মানসিক চাপে বিপর্যস্ত জীবন। মন মেজাজ ভালো রাখতে এই খাবারগুলি খান।

বর্তমান সভ্যতার যে অগ্রগতি তাতে বিস্মিত হওয়া ছাড়া উপায় নেই। বিশ্ব আজ আপন গতিতে এগিয়ে চলছে। বিশ্বের এই এগিয়ে চলার মহাপ্রতিযোগিতার সবথেকে বড় অংশীদারিত্ব, সবথেকে বড় অবদান সৃষ্টির সেরা জীব এই মানুষের। মানুষ দিনরাত যেমন পরিশ্রম করে চলেছে তেমনি বেড়েছে কাজের ব্যাস্ততা। সামাজিক, পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বেড়েছে দুশ্চিন্তা। এই দুশ্চিন্তা ও হতাশা একজন মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর খারাপ প্রভাব ফেলছে। মানসিক চাপ বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে অনেকে খারাপ পথে পা বাড়াচ্ছে। তাই আজ আমরা মানসিক চাপ কমাতে পারে এমন কিছু খাবার নিয়ে আলোচনা করবো।

যদি আপনি দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যের জন্য আরও সুস্পষ্ট পথের সন্ধান করেন তবে আপনার প্রথম পদক্ষেপটি হলো নিয়মিতভাবে আরও বেশি তাজা ফল এবং শাকসবজি খাওয়া। বিগত কয়েক দশক ধরে, গবেষকরা জোরালো প্রমাণ পেয়েছেন যে ফল ও শাকসবজি খাওয়া লোকেরা হতাশা, স্ট্রেস এবং সামগ্রিক নেতিবাচকতার কম লক্ষণ রয়েছে। গবেষণা আরও দেখায় যে যাঁরা সর্বাধিক ফল এবং শাকসবজি খান তারা সাধারণত সুখী হন, বেশি সন্তুষ্ট বোধ করেন এবং তাদের জীবনে বেশি উদ্দেশ্য পূরণ হয় ও পরিপূর্ণতা পায়।

আমরা সকলেই শুধু আমাদের শরীরের জন্য স্বাস্থ্যকর খাবাগুলির উপকার সম্পর্কে জানি – তবে কখনো কি মন মেজাজ ভালো থাকে কোন খাবার খেলে এগুলো সম্পর্কে খোঁজ রেখেছি? আসুন এমন কয়েকটি খাবার সম্পর্কে জানা যাক।

দুধ ও ডিম:

আমরা সবাই চাই উদ্যোমী হতে। বিসন্নতা ও মনমরা হয়ে কেউ থাকতে চাই না। বিসন্নতা ও মনমরা ভাব কাটাতে আমাদের অবশ্যই খেতে হবে দুধডিম। কারণ এতে রয়েছে ভিটামিন “ডি”। একটা গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের শরীরে ভিটামিন ডি-এর প্রচন্ড অভাব, তারা হতাশাগ্রস্ত ও বিভিন্ন মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত, যাদের ভিটামিন “ডি” পর্যাপ্ত মাত্রা রয়েছে তাদের তুলনায়।

ডার্ক চকলেট:

না, এটি আপনার কল্পনা নয় – গবেষণাগুলি দেখায় যে ডার্ক চকলেট গ্রহণ আপনার মস্তিস্ককে উপকার করতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে যে, চকলেট আনন্দ এবং পুরষ্কারের সাথে যুক্ত মস্তিষ্কের বিভিন্ন অঞ্চলে স্নায়বিক ক্রিয়াকে উদ্দীপিত করে যা ফলস্বরূপ স্ট্রেস হ্রাস করে এবং আপনার মেজাজকে উন্নত করে।

পেস্তা বাদাম, কাজু বাদাম ও আখরোট:

পেস্তাবাদাম আমাদের প্রতিদিনের প্রোটিনের জন্য, প্রতি আউন্স পরিবেশনায় প্রায় ৬ গ্রাম প্রোটিনের অবদান রাখে। বাদামের মোট ওজনের প্রায় ২১ শতাংশ প্রোটিন রয়েছে, এটি আমিষ এবং নিরামিষাশীদের জন্য এটি একটি প্রোটিনের ভাল উৎস হিসাবে কাজ করে। আখরোট বা ওয়ালনাট বাদাম আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।

টক দই:

সাধারণ এবং সরল ভাষায়, দই হলো দুধের ব্যাকটেরিয়াল গাঁজনের ফল। আপনার যা দরকার তা হল পাস্তুরাইজড মিল্ক এবং ব্যাকটিরিয়া। দুধের ল্যাকটোজ সুগারকে ল্যাকটিক অ্যাসিডে রূপান্তরিত করে। এই ল্যাকটিক এসিডের কারণেই আমরা দইয়ের অসম্ভব সুন্দর টক স্বাদ উপভোগ করে থাকি। দই যদি আমরা গবেষণাগারে অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নিচে রাখি তাহলে দেখতে পাবো অসংখ্য ব্যাকটেরিয়া বিচরণ করছে। ভয় নেই এগুলো উপকারী ব্যাকটেরিয়া। প্রায়শই কয়েক মিলিয়নে সংখ্যায় থাকে।

নিয়মিত টক দই খেলে মানসিক অশান্তি থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। দইয়ের উপকারী ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর উপাদান আমাদের পেট (লিভার)- থেকে শুরু করে সমস্ত শরীরের অনেক উপকার করে থাকে। তাই টক দই খেলে আত্নবিশ্বাস বৃদ্ধি পায়, সাহস বাড়ে এবং চাপ কমে।

তৈলাক্ত মাছ:

আমরা সবসময় শুনেছি যে সামুদ্রিক মাছ ভাল ‘মস্তিষ্কের খাদ্য’ – তবে কেন? আসুন আমরা DHA হিসাবে পরিচিত ছোট ফ্যাটি অ্যাসিডের বিস্ময়কর গুনের কথা জানি। DHA হল ওমেগা-3 ফ্যাটি অ্যাসিড, যা স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী উভয় স্মৃতি উন্নত করতে সহায়তা করে। অতিরিক্তভাবে, ওমেগা-3 ফ্যাটি অ্যাসিডের উচ্চতর ডায়েট মানসিক স্বাস্থ্য এবং সুস্থতার অনুভূতি বাড়াতে এবং উদ্বেগের মাত্রা হ্রাস করতে সহায়তা করে। কিছু গবেষণা পরামর্শ দেয় যে ওমেগা-3 হতাশার নিরাময়ে সহায়ক হতে পারে এবং মেজাজ-স্থিতিশীল প্রভাব বলে মনে হয়।

সবুজ শাকসবজি:

হতাশা কমাতে চান তাহলে সবুজ শাকসবজি খান। সবুজ শাকসবজি ও কমলালেবু ফোলেট বা ফলিক এসিডের দারুন উৎস। ফোলেট বা ফলিক অ্যাসিড “Folate (Folic Acid, Vitamin B9)” পরিমিত গ্রহণ করলে মানসিক হতাশা কমে। মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সবুজ শাকসবজির কোনো তুলনা হয় না। মেজাজ মুহূর্তেই ভালো করে দিবে এই সবুজ-শাকসবজি। সবুজ শাকসবজি সুষম ডায়েটের অংশ হিসাবে বিভিন্ন ধরণের স্বাস্থ্য উপকার সরবরাহ করে। সবুজ শাকসবজিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস, খনিজ, ফাইবার এবং আরও অনেক কিছু।

জাম:

জাম বা ব্ল্যাকবেরিতে থাকা পলিফেনল নামক রাসায়নিকের কারণে এটি আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। জাম আমাদের জ্ঞানীয় এবং মোটর দক্ষতার উন্নতি করে থাকে। ব্ল্যাকবেরিতে অ্যান্টোসায়ানিনগুলির মতো উচ্চ মাত্রার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টগুলি দেহে ফ্রি র‌্যাডিক্যালগুলির বিরূপ প্রভাবের বিরুদ্ধে লড়াই করতে লোকদের সহায়তা করে। ফ্রি র‌্যাডিকালগুলি কোষকে ক্ষতিগ্রস্থ করতে পারে এবং বয়স্ক প্রক্রিয়া এবং ক্যান্সার এবং হার্টের রোগের মতো অন্যান্য স্বাস্থ্যের অবস্থার সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত বলে মনে করা হয়।

বীজ(seeds):

কুমড়োর বীজ বা অন্য কোনো বীজ। বীজ হলো ম্যাগনেসিয়ামের ভালো উৎস। এটি মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।

এছাড়া beans এন্ড legumes (chickpeas, lentils and kidney beans, for example)- মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। অলিভ অয়েল, sunflower অয়েল এবং আস্ত শস্যদানা খাদ্যতালিকায় রাখুন।

Share