কাঁচা আম রক্ত পরিষ্কার করে, ঘামাচি ও ঘামের দুর্ভোগ কমায়।

অসংখ্য ভিটামিন ও মিনারেলে সমৃদ্ধ “কাঁচা আম” এই গ্রীষ্ম মৌসুমে প্রকৃতি আমাদের সামনে নিয়ে হাজির। এমনই একটি সুমিষ্ট ঘ্রাণ এই কাঁচা আমের যেনো গন্ধ নাকে নিলেই মুখে খাবারের রুচি বেড়ে যাই। বাদ দেন ভিটামিন ও মিনারেলের কথা। এগুলো না থাকলেও কাঁচা আমের সুমিষ্ট মায়াবী ঘ্রাণ ভোলার মতো নয়।

সমগ্র পৃথিবীজুড়ে সকলের পরিচিত ও পছন্দের একটি ফল হলো আম। কাঁচা আম ও পাকা আম দুটোই আমরা খেয়ে থাকি। তবে আজ আমরা কাঁচা আমের উপকারিতা ও অপকারিতা নিয়ে আলোচনা করবো। Summer season- অর্থাৎ গ্রীষ্মের শুরুতে সবথেকে স্বাস্থ্যকর এই ফলটি সর্বত্র চোখে পড়ে। আসলে কাঁচা হোক বা পাকা-আম এমন একটি ফল যেটা দেখলেই মন ভালো হয়ে যাই। যেসব খাবার দেখলে এবং খেলে মন ভালো হয়ে যাই আম তাদের মধ্যে একটি।

একটু লবন আর কাঁচা আম-জিভে জল আনা এই খাবারটি গরমে আমাদের তৃষ্ণা নিবারণ করে ও শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি বের হওয়া রোধ অর্থাৎ পানিশুন্যতা দূর করে। ফলের মধ্যে একমাত্র কাঁচা আমের তৈরি আঁচার, চাটনী, জ্যাম, জেলী বেশিরভাগ মানুষের প্রথম পছন্দের। ফলের রাজা আম ভিটামিন সি, বি, ই, এ ও ডি সমৃদ্ধ।

খাবার অধিক পুষ্টিকর ও সুস্বাদু ভালো কথা কিন্তু সেই খাবারটি ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায় যদি অতিরিক্ত মাত্রায় গ্রহণ করা হয়। কাঁচা আম অতিরিক্ত খাওয়া ঠিক নয়। তাই জেনে-বুঝে এবং আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খান এবং কাঁচা আমের পুষ্টিগুণ উপভোগ করুন।

কাঁচা আমের উপকারিতা :

গ্যাস বা অম্বল ও বুক জ্বালা প্রতিরোধে :

তেল, চর্বি একটু বেশী খেয়ে ফেলেছেন বা অন্য কোনো কারণে গ্যাসের যন্ত্রনায় ভুগছেন। এক টুকরো কাঁচা আম মুখে নিয়ে চিবাতে পারেন বা ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে জুস করেও খেতে পারেন। সুন্দর গন্ধ, sharp sour- এই ফলটি এখন চিনি, লবন, পুদিনা পাতা, ধনে পাতা সহযোগে শরবত হিসাবে খাওয়া হয়। কাঁচা আম গ্যাস বা অম্বল ও বুক জ্বালাপোড়া কমাতে দারুন কার্যকর।

ওজন কমাতে কাঁচা আম :

ক্যালরি দহনে বা ক্যালরি ক্ষয় করতে কাঁচা আম দারুন কাজ করে। আমরা সবাই জানি, পাকা আমে প্রচুর সুগার থাকে এবং ওজন বৃদ্ধি করে থাকে। তাই আপনি যদি অতিরিক্ত ওজনের সমস্যায় ভোগেন তাহলে সেক্ষেত্রে কাঁচা আম আপনার বন্ধু হতে পারে।

লিভারের জন্য ভালো :

লিভার বা যকৃতের পীড়া প্রতিরোধে সাহায্য করে কাঁচা আম। কাঁচা আম পাচক রসের নিঃসরণ বাড়িয়ে দেয় এবং অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন দূর করে।

ঘামাচি কমায় :

গরমের সময় ঘামাচি একটি অস্বস্তিকর ব্যাপার যা আমাদের বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে ফেলে। গরমে ঘামাচির সমস্যা কমানোর সবচেয়ে ভালো উপায় কাঁচা আম খাওয়া। কাঁচা আমে এমন কিছু উপাদান রয়েছে, যা ঘামাচি প্রতিরোধ করে।

রক্তের সমস্যা দূর করে :

রক্ত স্বল্পতার সমস্যায় কাঁচা আম বেশ উপকারী। কাঁচা আমে আয়রন বা লৌহ থাকায় রক্তস্বল্পতা সমস্যা সমাধানে ভালো কাজ করে।

গর্ভবতী মহিলাদের প্রাতঃকালীন অসুস্থ্যতা দূর করে :

গর্ভবতী মায়েরা গর্ভকালীন সময়ে আঁচার এবং টক জাতীয় খাবার খেতে পছন্দ করেন। আমের আঁচার সহ কাঁচা আমের বিভিন্ন পদ সকল নারীদের প্রিয় একটি খাবার। কাঁচা আম মর্নিং সিকনেস দূর করে। কাঁচা আম জুস করেও খাওয়া যেতে পারে। এটি নিদ্রালুতা দূর করে ও এনার্জি বুস্টার হিসাবে কাজ করে।

মাড়ির রক্ত পড়া রোধ করে :

কাঁচা আম ভিটামিন “সি”-এর ভালো উৎস। অতিরিক্ত ভিটামিন “সি” থাকার কারণে এটি আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করে। স্কার্ভি জনিত সমস্যা দূর করে। কাঁচা আমের পাউডার বা আমচুর স্কার্ভি প্রতিরোধে দারুন কার্যকর। এতে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন সি থাকায় মাড়ি থেকে রক্ত পড়া দূর করে ও মাড়ি মজবুত করে। শরীরের কোথাও কেটে গেলে দ্রুত রক্ত পড়া বন্ধ করে।

হজমের জন্য ভালো :

কাঁচা আমের ভিটামিন “বি” বদহজম ও কোষ্টকাঠিন্য দূর করে। এটি মনোবল ও স্মৃতিশক্তি বাড়ায়।

কাঁচা আম সম্পর্কে কিছু সাবধানতা :

  • কাঁচা আম হাতের কাছে পর্যাপ্ত পরিমানে আছে আর আপনি বেশি বেশি খাচ্ছেন এমনটি করবেন না। কাঁচা আম বেশি খেলে ডায়রিয়া অবশ্যাম্ভাবী। পেট ব্যাথাও হতে পারে। কাঁচা আম একটু বেশি খেয়ে ফেলেছেন। এরপর না বুঝে ২-১ ঘন্টা পর দুধ খেয়ে নিয়েছেন। ব্যাস এরপর আপনাকে টয়লেটের সামনেই দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। কতবার যে আপনাকে যাওয়া আসা করতে হবে সেটা না হয় নাই বললাম। তাই পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত।
  • কাঁচা আমের কষ শরীরে বা মুখে লাগলে সংক্রমণ হতে পারে। এই কষ পেটে গেলে মুখ, গলা ও পেটে সংক্রমণ হতে পারে। এজন্য কাঁচা আমের কষের ক্ষেত্রে একটু সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।
  • ডায়াবেটিস রোগীরা আপনার ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী খাবেন।
Share