খেজুর মস্তিষ্ক সুস্থ্য রাখে, শক্তি যোগায় ও গর্ভবতী মহিলাদের জন্য ভালো।

খেজুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। যদি আপনি প্রতিদিন কয়েকটি খেজুর খান তাহলে আপনাকে ভিটামিন সম্পূরক গ্রহণ করতে হবে না। এটি শুধু আপনাকে সুস্থ্যই রাখবে না আপনার শক্তির মাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে কারণ খেজুরে প্রাকৃতিক শর্করা যেমনঃ গ্লুকোজ, সুক্রোজ ও ফ্রুক্টোজ থাকে। Quick Snack হিসাবে খেজুরের জুড়ি মেলা ভার অর্থাৎ দ্রুত জল-খাবার হিসাবে খেজুর সত্যি ভালো কাজ করে।

খেজুর অত্যন্ত সুস্বাদু ও বেশ পরিচিত একটি ফল। যা ফ্রুকটোজ এবং গ্লাইসেমিক সমৃদ্ধ। খেঁজুর অতি মিষ্টি একটি ফল। পাম পরিবারের ফ্লাওয়ারিং উদ্ভিদ প্রজাতি যেটা dates বা date palm হিসাবে পরিচিত। এর বৈজ্ঞানিক নাম Phoenix dactylifera. খেজুরের আদি উৎপত্তিস্থল হলো ইরাক। হিন্দিতে খাজুর, আরবীতে-তাওয়ারিখ, ফ্রেঞ্চ-palmier এবং বাংলায় খেজুর নামে পরিচিত অতি সুস্বাদু, পুষ্টিকর ও মিষ্টি এই ফলটি।

খেজুরের পুষ্টি উপাদান

খেজুরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ফাইবার ছাড়াও কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন এবং খনিজ থাকে। নিচে এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদানগুলো দেওয়া হলো –

  • ক্যালোরি: ২৭৭
  • কার্বহাইড্রেট: ৭৫ গ্রাম
  • ফাইবার: ৭ গ্রাম
  • পটাসিয়াম: ২০% (RDI)
  • ম্যাগনেসিয়াম: ১৪% (RDI)
  • কপার: ১৮% (RDI)
  • ম্যাঙ্গানিজ: ১৫% (RDI)
  • আয়রন: ৫% (RDI)
  • ভিটামিন বি-6: ১২% (RDI)

খেজুরের উপকারিতা

পুষ্টিগুণে ভরপুর খেজুরে রয়েছে ভিটামিন, আঁশ, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ফসফরাস, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও জিঙ্ক। পুষ্টিবিদদের মতে, শরীরের প্রয়োজনীয় আয়রনের অনেকটাই খেজুর থেকে আসে। নিচে খেজুরের প্রমাণিত স্বাস্থ্য উপকারিতা আলোচনা করা হলো –

শক্তির উৎস:

খেঁজুরে প্রাকৃতিক শর্করা গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ এবং সুক্রোজ খুব বেশি পরিমানে থাকে। খেজুরে উপস্থিত এই উচ্চ পরিমানে চিনি আমাদের শরীরে উচ্চ পরিমানে শক্তি সরবরাহ করে থাকে।

খেজুর অলসবোধ দূর করে অর্থাৎ অবসন্ন ও জড়তাগ্রস্ত কাটিয়ে দ্রুত শক্তির মাত্রা বৃদ্ধি করে। অনেকেই আপনারা ব্যায়াম করতে প্রতিদিন জিমে যান। কেউবা বাড়িতে মেশিন কিনে অর্থাৎ ব্যায়ামের সরঞ্জাময়াদী কিনে ব্যায়াম করেন বা যোগ ব্যায়াম করেন।

খালি হাতে বা ভারী যন্ত্রপাতি যেভাবেই ব্যায়াম করি না কেন কিছুক্ষণ ব্যায়াম করার পরে আমরা ক্লান্ত বোধ করি। প্রয়োজনীয় পুষ্টি সমৃদ্ধ খেজুর আপনার হারানো শক্তি অনতিবিলম্বে পুনরুদ্ধার করতে ম্যাজিকের মতো কাজ করে।

উচ্চ ফাইবার সমৃদ্ধ:

পর্যাপ্ত পরিমাণে ফাইবার গ্রহণ করা স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ৩.৫ আউন্স খেজুর থেকে আমরা প্রায় ৭ গ্রাম ফাইবার পেতে পারি। কোষ্ঠকাঠিন্য রোধে ফাইবার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। উচ্চ ফাইবার সমৃদ্ধ খেজুর মলের পরিমাণ বৃদ্ধি করে নিয়মিত অন্ত্রের গতিবিধি ঠিক রাখতে সহায়তা করে।

২১ জনের একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, যারা ২১ দিন ধরে প্রতিদিন ৭ টি খেজুর গ্রহণ করেছিলেন তাদের মলের গতিবিধি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছিল।

মস্তিষ্কের জন্য ভালো:

খেজুর মস্তিষ্কের কার্যকারিতা উন্নত করতে সহায়তা করতে পারে। কিছু কিছু খাবার আছে যেগুলো মস্তৃষ্কের কার্যকারিতা প্রাকৃতিকভাবে দীর্ঘায়িত করতে পারে। এসব খাবারের মধ্যে খেজুর রয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, অ্যামাইলয়েড বিটা প্রোটিনগুলির ক্রিয়াকলাপ হ্রাস করার জন্য খেজুর সহায়ক, যা মস্তিষ্কে ফলক তৈরি করতে পারে। যখন ফলক মস্তিস্কে জমা হয়, তখন মস্তিষ্কের কোষগুলির মধ্যে যোগাযোগকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত মস্তিষ্কের কোষের মৃত্যু এবং আলঝাইমার ডিজিজের কারণ হতে পারে।

খেজুর খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা মস্তৃষ্কের ক্ষমতা ধরে রাখার একটি দুর্দান্ত উপায়।

গর্ভবতী মহিলাদের জন্য ভালো:

গর্ভাবস্থার শেষ কয়েক সপ্তাহ জুড়ে খেজুর খেলে বাচ্চা প্রসব কালীন শ্রমের প্রয়োজনীয়তা হ্রাস করতে পারে। এটি প্রসব কালীন শ্রমের সময় হ্রাস করতেও সহায়তা করতে পারে।

একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, ৬৯ জন মহিলা যারা তাদের নির্ধারিত তারিখের আগে ৪ সপ্তাহের জন্য প্রতিদিন ৬ টি খেজুর গ্রহণ করেছিলেন তাদের প্রাকৃতিকভাবে শ্রমে যাওয়ার সম্ভাবনা ২০% বেশি ছিল এবং যারা এগুলি খায়নি তাদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম সময়ের জন্য শ্রমের মধ্যে ছিলেন।

হাড়ের স্বাস্থ্য:

খেজুরে ফসফরাস, পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম সহ বেশ কয়েকটি খনিজ থাকে। অস্টিওপোরোসিসের মতো হাড়-সংক্রান্ত অবস্থার প্রতিরোধ করতে সাহায্য করতে পারে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে:

খেজুরে বেশ কয়েক ধরণের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে যা হার্টের রোগ, ক্যান্সার, আলঝাইমার এবং ডায়াবেটিসের মতো নির্দিষ্ট দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতার বিকাশ রোধ করতে পারে।

এতে ফ্ল্যাভোনয়েড নামক শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট রয়েছে যা প্রদাহ হ্রাস করতে সাহায্য করতে পারে এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে ও অ্যালঝাইমার ডিজিজ সারাতে সাহায্য করে।

এছাড়া খেজুরে রয়েছে ক্যারোটিনয়েডস যা হার্টের ‌রোগ উন্নতি করতে এবং ম্যাকুলার অবক্ষয়জনিত চক্ষু সংক্রান্ত ব্যাধিগুলির ঝুঁকিও হ্রাস করতে পারে।

ডায়াবেটিস রোগীরা কি খেঁজুর খেতে পারবেন?

হ্যা, ডায়াবেটিস রোগীরা খেঁজুর খেতে পারবেন। ডায়াবেটিস রোগীরা তাদের চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখলে খেজুর সেবন করতে পারেন। যে সমস্ত ডায়াবেটিস রোগীরা তাদের সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখেন, নিয়মিত ব্যায়াম করেন , এবং স্বাস্থ্যকর খাওয়ার অভ্যাস বজায় রাখেন তারা ২-১টা খেজুর খেতেই পারেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যেহেতু খেজুরে উচ্চপরিমানে ফাইবার রয়েছে সেহেতু ডায়াবেটিস রোগীরা খেজুরের উচ্চ ফাইবার থেকে উপকৃত হতে পারে।

সতর্কতা

দিনে ৫-৬ টির বেশি খেজুর খাওয়া ঠিক নয়। অতিরিক্ত খেলে ওজন বেড়ে যেতে পারে। রক্তে সুগারের পরিমান বেড়ে যেতে পারে। এছাড়া আপনি যদি জটিল কোনো রোগে আক্রান্ত হন বা অন্য কোনো কারণে রেগুলার কোনো মেডিকেল কোর্স-এর মধ্য দিয়ে যান তাহলে খেজুর খাওয়ার আগে অবশ্যই আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ নিবেন।

উৎস: healthline

Share