পেস্তা বাদাম হজমের জন্য ভালো, ব্লাড প্রেসার কমাতে ও রক্তনালী ভালো রাখতে দারুন কার্যকরী।

পেস্তা বাদামের রঙের জন্য, সুস্বাদু স্বাদের জন্য, মনোরম হাল্কা গন্ধ এবং ভালো সংরক্ষণ গুনের জন্য অধিক জনপ্রিয়। এই কারণে অন্যান্য বাদামের তুলনায় পেস্তা বাদাম অনেক দামী। এই বাদামের খোলস পাতলা হয়। বাদামগুলো যখন পরিপক্ক হয়ে ওঠে, তখন খোলসটি নিজে থেকেই ফেটে যায়। পেস্তা বাদাম খোলসের ভিতরে একটা লালচে পাতলা বাদামী রঙের আবরনে মোড়া থাকে, এই আবরনকে পেল্লিকেল Pellicel বলা হয়। এই লালচে পাতলা বাদামী রঙের আবরনে মোড়া থাকে সবুজ বর্নের পেস্তা বাদাম।

পেস্তা বাদাম ইংরেজিতে: Pistachio এবং বৈজ্ঞানিক নাম Pistacia vera. পেস্তা বাদামে থেকে তৈরী তেল চর্ম রোগের ওষুধ হিসাবেও ব্যবহার করা হয়। এই বাদামে স্বাস্থ্যকর চর্বি, প্রোটিন, ফাইবার এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এর একটি ভাল উৎস। পেস্তা বাদামে বেশ কয়েকটি প্রয়োজনীয় পুষ্টি রয়েছে যা, ওজন হ্রাস করতে, হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং হজম স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে সহায়তা করতে পারে।

বিশেষ করে পেস্তা বাদামে ভিটামিন বি-6 পর্যাপ্ত পরিমাণে আছে। রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং রক্তে হিমোগ্লোবিন তৈরি করতে ভিটামিন “বি” গুরুত্বপূর্ণ। খ্রিস্টপূর্ব ৭০০০ সাল থেকে লোকেরা পিস্তা খাচ্ছে। আজকাল, আইসক্রিম এবং মিষ্টান্ন সহ অনেক খাবারে পেস্তা বাদাম জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

পেস্তা বাদামের পুষ্টি উপাদান

পেস্তা বাদামে অনেক পুষ্টি উপাদান রয়েছে। আর মধ্যে কয়েকটি গুরত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান নিচে দেওয়া হলো –

  • ক্যালোরি: ১৫৯
  • কার্বহাইড্রেট: ৮ গ্রাম
  • ফাইবার: ৩ গ্রাম
  • প্রোটিন: ৬ গ্রাম
  • ফ্যাট: ১৩ গ্রাম
  • ভিটামিন বি-6: ২৮% (RDI)
  • কপার: ৪১% (RDI)
  • ম্যাঙ্গানিজ: ১৫% (RDI)
  • পটাশিয়াম: ৬% (RDI)

পেস্তা বাদামের স্বাস্থ্য উপকারীতা

এই সবুজ রঙের বাদামটি খেতে যেমন সুস্বাদু তেমনি স্বাস্থ্য উপকারীতার দিক থেকে কোন অংশে কম নয়। নিচে পেস্তা বাদামের স্বাস্থ্য উপকারীতা সম্পর্কে আলোচনা করা হলো –

ওজন হ্রাস করে:

পেস্তা ফাইবার এবং প্রোটিন সমৃদ্ধ, উভয়ই পেট ভরিয়ে রাখতে সাহায্য করে। ফলে বার বার ক্ষুদা লাগার প্রবণতা কমে যায়। অতিরিক্ত ওজন আছে এমন ব্যক্তিদের নিয়ে ২৪-সপ্তাহের একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, যারা পেস্তা বাদাম খাই নাই তাদের তুলনায় যারা পেস্তা বাদাম খেয়েছিল তাদের ওজন হ্রাস পেয়েছিল।

হজম স্বাস্থ্যের জন্য ভালো:

পেস্তা বাদামে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে। ফাইবার আমাদের পাচনতন্ত্রের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় কিছু ফাইবার অন্ত্রের ভাল ব্যাকটিরিয়া দ্বারা হজম হয় আর কিছু ফাইবার হজম হয় না।

ফাইবার অন্ত্রের ভাল ব্যাকটিরিয়া দ্বারা হজম হয়ে এটিকে শর্ট-চেইন ফ্যাটি অ্যাসিডে রূপান্তরিত করে। যা হজমজনিত জনিত যেকোন সমস্যা দূর করতে পারে। তাই হজম স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে আমরা পেস্তা বাদাম খেতে পারি।

উচ্চ রক্তচাপ কমিয়ে দিতে পারে:

গবেষণায় দেখা গেছে, পেস্তা LDL (খারাপ) কোলেস্টেরলের মাত্রা হ্রাস করতে এবং HDL (ভাল) কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি করতে পারে। এছাড়া ২১ টি সমীক্ষার পর্যালোচনাতে দেখা গেছে যে, পেস্তা বাদাম উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সহায়তা করে। ফলে হার্টের রোগের ঝুঁকি হ্রাস পাই।

অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টের পরিমাণ বেশি:

অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কোষের ক্ষতি হ্রাস করতে এবং ক্যান্সারের মতো রোগের ঝুঁকি কমাতে মূল ভূমিকা পালন করে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট। পেস্তা বাদামে অন্যান্য বাদামের চেয়ে বেশি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে।

পেস্তায় লুটেইন এবং জেক্সানথিন (zeaxanthin) পরিমাণে বেশি রয়েছে, যা উভয়ই চোখের স্বাস্থ্যের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস। এছাড়া পেস্তাতে প্রচুর পরিমাণে পলিফেনল এবং টোকোফেরল নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে যা ক্যান্সার এবং হার্টের রোগ থেকে আমাদের রক্ষা করতে পারে।

ক্যালোরি কম তবে প্রোটিন বেশি:

অন্যান্য বাদামের তুলনায় পেস্তা বাদামে ক্যালোরি তুলনামূলক কম। ২৮ গ্রাম পেস্তাতে ১৫৯ ক্যালোরি রয়েছে। পেস্তা বাদামের ওজনের প্রায় ২০% প্রোটিন, প্রোটিন সামগ্রীর দিক থেকে আমন্ডের পরেই পেস্তা বাদাম।

এতে উচ্চ পরিমাণে অ্যামিনো অ্যাসিড রয়েছে, আমাদের দেহ অ্যামিনো অ্যাসিড কে প্রোটিন তৈরি করতে ব্যবহার করে। অ্যামিনো অ্যাসিড শরীরের অপরিহার্য। কিন্তু আমাদের দেহে অ্যামিনো অ্যাসিড তৈরি হয় না অবশ্যই এটি ডায়েট থেকে নেওয়া উচিত। এক্ষেত্রে আমরা পেস্তা বাদাম খেতে পারি।

রক্তনালী স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে পারে:

পেস্তা বাদাম রক্তনালীর স্বাস্থ্যের ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কারণ পেস্তা বাদাম এল-আর্গিনিনে (L-arginine) সমৃদ্ধ, যা নাইট্রিক অক্সাইডে রূপান্তরিত হয়ে রক্তনালীগুলোকে আলাদা করতে সহায়তা করে।

রক্তে শর্করাকে কমাতে সাহায্য করতে পারে:

এই বাদামে কার্বহাইড্রেটের পরিমাণ বেশি থাকলেও গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম রয়েছে। যার ফলে পেস্তা বাদাম রক্তে শর্করার উপরে বড় ধরণের স্পাইক তৈরি করে না। ১২-সপ্তাহের গবেষণায় দেখা গেছে, টাইপ-2 ডায়াবেটিসযুক্ত ব্যক্তিরা প্রতিদিন ২ বার ২৫ গ্রাম পেস্তা বাদাম খাওয়ার পরে রক্তে শর্করার পরিমাণ ৯% হ্রাস পেয়েছিল।

পেস্তা বাদাম ফাইবার এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাট সমৃদ্ধ হওয়ার সাথে সাথে পেস্তা বাদামে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস, ক্যারোটিনয়েড এবং ফেনলিক যৌগ সমৃদ্ধ, এগুলি সবই রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণের জন্য উপকারী। তাই কেবল মাত্র ডায়েটে পেস্তা বাদাম রাখার মধ্যে আপনার রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক রাখতে পারেন।

সতর্কতা

আপনি যদি জটিল কোনো রোগে আক্রান্ত হন বা অন্য কোনো কারণে রেগুলার কোনো মেডিকেল কোর্স-এর মধ্য দিয়ে যান তাহলে পেস্তা বাদাম খাওয়ার আগে অবশ্যই আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ নিবেন।

সূত্র: হেলথলাইন, wikipedia

Share