চুলের আগা ফাটা রোধ করার প্রাকৃতিক উপায়।

চুলের প্রতি যারা একটু বেশি যত্নশীল তারা একটা জিনিসে একটু বেশি সচেতন থাকে তাহলো চুলের আগা ফাটা। চুলের আগা ফাটা হলো চুলের পুষ্টিহীনতার অন্যতম লক্ষণ। চুলের উজ্জ্বলতা, ঝলমলে ভাব নষ্ট হয়ে যায় চুলের আগা ফেটে গেলে। এছাড়া চুলের বৃদ্ধিও কমে যায়।

আসলে বিভিন্ন কারণে চুলের আগা ফেটতে পারে, তার মধ্যে একটি কারণ হলো অতিরিক্ত কৃত্তিম উপাদান ব্যবহার করা। অতিরিক্ত শ্যাম্পু ব্যবহারের ফলে, হেয়ার কালার, হেয়ার জেল ইত্যাদি ব্যবহারের ফলে চুল ও মাথার ত্বকের ক্ষতিকর হয়।

এজন্য চুলকে সুন্দর রাখতে হলে ভালো করে চুলের যত্ন নিতে হবে। চুলের আগা ফেটে গেলে চুল লালচে ও আঁশের মত দেখায়। এটি দেখতে খুবই খারাপ লাগে। তাই চুলের আগা ফেটে গেলে মন খারাপ করে বসে না থেকে দ্রুত সমাধানের উপায় বের করা উচিত।

চলুন এবার জেনে নেওয়া যাক, কী কী উপায়ে চুলের আগা ফাটা রোধ করা যায়-

পাকা কলা:
কলাতে রয়েছে পটাশিয়াম, জিঙ্ক, ভিটামিন “সি” যা চুলের ময়েশ্চারাইজা়র ধরে রাখে এবং চুলের আগা ফাটা রোধ করে। তাই আমাদের নিয়মিত কলা খাওয়া অত্যন্ত জরুরী।

এছাড়া একটি পাকা কলা, দুই চামচ টক দই, এক চামচ গোলাপজল ও আধা চামচ লেবুর রস দিয়ে একটি প্যাক তৈরি করে চুলে লাগান। এক ঘণ্টা পর ভালো করে শ্যাম্পু করে নিন। এভাবে কিছুদিনে করলে আগা ফাটা একেবারেই কমে যাবে।

ডিম:
চুলের পুষ্টি যোগাতে প্রতিদিন একটি করে ডিম খাওয়া প্রয়োজন। ডিমের সাদা অংশের সঙ্গে অলিভ অয়েল মিশিয়ে ফেটিয়ে নিন ভালো করে। এছাড়া এর সঙ্গে এক চামচ মধু ভালো করে মিশিয়ে নিন। এই হেয়ার প্যাকটি চুলের আগায় লাগিয়ে ১ ঘণ্টা রাখুন। তারপর শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে কন্ডিশনার লাগান। এতে করে চুলের আগা ফাটা দূর হবে।

অ্যালোভেরা:
অ্যালোভেরাকে বলা হয় জাদুকরি উদ্ভিদ। এটি যেমন পুষ্টিগুণে অনন্য, তেমনি রূপচর্চায়ও এর জুড়ি মেলা ভার। অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারীর নানা গুণ অনেকেরই জানা। চুলের যত্নেও অ্যালোভেরার আছে নানা ভূমিকা। চুল মজবুত ও লম্বা করতে অ্যালোভেরা বেশ কার্যকর।

অ্যালোভেরাতে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা মাথার ত্বককে ঠান্ডা রাখে এবং ময়লা থেকে দূরে রাখে, চুলের স্বাস্থ্যকর বৃদ্ধিকে আরও বাড়িয়ে তোলে। ২-৩টি অ্যালোভেরার পাতা থেকে জেল বের করে ভালো করে চুলে লাগিয়ে নিন। এভাবে ৩০-৪০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।

পেঁপে:
পেঁপেতে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন আছে। যা চুলে পুষ্টি যোগায়। এটি চুলের ডগা ফাটা রোধ করার পাশাপাশি চুলকে মসৃণ ও নরম করে তোলে। পেঁপেতে ফলিক এসিডও থাকে। ফলিক অ্যাসিড মাথার ত্বক এবং চুলে রক্ত সঞ্চালন উন্নত করতে সাহায্য করে। এছাড়া এই ফলটিতে ভিটামিন “এ” রয়েছে যা সেবামের উৎপাদন বৃদ্ধি করে। সেবাম শরীরে বিদ্যমান প্রাকৃতিক তেল। পেঁপে পেস্ট করে নিয়ে তার সাথে দই মিশিয়ে নিতে হবে। এবার চুলে লাগিয়ে ৩০-৪৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। আধা ঘন্টা পর শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন।

মধু:
স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মধু ত্বক ও চুলের জন্যও খুব উপকারী। এক চামচ মধুর সঙ্গে সামান্য দই, অলিভ অয়েল এবং ডিমের কুসুম মিশিয়ে চুলে লাগান। ২০ মিনিট অপেক্ষা করে শ্যম্পু করে ফেলুন।

মসুরের ডাল:
মুসরের ডাল রূপচর্চা ও শরীরচর্চা উভয় কাজেই লাগে। এটি যেমন মুখের ত্বকের জন্য উপকারী তেমনই এটি মাথার ত্বকের জন্যও খুব ভালো। রাতে একটি পাত্রে খানিকটা মুসুর ডাল ভিজিয়ে রাখুন। পরদিন পাটায় কিংবা ব্লেন্ড করে নিয়ে এর সঙ্গে এক চামচ মেথি গুঁড়ো ও এক কাপ টক দই মিশিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করুন। মিশ্রণটি চুলে লাগিয়ে এক ঘন্টা অপেক্ষা করুন। এরপর শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন।

নারকেল তেল:
চুল ফাটা রোধ করতে সবচেয়ে কার্যকরী সমাধান হলো নারকেল তেল। তেল চুলকে ময়েশ্চারাইজ় করতে সাহায্য করে। মাথার ত্বক ও চুলে ভালো রাখতে নিয়মিত নারকেল তেল দিয়ে ম্যাসাজ করুন। চুল যেদিন শ্যাম্পু করবেন তার আগের রাতে তেল দিয়ে নিন। পরদিন সকালে শ্যাম্পু করে নিন।

জবা ফুলের রস:
জবা ফুল অ্যামিনো অ্যাসিড সমৃদ্ধ যা চুলের গোড়া শক্ত করে এবং চুল ময়শ্চারাইজিং করে তোলে। জবা ফুল চুলের আগা ফাটা রোধ করতে খুবই কার্যকরী। সেক্ষেত্রে, একটি পাত্রে নারকেল তেল নিয়ে তার মধ্যে ২-৩টি জবা ফুল দিয়ে তেলটা গরম করুন। এরপর পাতলা কাপড় দিয়ে ছেঁকে ঠান্ডা করে চুলে লাগান। এটি চুলের আগা ফাটাসহ অন্যান্য সমস্যা দূর করে।

অলিভ অয়েল:
অলিভ অয়েল ত্বকের যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি চুলের জন্যেও উপকারী। চুলের গোড়ার সাথে সাথে চুলের আগাতেও অলিভ অয়েল প্রয়োগ করুন। এতে চুলের আগা ফাটার পরিমাণ কমে যাবে।

লেবুর রস:
চুলের আগা ফাটা রোধ করতে ব্যবহার করতে পারেন লেবুর রস। লেবুর রসের সাথে সমপরিমাণ পানি মিশিয়ে চুলের আগায় ভালো করে লাগান। ২০ মিনিট রেখে চুল ধুয়ে ফেলুন।