং নরম করতে সহায়তা করে। ফলে কোষ্ঠকাঠিন্যতা দূর হয়।

কোলেস্টেরলের মাত্রা হ্রাস:

কিসমিস কোলেস্টেরলের মাত্রা হ্রাস করতে সাহায্য করে। কারণ এতে প্রচুর পরিমাণে ডায়েটারি ফাইবার রয়েছে। যা “খারাপ” কোলেস্টেরলের (LDL) মাত্রা হ্রাস করতে পারে।

হাড় এবং দাঁতের জন্য:

১/২ কাপ কিসমিসে প্রায় ৪৫ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম থাকে। এটি আমাদের দৈনন্দিন প্রয়োজনের প্রায় ৪ শতাংশ পূরণ করে। স্বাস্থ্যকর এবং শক্তিশালী হাড় ও দাঁতের জন্য ক্যালসিয়াম প্রয়োজন। ক্যালসিয়াম অস্টিওপরোসিস রোধ করতে সহায়তা করে। ২০০৯-এর একটি অধ্যয়নে দেখা গেছে যে, কিসমিসে ফাইটোকেমিক্যাল থাকে যা স্বাস্থ্যকর দাঁত এবং মাড়ির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

সতর্কতা:

এতে চিনির পরিমাণ বেশি তাই ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ভালো নাও হতে পারে। যাদের ডায়বেটিস আছে অথবা আপনি যদি জটিল কোনো রোগে আক্রান্ত হন বা অন্য কোনো কারণে রেগুলার কোনো মেডিকেল কোর্স-এর মধ্য দিয়ে যান তাহলে অবশ্যই খাওয়ার আগে আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ নিবেন। কিসমিস খাওয়ার আগে অবশ্যই ভালো করে ধুয়ে নিবেন।

সূত্র: হেলথলাইন

Share