টক মিষ্টি স্বাদের ফল “বরই” কোষ্টকাঠিন্য দূর করে ও টেনশন, উদ্বিগ্নতা কমায়।

বাংলাদেশের খুবই জনপ্রিয় একটি মৌসুমী ফল বরই বা কুল।Jujube বা বরই বা কুল গ্রীষ্মপ্রধান এলাকার ফল। এটি ইন্ডিয়ান Jujube নামেও পরিচিত কিন্তু বাংলাদেশে স্থানীয় ভাষায় পুষ্টিসমৃদ্ধ এই ফলটি বরই নামে পরিচিত। Ziziphus mouritiana এর সাইন্টিফিক নাম। টক, মিষ্টি স্বাদের এই ফলটি কাঁচা অবস্থায় সবুজ থাকে। পরিপক্ব অবস্থায় হলুদ বর্ণ ধারণ করে এবং অতিরিক্ত পেকে গেলে গাঢ় বাদামি খেজুরের মতো বর্ণ ধারণ করে কুঁচকে নরম তুলতুলে ও রাবারের মতো হয়ে যায়।

বরই রোদে শুকিয়ে সারা বছর খাওয়ার জন্য রেখে দেয়া হয়। বরই আঁচার বা বরই চাটনী ছোট্ট শিশু থেকে বুড়া সবাই খেতে খুব ভালোবাসে। শুকানো আস্ত বরই বা বরই গুঁড়ো করে খেজুরের গুড়ের সাথে মিশিয়ে আঁচার বানানো হয়। এটি দুধ ভাতের সাথে খেতে খুব ভালো লাগে।রোদে শুকানো বরই দিয়ে চাটনি খেতেও খুব মজা লাগে।

বরই বিভিন্ন আকার ও আকৃতির হয়ে থাকে। এটি গোল, ডিম্বাকৃতি, obovate, oblong ইত্যাদি আকারের হয়ে থাকে।

বাংলাদেশের জনপ্রিয় ফল বরই

1.  ভিটামিন “সি” সমৃদ্ধ :

বরইকে ভিটামিন ও এন্টিঅক্সিডেন্টের পাওয়ার হাউস বলা হয়। বরইতে সবচেয়ে বেশি পাওয়া যাই ভিটামিন সি। ১০০ গ্রামে ৬৯ মিলিগ্রাম পর্যন্ত ভিটামিন সি পাওয়া যায়। এটি ত্বকের উজ্বলতা বাড়ায়, ফ্রি রেডিক্যালস প্রতিহত করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে রোগকে দূরে রাখে।

2. পায়খানা নরম করে বা কোষ্টকাঠিন্য থেকে মুক্তি :

কোষ্টকাঠিন্য হলে মানুষ খোলাখুলি ভাবে অন্যকে বলতে চাই না। সে এটি প্রকাশ করতে বিব্রত বোধ করে। বর্তমান বাংলাদেশে ক্রনিক কোষ্টকাঠিন্য রোগীর সংখ্যা যেভাবে বেড়েছে তাতে করে বরই তাদের জন্য হতে পারে একটি উত্তম পথ্য। বরইতে থাকা উচ্চ পরিমানে ফাইবার bowel মুভমেন্ট স্বাভাবিক করে।

3. টেনশন ও চাপ কমায়

4. ভালো ঘুম আনে :

চীন দেশে বহু বছর আগে থেকে অনিদ্রাজনিত সমস্যায় বরই ব্যবহার হয়ে আসছে। বরই ফল এবং এর বীজ দুটোতেই স্যাপোনিন ও পলিস্যাকারাইড নামক flavonoids রয়েছে। saponin- প্রাকৃতিক ঘুম বৃদ্ধিকারক। পুরো স্নায়ু গুলোকে শীতল করে নিদ্রা আনায়নে সহায়তা করে।

5.রক্তচলাচল ভালো করে :

বরইতে সোডিয়াম ও ক্লোরাইড অর্থাৎ লবন খুবই কম থাকে এবং পটাসিয়াম বেশি থাকে। এর ফলে আমাদের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। পটাশিয়াম ব্লাড vessels গুলোকে শিথিল ও আলগা করে। সুন্দর, smooth রক্ত চলাচল নিশ্চিত হয়।

6.ত্বক ভালো রাখে

7. হাড় শক্ত করে।

বর্তমানে বাজারে আপেল কুল ও বাউকুল নামে দুটো নতুন জাতের কুল পাওয়া যায়। লাল টুকটুকে আপেল কুল খুব মিষ্টি হয়ে থাকে এবং বাউকুল সাইজে অন্য কুলের থেকে বড়ো হয়ে থাকে।

 

Share