শিশুর কান্না থামানোর সহজ উপায়।

শিশুরা কান্নার মাধ্যমে মনের ভাব প্রকাশ করে থাকে। খিদে পেলে শিশু কাঁদা শুরু করে। আবার খারাপ লাগার অনুভূতিও কান্নায় প্রকাশ পায়। শিশুর অতিরিক্ত কান্নায় অনেক সময় মা-বাবা চিন্তিত হয়ে পড়েন। তাকে স্বাভাবিক করতে নানা চেষ্টা করে থাকেন।

শিশু যেহেতু কথা বলতে পারে না, তাই কান্নাই তার অনুভূতি প্রকাশের মাধ্যম। কান্নার মাধ্যমে তারা ঘুম, ক্ষুধা, কষ্ট, অস্বস্তি, ভয় কিংবা অন্য কোনো প্রয়োজনকে প্রকাশ করে। এ কারণে শিশুর কান্নায় চিন্তিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। তবে অতিরিক্ত কান্নাকাটি করলে সেটি ভাববার বিষয়।

সেক্ষেত্রে কীভাবে শিশুকে স্বাভাবিক করবেন তার কিছু কৌশল নিচে দেওয়া হলো:

তার কান্নার কারণ বোঝার চেষ্টা করুন:

সাধারণত ক্ষিধে পেলে, ঘুমানোর প্রয়োজন পড়লে, ন্যাপি বদলানোর সময় হলে বাচ্চারা কান্না করে। এক্ষেত্রে শিশুর প্রয়োজনটি আপনাকে বুঝতে হবে। শিশুর চাহিদা মিটে গেলেই সে কান্না থামিয়ে দেয়।

নিজে শান্ত হোন:

শিশুর সব চাহিদা মেটানোর পরও যদি কান্না না থামে, তবে তাকে শান্ত করার জন্য আপনার নিজেকে আগে শান্ত হতে হবে। কারণ আপনি অধৈর্য্য কিংবা অশান্ত হয়ে গেলে কান্নাতো থামবেই না, বরং তা আরও খারাপের দিকে চলে যাবে।

শিশুকে অভয় দিন:

শিশুকে কোলে নিয়ে আদর করে তার কানের কাছে গুণগুণ করে গান গাইতে থাকুন কিংবা মৃদু স্বরে তাকে প্রবোধ দিন।

ম্যাসাজ করুন:

ধীরে ধীরে শিশুর সারা শরীরে ম্যাসাজ করুন। এটি তাকে শান্ত হতে সাহায্য করবে। কারণ এতে করে সে ভালোবাসা ও নিরাপত্তা অনুভব করে।

বাইরে নিয়ে যান:

বাচ্চারা কান্না শুরু করলে প্রথমে যেটা করবেন সেটা হলো স্থান পরিবর্তন করুন বা বাইরে নিয়ে যান। একটু হাওয়া বদল মানে শিশুকে একটু বাইরে থেকে ঘুরিয়ে নিয়ে আসুন বা যেস্থানে কান্না শুরু করেছে সেই স্থান থেকে অন্য স্থানে সরে যান। এতে সে নিজে থেকেই শান্ত হয়ে যাবে।

অন্য কারও সাহায্য নিন:

যদি আপনি একা শিশুকে সামলাতে না পারেন তাহলে অন্য কারও সাহায্য নিন। যেমন নানা-নানী, দাদা-দাদী, বা বিশ্বস্ত কারও সাহায্য নিন। অনেক সময় কোল পরিবর্তন করলে বা অন্য কাউকে দেখতে পেলে বাচ্চার কান্না থিম যায়।

শিশুকে কোলে নিন:

শিশুকে কোলে নিয়ে আলতো করে হাত চাপড়ে তাকে আশ্বস্ত করুন যে সে একদম নিরাপদে আছে। এছাড়াও, তাকে দুই হাতের মধ্যে ভালভাবে ধরে দোলনার মতো করে ধীরে ধীরে তাকে দোল খাওয়াতে পারেন কিংবা রকিং চেয়ার বা দোলনায় বসে শিশুকে কোলে নিয়ে দোল খান।

প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন:

আপনার যদি মনে হয় পরিস্থিতি আপনার নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে, তাহলে দ্রুত শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। তিনিই আপনাকে সঠিক উপায় বলে দেবেন।

রেগে যাবেন না:

অনেক চেষ্টার পরেও শিশু যদি শান্ত না হয়, তবে ভুলেও যেন রেগে যাবেন না। শিশুর মনযোগ ঘোরাতে সৃজনশীল কিছু চেষ্টা করুন, কিন্তু তাকে ঝাঁকি দেবেন না। শিশুর ঘাড়ের হাড় এমনিতেই খুব নরম হয়। রেগে গিয়ে তাকে ঝাঁকি দিতে গিয়ে হীতে বিপরীত করতে যাবেন না যেন।

প্রয়োজনে আপনার নিজের জন্যেও কাউন্সেলিং নিতে পারেন। আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরেই কিন্তু আপনার শিশুর ভবিষ্যত নির্ভর করছে। কাজেই নিজের যত্ন নেয়ার মানে কিন্তু শিশুরও যত্ন নেয়া।

Share