যেসব খাবার পেটের চর্বি বৃদ্ধি করে।

পেটে চর্বি জমা বা ভুঁড়ি বাড়ার সমস্যা নিয়ে বিব্রত থাকেন অনেকেই। শুধু তাই নয়, পেটে চর্বি জমা সরাসরি হৃদ্‌রোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কোলন ক্যান্সার ইত্যাদির সঙ্গে জড়িত। শরীরের মধ্যভাগে চর্বি বেশি থাকলে বলা হয় ‘আপেল’ শেপের বডি, যা অতিরিক্ত বিএমআইয়ের চেয়েও বেশি ক্ষতিকর।

পেটের চর্বি মূলত ভিসেরাল ফ্যাট। এথেকে বিপাকক্রিয়ায় নানা জটিলতা ঘটে, রক্তনালিতে ও যকৃতে চর্বি জমে, ইনসুলিন রেসিসট্যান্স হয়। নারীদের তুলনায় পুরুষদের পেটে মেদ বেশি হয়। বংশগতি, খাদ্যাভ্যাস, জীবনযাপনের ধরন ইত্যাদি ও পেটের মেদ বাড়াতে বড় ভূমিকা পালন করে।

শুধু উচ্চ চর্বিযুক্ত খাবারই যে পেটের মেদ বাড়ায়, তা নয়। বেশি ক্যালরিযুক্ত যেকোনো খাবারই পেটের মেদ বাড়াতে পারে। মদ্যপান, মিষ্টিজাতীয় খাবার, বেশি প্রোটিনযুক্ত খাবার পেটের মেদ বাড়িয়ে তোলে।

অতিরিক্ত ফ্যাট জাতীয় খাবার খেলে শরীরের ওজন বৃদ্ধি পায়। যখনই শরীরে অতিরিক্ত ক্যালরি ঢোকে এই অবস্থা দীর্ঘদিন চলতে থাকলে স্বাভাবিকভাবেই শরীরের ওজন বৃদ্ধি পাবে। যা স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর। ডায়াবেটিস, হার্টের অসুখ, ক্যান্সার, গলব্লাডার, হাইপারটেনশনের মতো রোগ শরীরে বাসা বাঁধতে পারে।

আসুন এবার বিস্তারিত ভাবে জেনে নেওয়া যাক, কি কি খাবার পেটের চর্বি বৃদ্ধি করতে পারে-

অ্যালকোহল:

অ্যালকোহল আমাদের শরীরের জন্য যেমন ক্ষতিকর তেমনি এটি পেটে অতিরিক্ত চর্বি বাড়ানোর জন্যও দায়ী। উচ্চ মাত্রায় অ্যালকোহল গ্রহণের ফলে প্রদাহ, লিভারের রোগ সহ আরও অনেক স্বাস্থ্য সমস্যা হতে পারে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, যে পুরুষরা প্রতিদিন পরিমিত মাত্রার থেকেও বেশি অ্যালকোহল পান করেন তাদের ৪০% বেশি পেটের মেদ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই ভারী অ্যালকোহল সেবন করলে যেমন বেশ কয়েকটি রোগের ঝুঁকি বাড়ে এবং তার পাশাপাশি পেটে অতিরিক্ত ফ্যাট বা চর্বি বাড়ানোর সাথেও যুক্ত থাকে।

ফলের রস:

ফলের রস একটি উচ্চ চিনিযুক্ত পানীয় যা আপনি যদি খুব বেশি পরিমাণে পান করেন তবে এটি আপনার পেটের চর্বি বাড়িয়ে তুলতে পারে। ৮ টি (২৫০ মিলি) আপেলের রসে ২৪ গ্রাম চিনি থাকে। এবং একই পরিমাণ আঙ্গুরের রসেও ৩২ গ্রাম চিনি থাকে। যদিও ফলের রস কিছু ভিটামিন এবং খনিজ সরবরাহ করে তবে এতে থাকা ফ্রুক্টোজ ইনসুলিন বাড়াতে এবং পেটের চর্বি বাড়াতে পারে।

আলুর চিপস:

আলুর চিপস খুবই সুস্বাদু ও মুখরোচক একটি খাবার। কিন্তু আলুর চিপস গুলোতে অতিরিক্ত পরিমাণে স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে যা পেটের চর্বি বাড়ায়। তাছাড়া আলুর চিপসে অতিরিক্ত লবণ থাকে যা আপনার ওজন বাড়িয়ে তুলতে পারে। লন্ডনের কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি কর্তৃক পরিচালিত একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, আপনি প্রতিদিন যে পরিমাণ অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ করেন তা আপনার স্থূলত্বের ঝুঁকি ২৫ শতাংশ বাড়িয়ে তুলতে পারে।

প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার:

প্রোটিন ওজন হ্রাস করার জন্য একটি মূল ম্যাকক্রোনট্রিয়েন্ট, তবে খুব বেশি ভাল হওয়ার চেয়ে বেশি ক্ষতি করতে পারে। প্রকৃতপক্ষে, একটি স্প্যানিশ গবেষণায় দেখা গেছে যে, উচ্চ প্রোটিনযুক্ত খাদ্য গ্রহণকারী অংশগ্রহণকারীরা প্রোটিন কম খেয়েছিলেন তাদের তুলনায় তাদের মূল দেহের ওজনের ১০ শতাংশের বেশি লাভ হওয়ার সম্ভাবনা ৯০% বেশি ছিল।

তেল ও মসলা জাতীয় খাবার:

অতিরিক্ত তেল ও মসলা জাতীয় খাবার আমাদের শরীরের জন্য খুবই ক্ষতিকর। পাশাপাশি এটি আমাদের পেটে চর্বি জমাতেও বিশেষ ভূমিকা রাখে। তাছাড়া অতিরিক্ত তেল ও মসলা জাতীয় খাবার খেলে হার্টের অসুখ, ক্যান্সার, গলব্লাডার, উচ্চ রক্তচাপ ও হাইপারটেনশনের মতো রোগ আমাদের শরীরে বাসা বাঁধতে পারে।