তুলসী চা মানসিক চাপ কমায়, সর্দি কাশি দূর করে ও ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখে।

চা বেশিরভাগ মানুষের কাছে জনপ্রিয় একটি পানীয়। অনেকে শুধু অভ্যাসের বশে চা পান করেন। কিন্তু এই চা যদি আপনার স্ট্রেস কমাতে বা ওজন কমানোর মত দারুণ সব কাজ করতে পারে তাহলে কিন্তু মন্দ হয় না। আর তেমনই একটি চা হলো তুলসী চা।

প্রকৃতি মায়ের এক অফুরুন্ত ঔষুধের ভান্ডার এই তুলসী বা তুলসী পাতা। আয়ুর্বেদে তুলসীকে “হাড়ের রানী”, “গুল্মের রানী” এবং “প্রকৃতির মা ঔষুধ” বলা হয়েছে। ঔষুধী ও আধ্যাত্বিক বৈশিষ্ট্যের কারণে একে জীবনের একটি elixir হিসাবে সম্মানিত করা হয়। এই পাতাটি শরীর থেকে বিষাক্ত টক্সিন দূর করে এবং এতে আছে প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিডেন্টস যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

তুলসী চা বর্তমানে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এখন বাজারেও তুলসী চা কিনতে পাওয়া যায়। তুলসী চা বাজার থেকে কিনতে পারেন বা নিজেরা ঘরে তৈরি করতে পারেন। ঘরে তৈরি করতে গেলে এক্ষেত্রে আদা কুচি, এলাচ গুঁড়ি এবং পানি দিয়ে ফুটিয়ে নিন। তারপর সামান্য মধু এবং লেবুর রস মিশিয়ে খেয়ে নিন।

তুলসী চায়ের স্বাস্থ্য উপকারিতা

 
নিচে তুলসী চায়ের কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে আলোচনা করা হলো –

সর্দি কাশি দূর করে:

তুলসী চা সর্দি, সাইনোসাইটিস, কাশি, ব্রঙ্কাইটিস, হাঁপানি, ফ্লু, গলা ব্যথা সহ কয়েকটি শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে সহায়তা করে।

ব্লাড সুগার কমায়:

তুলসী পাতায় প্রচুর এন্টি অক্সিডেন্ট ও এসেনশিয়াল অয়েল আছে যা, শরীরের মধ্যে ইউজেনল, মিথাইল ইউজেনল ও ক্যারিওফাইলিন উৎপন্ন করে। এই উপাদান গুলো অগ্নাশয়ের বিটা সেলকে কাজ করতে সাহায্য করে (বিটা সেল ইনসুলিন জমা রাখে ও নিঃসৃত করে)। যার ফলে ইনসুলিনের সিংবেদনশীলতা বৃদ্ধি পায়। এতে ব্লাড সুগার কমে এবং ভালো হয়। রক্তে শর্করাকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ঔষুধ  খাওয়ার পাশাপাশি তুলসী চা পান করা শুরু করতে পারেন।

কোলেস্টেরল কমায়:

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত এই তুলসী চা পান করলে উচ্চ কোলেস্টেরল, উচ্চ রক্তচাপ ইত্যাদি প্রতিরোধে সহায়তা করতে পারে। তুলসী “খারাপ” কোলেস্টেরল (LDL) এর মাত্রা কমিয়ে রক্তে “ভাল” কোলেস্টেরল (HDL) মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে।

ওরাল এবং চোখের স্বাস্থ্যের উন্নতি করে:

তুলসীর বহুমাত্রিক স্বাস্থ্য সুবিধাগুলি বলে শেষ করা যায় না। তুলসী আপনার মুখের ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া এবং জীবাণু ধ্বংস করতে সক্ষম। প্রতিদিন তুলসী চা পান করে আপনি সুন্দর দাঁত, স্বাস্থ্যকর মৌখিক স্বাস্থ্য এবং সতেজ শ্বাস পেতে পারেন। এছাড়া তুলসীতে ‘লুটিন’ নামে একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্যারোটিনয়েড বহন করে যা চোখের স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে পারে।

ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়:

তুলসী পাতার মধ্যে থাকা এন্টি অক্সডেন্ট ও এন্টি কারসেনোজেনিক উপাদান ব্রেস্ট ক্যান্সার স্তন ক্যান্সার ও ওরাল ক্যান্সার এর বৃদ্ধি হতে দেয় না। কারণ এ উপাদান গুলো টিউমারের মধ্যে রক্ত চলাচল বন্ধ করে দেয়।

অকাল বার্ধক্য নিয়ন্ত্রণ করে:

অক্সিডেশন প্রসেসকে স্লো করতে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টস সাহায্য করে থাকে এবং দেহকে ফ্রি রেডিকেলস এর হাত থেকে রক্ষা করে। তুলসি চা এমনই সব অ্যান্টি-অক্সিডেন্টস এর ভান্ডার যা দেহকে ফ্রি-রেডিকেলস থেকে রক্ষা করে এবং দেহে তারুণ্য বজায় রাখে দীর্ঘদিন এবং বার্ধক্য প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়।

ওজন কমায়:

তুলসি চা মেটাবোলিজম সিস্টেম-কে উন্নত করতে সাহায্য করে এবং একই সাথে শরীরের অতিরিক্ত চর্বি কমায়। এতে রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টস যা লিপিড ভাঙ্গনের জন্য প্রধানত দায়ী। এটা মোটা মানুষের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। তুলসি চা সরাসরি ওজন কমাতে ভূমিকা রাখে। তাই ব্যায়ামের পাশাপাশি তুলসি চা খেলে খুব দ্রুত ওজন কমবে।

হজমের জন্য:

তুলসী পাতা হজম শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। হজম ও স্নায়বিক প্রণালীকে শক্তিশালী করে এবং মাথাব্যাথার জন্য একটি ভাল প্রতিকার হতে পারে। তুলসীতে থাকা ইউজেনল আপনার পাচনকে সুস্থ রাখে। তুলসী পাতা শরীরে অ্যাসিডের মাত্রা সামান্য করে রাখে এবং শরীরের পিএইচ (PH) লেভেল ঠিক রাখে। তাই যাদের হজমের সমস্যা আছে তারা তুলসী চা খেতে পারেন।

মানসিক চাপ কমায়:

তুলসী চা মানসিক চাপ কমাতে খুবই কার্যকরী। কারণ তুলসী পাতা কর্টিসলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রেখে মানসিক চাপ কমিয়ে আনতে সাহায্য করে। স্নায়ু শিথিল করে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে, যা মানসিক চাপ সৃষ্টিকারী ফ্রি রেডিকলকে নিয়ন্ত্রণ করে। অতিরিক্ত মানসিক চাপ অনুভূত হলে ১০ থেকে ১২ টি তুলসী পাতা চিবিয়ে খান বা চা বানিয়ে খান।

রেফারেন্স:

Share