কাসুন্দি খাবারের রুচি বাড়ায়, হার্ট ভালো রাখে ও বিপাক ক্রিয়া বাড়ায়।

যে কোনো ফল মাখানোতে কাসুন্দি হলে কি যে ভালো লাগে। পেয়ারা, আমড়া, লেবুমাখা, কামরাঙা, কাঁচা আম ইত্যাদি ফলের সাথে কাসুন্দি মিশিয়ে খেতে খুবই মজা লাগে। এটি তৈরি করা হয় ঝাঁজাল রাই-সরিষা ব্যবহার করে।

কসুন্দি হল বাঙালী খাবারের একটি জনপ্রিয় ঐতিহ্যবাহী সরিষা সসের রেসিপি। এটি মূলত কাঁচা আম এবং fermented বা গাঁজানো সরিষা বাটা দিয়ে তৈরি করা হয়। এটি বেশিরভাগ জনপ্রিয় স্ন্যাক্সের সাথে খাওয়া হয়।

কাসুন্দি হল সনাতনী বাঙালি খাবারের সর্বাধিক জনপ্রিয় সরিষা সস রেসিপি। ভোজনরসিক বাঙালিদের খাদ্য ভান্ডার সর্বদা জনপ্রিয় বা মন কেড়ে নেয় এর মাতাল করা স্বাদ ও স্বাস্থ্যসুবিধার জন্য।

কাসুন্দি ফলের সাথেও ছাড়া গরম ভাতে উচ্ছে আলু ভাজি, বিভিন্ন চপ, কাটলেট, ফিশ ফ্রাই, ডিমের রোল ইত্যাদির সাথে খাওয়া যায়। এছাড়া বার্গার, পিজ্জা, এগ রোল জাতীয় খাবারের সাথে সস হিসাবে ব্যবহার করা হয়।

রুই কাসুন্দি, ইলিশ কাসুন্দি, কাসুন্দি ভেটকি এরকম আরো নানা পদের রান্নায় কাসুন্দির ব্যবহার লক্ষণীয়। ফার্মেন্টেড খাবারগুলো স্বাদ ও স্বাস্থ্যের জন্য সর্বদা ভালো।

ঐতিহ্যবাহী বাঙালি কাসুন্দি কাঁচা আম এবং গাঁজানো সরিষা দিয়ে তৈরি এবং আম কাসুন্দি নামে পরিচিত। সবুজ মরিচ, আদা, ভিনেগার এবং চুনের রসও এর সাথে মিশিয়ে এতে মশলাদার স্বাদ এবং আরো সুস্বাদু করা হয়। এই সসের আরও কিছু ভিন্নতা রয়েছে এবং সেগুলি হল টমেটো কাসুন্দি, ফুল কাসুন্দি ইত্যাদি

ইউরোপসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশে সরিষা নিয়ে বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা চললেও প্রাচীন ভারতে ব্রাহ্মণী মহিলারাই প্রথম কাসুন্দি তৈরি করেন। বর্তমানে এশিয়ায় কাসুন্দির ব্যবহার হয় বেশি।

আমাদের দেশে বৃহত্তর যশোর, ফরিদপুর ও খুলনা জেলায় বেশি কাসুন্দি ব্যবহার করা হয়। কাসুন্দি বানানোর আসল সময় বৈশাখ মাস। এ সময় চৈতালী ফসলের সাথে রাই-সরিষা ওঠে। কাসুন্দি তৈরি করার অন্যতম উপকরণ কাঁচা আমও পাওয়া যায় বৈশাখে। এ আম ফালি করে কেটে আঁটি ফেলে দিতে হয়।
এরপর খোসা ছাড়িয়ে কুচি কুচি করে কেটে এক খণ্ড কাপড়ে আমের পুঁটলি বাঁধতে হয়। এবার শিল-নোড়ায় আমের কুচিগুলো থেঁতলে রস চিপে ফেলতে হয়। এভাবেই কাপড়সহ আমের পেষা কুচিকে পরিমাণমতো লবণ ও হলুদ মাখিয়ে তিন থেকে চার ঘণ্টা পর্যন্ত রোদে শুকাতে হয়। একই সময়ে মরিচ ও রাই-সরিষাকেও রোদে দিতে হয়।
এবার বেশ শুকনো অবস্থায় সরিষা ও মরিচ গুঁড়ো করতে হয়। বেতের ধামা কিংবা পাথর বা মাটির একটি গভীর পাত্রে আমের শাঁস রেখে গুঁড়ো রাই-সরিষা ও মরিচ মাখিয়ে পরিমাণমতো গরম পানি মিশানো হয়। এরপর এগুলো ঠাণ্ডা হলেই হয়ে গেল কাসুন্দি। সাধারণত গ্রামের মেয়েরা কাসুন্দি বানায়।

কাসুন্দির স্বাস্থ্য উপকারিতা:

যে কাসুন্দি মানুষ এতো পছন্দ করে সেটা তৈরি হয় মূলতঃ সরিষা দিয়ে আর সরিষার রয়েছে নানাগুন। আমরা কাসুন্দি তথা সরিষার উপকারিতা সম্পর্কে জানবো। সুতরাং, এই সসটি স্বাস্থ্যের পক্ষে ভাল কেন তা এখানে রয়েছে:

হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখে:

কাসুন্দি হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। কিভাবে ভালো রাখে? কারণ কাসুন্দিতে রয়েছে পটাসিয়াম ও ফসফরাস। প্রতি ১০০ গ্রাম কাসুন্দিতে ৮৩মিলিগ্রাম পটাসিয়াম রয়েছে। এই পুষ্টি আপনার হৃদস্পন্দনকে নিয়মিত রাখতে সহায়তা করে। এছাড়াও সরিষা ফসফরাস সমৃদ্ধ। ১০০ গ্রামে ৫৭ মিলিগ্রাম ফসফরাস রয়েছে যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে ভাল।

হাড় ও দাঁতের সুরক্ষায়:

হলুদ সরিষার সসে বিদ্যমান ক্যালসিয়াম হাড় ও দাঁত সুরক্ষিত রাখে। প্রতি ১০০ গ্রাম কাসুন্দিতে রয়েছে ৩২ গ্রাম ক্যালসিয়াম যা হাড় ও দাঁত গঠনে ভূমিকা রাখে।

বিপাক ক্রিয়ায়:

সরিষা ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ যা আমাদের বিপাককে উন্নত করে। ১০০ গ্রামে ২৪ মিলিগ্রাম ম্যাগনেসিয়াম রয়েছে যা বিপাকক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ক্যান্সার প্রতিরোধে:

সরিষায় অনেকগুলি ফাইটোকেমিক্যাল রয়েছে যা গ্লুকোসিনোলেটস এবং আইসোথিয়োকানেটস নামে পরিচিত। ফাইটোকেমিক্যাল গুলির একটি বিশেষ গুন্ রয়েছে যেগুলো ক্যান্সার কোষ ধংস করতে পারে।

শ্বসনতন্ত্রের রোগ নিরাময়ে:

আয়ুর্বেদের মতে, সরিষা আমাদের ফুসফুস এবং মাথা ভার  দূর করতে সহায়ক এবং এটি শ্বাসকষ্টের ঝুঁকি হ্রাস করে। সরিষায় থাকা ফসফরাস স্নায়ুর কার্যকারিতার জন্য ভাল। এটি স্নায়ু সংকেতের জন্য ভিটামিন বি এর সাথে কাজ করে।

বর্তমানে কাসুন্দি কুটির শিল্পের মর্যাদা পেয়েছে। অনেক মানুষ কাসুন্দির ব্যবসায় করে রোজগার করছেন। কিছু বড় কোম্পানিও কাসুন্দি উৎপাদন করছে। তার মানে এর চাহিদা বেশ।

সতর্কতাঃ

যা কিছু খাবেন পরিমাণমতো খাবেন। আপনার শরীরের অবস্থা বুঝে খাবেন। অতিরিক্ত কোনো কিছুই ভালো নয়।

সূত্রঃ

Share