ঠান্ডা লেগে গলায় ব্যথা হলে কি করবেন?

ঋতু পরিবর্তন মানেই ঘরে ঘরে সর্দি-কাশি, ঠান্ডা-জ্বরের সমস্যা। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অসুস্থ্য হওয়ার পূর্ব লক্ষণ হিসেবে গলা ব্যথা করে। গলা ব্যথা যাকে ইংরেজিতে বলা হয় Sore Throat. সাধারণত ঠান্ডা লাগা বা জীবাণুর সংক্রমণের মাধ্যমে গলায় এই সমস্যা হয়।

গলায় ব্যথা সাধারণ একটি স্বাস্থ্য সমস্যা হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা অন্য কোন জটিল অসুখের পূর্ব লক্ষণ হিসেবে প্রকাশ পেতে পারে। ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ, ঠাণ্ডা লাগা, ঋতু পরিবর্তন ইত্যাদি কারণে গলা ব্যথা হতে পারে।

গলায় সমস্যা হলে কথা বলায় অসহ্য যন্ত্রণাদায়ক পরিস্থিতিতে পড়তে হয় এবং অতিরিক্ত ব্যথা হলে গলা অনেক সময় ফুলেও যায়।

ব্যাকটিরিয়া সংক্রমণের ফলেও গলাতে সমস্যা হতে পারে। স্ট্রেপ্টোকোকাস ব্যাকটেরিয়া দ্বারা গলা এবং টনসিলের সংক্রমণ হয়। স্ট্রেপ্টোকোকাস কারণে গলা ব্যথা শিশুদের মধ্যে প্রায় ৪০% হয়ে থাকে।

এছাড়া অনেক সময় এলার্জিজনিত সমস্যা, শুষ্ক আবহাওয়া, ধূমপান, অধিক মশলাযুক্ত খাবারের কারণেও অনেক সময় গলা ব্যথা হতে পারে।

সাধারণ গলা ব্যথায় ওষুধের পরিবর্তে প্রাকৃতিক উপায় চেষ্টা করা যেতে পারে। আসুন জেনে নেওয়া যাক, ঠান্ডা লেগে গলায় ব্যথা হলে কি করবেন-

আপেল সিডার ভিনেগার:

অ্যাপল সিডার ভিনেগারে রয়েছে অনেক প্রাকৃতিক অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য। এটি গলাতে জমে থাকা শ্লেষ্মা দূর করতে এবং ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়ে পড়া বন্ধ করতে সহায়তা করে। তাই গলায় ব্যথা হলে এক কাপ পানিতে ১ থেকে ২ টেবিল চামচ আপেল সিডার ভিনেগার মিশিয়ে গার্গল করুন।

মধু:

মধু তার অ্যান্টিব্যাকটিরিয়াল এবং অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি বৈশিষ্ট্যগুলির জন্য পরিচিত। এটি প্রাচীন কাল থেকেই গলা ব্যথা নিরাময়ের জন্য ব্যবহৃত হয়।

এক কাপ গরম পানি এক থেকে দুই চামচ মধু মেশান এবং দিনে দুই থেকে তিনবার পান করুন অথবা ঘুমাতে যাওয়ার আগে আপনি এক চা চামচ মধু খেতে পারেন।

একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে যে মধু সাধারণ কাশি কমানো ঔষধের তুলনায় বেশি কার্যকর ছিল।

লেবুর রস:

গলা ব্যথা কমাতে লেবুর রস খুবই কার্যকরী। উষ্ণ পানিতে এক চামচ পাতিলেবুর রস, এক চামচ মধু, আধা চামচ লবণ ভালো করে মিশিয়ে নিন। যত দিন গলা ব্যথা ভাল না হয়, তত দিন পর্যন্ত এই মিশ্রণটি সেবন করুন।

টনসিলের সম্যসা দূর করার জন্যও এটি বেশ কার্যকরী

লবণ পানিতে গার্গল:

ঠান্ডা লেগে গলায় ব্যথা হলে লবণ পানি সবথেকে কার্যকরী ঘরোয়া উপায়। এক গ্লাস গরম পানিতে আধা চা চামচ লবণ দিয়ে লবণ পানি তৈরি করে নিন। তারপর মুখের ভিতর লবণ পানি নিয়ে টানা তিন থেকে চার বার গার্গল করতে হবে।

এতে গলা ব্যথা কমে যাবে এবং গলায় জমে থাকা ব্যাকটিরিয়া মারতে সহায়তা করে।

আদা:

আদায় অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি এবং অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্যের জন্য এটি গলা ব্যথা সারাতে সহায়তা করে। পানি গরম করে তাতে কয়েক টুকরো আদা দিন। এরপর এটি প্রায় ৫-১০ মিনিটের জন্য ফোটান।

দিনে কমপক্ষে দু’বার এই পানি পান করুন। প্রয়োজনে এতে এক চা চামচ মধুও যোগ করতে পারেন।

হলুদ:

অ্যান্টিসেপটিক এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্যের জন্য পরিচিত হলুদ গলা ব্যথা নিরাময়ের জন্য অন্যতম সেরা উপাদান। খানিকটা হলুদ গুঁড়ো এক গ্লাস গরম পানির সাথে মিশিয়ে নিন এবং তারপরে সকালে খালি পেটে পান করুন। দুধের সাথেও হলুদ মিশিয়ে খেতে পারেন।

রসুন:

রসুনে প্রাকৃতিক অ্যান্টিব্যাকটিরিয়াল বৈশিষ্ট্যও রয়েছে। এতে অ্যালিসিন রয়েছে, অ্যালিসিন একটি অর্গানসালফার যৌগ যা সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াইয করতে পারে। স্টাডিজ ট্রাস্টেড উৎস দেখিয়েছে যে, নিয়মিত রসুনের পরিপূরক গ্রহণ সাধারণ ঠান্ডা ভাইরাস প্রতিরোধে সহায়তা করতে পারে।

রসুনের মধ্যে থাকা অ্যালিসিন গলা ব্যথার কারণ ব্যাকটিরিয়াকে মেরে ফেলতে সহায়তা করে।

লবঙ্গ:

গলায় ব্যথা হলে মাঝে মাঝেই মুখে দুটি লবঙ্গ রাখুন এবং সেগুলি নরম হওয়ার পর চিবিয়ে গিলে ফেলুন। এটি কার্যকরভাবে গলা ব্যথা নিরাময়ে সহায়তা করে।

চা-পাতি, আদা ও তুলসি পাতা:

গলা ব্যথা দূর করতে চা-পাতি, আদা ও তুলসি পাতা দিয়ে চা পানে ভালো সুফল পাওয়া যায়। ১ কাপ পরিষ্কার ফুটানো পানি পাত্রে নিয়ে এতে ১/২ চা চামচ টুকরো করা আদা, ১/২ চা চামচ চা-পাতি, ২-৩ টি তুলসি পাতা দিয়ে ৫-১০ মিনিট চুলায় গরম করতে হবে।

৫-১০ মিনিট পরে এটি নামিয়ে পান করুন। এটি পানে গলা ব্যথা থেকে আরাম পাওয়া যায়, তুলসি পাতায় ভেষজ গুণ রয়েছে যা গলা ব্যথা সারাতে অত্যন্ত কার্যকরী।

মেথি:

মেথির অনেকগুলি স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে। গলায় ব্যথা কমানোর জন্য মেথির হলো প্রাকৃতিক প্রতিকার। মেথিতে আছে এন্টিফাঙ্গাল যা গলা ব্যথা উপশম করতে সাহায্য করে।

আস্ত মেথি পানিতে সারা রাত ভিজিয়ে রেখে বা মেথির চা পান করতে পারেন। এতে গলা ব্যথা দূর হবে দ্রুত।

যদি এসব ঘরোয়া পদ্ধতিতেও যদি গলায় ব্যথা না কমে তাহলে শীঘ্রই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

রেফারেন্স:

Share