কামরাঙ্গা রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা হ্রাস করে এবং ত্বকের জন্য ভালো।

কামরাঙ্গা কেটে প্লেটে সাজিয়ে রাখলে মনে হবে আকাশে ছোট ছোট তারা সারিব্ধভাবে বসে আছে। দেখতে তারার মতো তাই ইংরেজিতে একে বলা হয় star fruit এছাড়া এটি carambola (ক্যারাম্বলা) নামেও পরিচিত। টক মিষ্টি স্বাদের এই ফলটির নাম শুনলেই কেমন জিভে পানি চলে আসে। কামরাঙ্গা থেকে তৈরি করা হয় নানা রকম খাবার যেমন- জেলি, জ্যাম, মোরব্বা, চাটনি ও আচার। কামরাঙ্গা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এর স্বাস্থ্য উপকারীতা ছাড়া আর একটি আর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপকারীতা আছে। সেটা হলো -কাপড়ে লোহার দাগ লাগলে, এক টুকরো কামরাঙা কেটে দাগের উপর ঘষতে হবে, দাগ উঠে যাবে।

অনেকে বলেন কামরাঙ্গা খাওয়া ক্ষতিকর। এমন একটি সুস্বাদু ফল কামরাঙ্গা খাওয়া কি ক্ষতিকর হতে পারে? যেকোন টক জাতীয় ফলে ভিটামিন “সি” থাকে এটা আমরা সবাই জানি। কামরাঙ্গাতে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন “সি” আর ভিটামিন “সি” এর উপকারীতা সম্পর্কেও আমরা অবগত। কামরাঙ্গাতে স্বল্প পরিমাণে ক্যালোরি, ফাইবার, ভিটামিন “বি” এবং ফসফরাস, ম্যাগনেসিয়াম এবং পটাসিয়াম রয়েছে। নিয়মিত কামরাঙ্গা খেলে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। এছাড়া পাকা কামরাঙ্গা রক্তক্ষরণ বন্ধ করে। ফল এবং পাতা গরম পানিতে সিদ্ধ করে পান করলে বমি বন্ধ হয়। পাতা ও ডগার গুঁড়া সেবনে জলবসন্ত ও কৃমি নিরাময় হয়।

কামরাঙ্গার পুষ্টি উপাদান

কামরাঙ্গাতে থাকা বিশেষ কিছু পুষ্টিউপাদান দেওয়া হলো-

  • পানি:৯১.৪গ্রাম
  • ফাইবার: ৩ গ্রাম
  • প্রোটিন: ১ গ্রাম
  • ভিটামিন “সি”: ৫২% (RDI)
  • ভিটামিন “বি” 5: ৪%(RDI)
  • ফোলেট: ৩%(RDI)
  • কপার: ৬%(RDI)
  • পটাসিয়াম: ৩%(RDI)
  • ম্যাগনেসিয়াম: ২%(RDI)

কামরাঙ্গার উপকারীতা

কামরাঙ্গা কোরেসেটিন, গ্যালিক এসিড এবং এপিকেচিন সহ স্বাস্থ্যকর যৌগের একটি দুর্দান্ত উৎস। এই যৌগগুলিতে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের বৈশিষ্ট্য রয়েছে। নিচে কামরাঙ্গার উপকারীতা নিয়ে আলোচনা করা হলো –

হার্ট বান্ধব:

কামরাঙ্গা সোডিয়াম এবং পটাসিয়াম সমৃদ্ধ যা দেহে ইলেক্ট্রোলাইট হিসাবে কাজ করে যা ফলস্বরূপ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। এই খনিজগুলি শরীরের নিয়মিত হার্ট বিটের মাত্রা এবং নিরবিচ্ছিন্ন রক্ত প্রবাহকেও নিশ্চিত করে।

হজম শক্তি বৃদ্ধি করে:

কামরাঙ্গাতে উপস্থিত ডায়েটরি ফাইবার হজমশক্তি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি পাচনতন্ত্রের মাধ্যমে মলের পরিমাণ বৃদ্ধি করে কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি দেয়।

কোলেস্টেরলের মাত্রা হ্রাস করতে সহায়তা করে:

কামরাঙ্গাতে উচ্চ মাত্রার ডায়েটরি ফাইবার রয়েছে যা কোলেস্টেরলের মাত্রা কমানোর জন্য দুর্দান্ত। কোলেস্টেরলের মাত্রা ঠিক থাকলে হার্ট ডিজিজ, স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক এবং অন্যান্য রোগের ঝুঁকি হ্রাস পায়।

ত্বকের জন্য দুর্দান্ত:

কামরাঙ্গায় প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস ও ভিটামিন রয়েছে, যা ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। এই ফল খাওয়ার পাশিপাশি নিয়মিত এর রস ত্বকে ব্যবহার করতে পারেন। এটি ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখবে এবং ত্বক দাগমুক্ত রাখবে।

ব্রণ দূর করে:

কামরাঙ্গা ব্রণ দূর করতে বেশ কার্যকর। কামরাঙার রসের সঙ্গে সমান পরিমাণে লেবুর রস মিশিয়ে। একটি তুলার সাহায্যে এই মিশ্রণ ব্রণের ওপর লাগাতে হবে। ১০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। দেখবেন, ধীরে ধীরে ব্রণ দূর হয়ে যাবে।

চোখের নিচের ফোলাভাব দূর করে:

কামরাঙ্গার স্লাইস চোখের নিচে লাগিয়ে ১০ মিনিট চোখ বন্ধ করে শুয়ে থাকুন। এবার পানি দিয়ে ধুয়ে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। এটি চোখের চারপাশের ফোলাভাব দূর করবে এবং টানটান রাখবে।

ত্বক পরিষ্কার করে:

নিয়মিত কামরাঙার রস ত্বকে লাগিয়ে ৫ মিনিট ম্যাসাজ করে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। এবার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এতে ত্বকের ময়লা জীবাণু সহজেই পরিষ্কার করে ত্বক সতেজ করতে সাহায্য করবে।

বয়সের ছাপ দূর করে:

যেকোনো প্রাকৃতিক উপাদানের সঙ্গে কামরাঙার রস মিশিয়ে প্যাক বানিয়ে মুখে লাগান। এটি ত্বকের বলিরেখা দূর করবে এবং ত্বক টানটান রাখবে। এর ফলে চেহারার বয়সের ছাপ দূর হবে।

কামরাঙ্গার ক্ষতিকর দিক:

এত উপকারীতা থাকার সত্ত্বেও এর একটি ক্ষতিকর দিক আছে। কামরাঙ্গা কিডনি রোগীদের জন্য ভালো নয়। কামরাঙ্গাতে আছে উচ্চ মাত্রার অক্সালেট। কিডনি মস্তিষ্কের জন্য ক্ষতিকর উচ্চ অক্সালেট শরীর থেকে বের করে দেয়। কিন্তু কিডনি রোগীর কিডনি দুর্বল থাকে। তাই শরীর থেকে এই ক্ষতিকর পদার্থ বের করে দিতে পারে না। এর ফলে তা রক্ত থেকে আস্তে আস্তে মস্তিষ্কে প্রবেশ করে এবং বিষক্রিয়াও ঘটাতে পারে যেমন বিভ্রান্তি, খিঁচুনি এবং এমনকি মৃত্যুও। এজন্য কিডনি রোগীরা কামরাঙ্গা খাওয়ার আগে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে নিতে পারেন।

Share