রসোগোল্লা মাংসপেশি তৈরিতে, হাড় গঠনে ও মন মেজাজ ভালো রাখে।

অবশেষে মিষ্টি একটা পাওয়া গেলো যেটা আমাদের স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো।হ্যা, আপনারা ঠিক শুনেছেন।প্রকৃতপক্ষে একটি মিষ্টি যা স্বাস্থ্যের পক্ষে ভাল এবং আপনি দুশ্চিন্তা মুক্ত থাকতে পারেন। এটা রান্না ঘরের আদি উপাদান ছানা যিনি মিষ্টি রসে নিজেকে ডুবিয়ে স্বাদে সেরা লোভনীয় রূপে ধরা দিবে। মিষ্টির জগতের সম্রাট রসগোল্লা।

মাটির হাড়িতে কলাপাতা দিয়ে ঢেকে বা মডার্ন জমানার চাকচিক্যময় কোনো পাত্রে, নিজ বাড়িতে বা আত্নীয়ের বাড়িতে রসগোল্লা নিয়ে হাজির হলেন। বাড়ির সবাই যেমন খুশি তেমনি আপনার মর্যাদাও বেড়ে গেলো। আসলে শত শত বছর ধরে সংস্কৃতমনা বাঙালি সমাজে রসগোল্লা এভাবে আপন মহিমায় মহীয়ান।

টাটকা কটেজ পনির দিয়ে তৈরি, রসোগোল্লায় প্রোটিন এবং কার্বোহাইড্রেট প্রচুর পরিমানে থাকে। বাচ্চা এবং যুবক ব্যক্তিদের জন্য এটি একটি আদর্শ জলখাবার হিসাবে পরিবেশন করা যায়। আপনি লেবুর রস দিয়ে দুধ কেটে ছানা তৈরি করলেন। এগুলোকে বলের মতো গোল আকারে গড়ে চিনি বা গুড়ের সিরায় ছেড়ে দিলেন। ব্যাস কোনো তেলে ভাজার বিষয় নেই। পুরোটাই স্বাস্থ্যকর।

রসগোল্লার পুষ্টিগুণ ১০০ গ্রাম রসগোল্লায় মোট ১৮৬ ক্যালোরি রয়েছে যার মধ্যে কার্বোহাইড্রেট-এর পরিমাণ ১৫৩ ক্যালোরি, ফ্যাট ১৭ ক্যালোরি এবং প্রোটিন ১৬ ক্যালোরিযুক্ত।

এই মিষ্টিটি এতটাই বিখ্যাত যে এটি দুটি রাজ্য – পশ্চিমবঙ্গ এবং উড়িষ্যার মধ্যে তার উৎসকে কেন্দ্র করে লড়াইয়ের দিকে পরিচালিত করেছিল। অন্যান্য মিষ্টির মধ্যে রসোগোল্লাগুলি শরীরের তুলনামূলকভাবে হালকা এবং বিশেষ অনুষ্ঠান এবং উৎসবগুলিতে এগুলি আবশ্যক। যেহেতু এগুলি হালকা, একসাথে একাধিক রসগোল্লা খাওয়া যায়।

রসগুল্লা কীভাবে তৈরি হয়?

ছানা বা টাটকা কটেজ পনিরের সাথে স্বল্প পরিমাণে সুজি, ময়দা মিশিয়ে ভালোভাবে মোথে একটি ডো বানানো হয়। ডোটি বা মিশ্রণটি তখন ছোট ছোট বল তৈরি করা হয় এবং পাতলা চিনির সিরাপে সিদ্ধ করা হয়।

রসগোল্লা কি ডায়াবেটিসের জন্য ভাল?

রসগোল্লা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য প্রস্তাবিত নয়। তবে যেহেতু ছানায় ম্যাগনেসিয়াম থাকে এবং ম্যাগনেসিয়াম রক্তের সুগার কমায় তাই ডায়াবেটিস রোগীরাও রসগোল্লা খেতে পারবেন। যতটা সম্ভব রসটা নিংড়ে খান। আপনার ডায়াবেটিস-এর মাত্রা কম বা ডায়াবেটিস কন্ট্রোলে থাকে। প্রচুর ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রম করেন, শরীরে ক্যালোরি বেশি জমা থাকে না। তাহলে আপনি আপনার শরীরের অবস্থা বুঝে রসগোল্লা খেতে পারবেন।

রসগোল্লার উপকারিতা বা স্বাস্থ্যসুবিধা:

রসগোল্লা কেন স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো তা রসগোল্লা তৈরিতে যে প্রাথমিক উপাদানগুলি ব্যবহার হয় তা থেকে বোঝা যায়। সেগুলি হল পনির (ছানা) এবং সুজি। সুতরাং রসোগোল্লার পুষ্টিকর উপকারগুলি এই দুটি উপাদান থেকে প্রাপ্ত। এছাড়া চিনি কার্বোহাইড্রেট যুক্ত। চিনিতে ভিটামিন মিনারেলস না থাকলেও গুড়ে ভিটামিন, মিনারেলস রয়েছে। নিচে রসোগোল্লার রসগোল্লার উপকারিতা আলোচনা করা হলো –

মাংসপেশি তৈরিতে সাহায্য করে:

দুধ থেকে ছানা তৈরি হয় এবং ছানা বা পনির আমিষ বা প্রোটিনের একটি ভাল উৎস। পনির উচ্চ প্রোটিন জাতীয় খাবার এবং এতে ফ্যাটও রয়েছে। কেসিন(casein)-নামক এই প্রোটিন আমাদের আমিষের চাহিদার প্রায় অর্ধেক পূরণ করতে পারে। সুতরাং, রসগোল্লা আমাদের পেশি বৃদ্ধি করতে দারুন কাজ করে।

শক্তি ও পুষ্টি বাড়ায়:

চিনি উচ্চ শক্তি অর্থাৎ কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবার। ছানাতে প্রোটিন ও ফ্যাট ছাড়াও ভিটামিন বি-১২, রিবোফ্লোবিন, ক্যালসিয়াম, ফোলেট ইত্যাদি রয়েছে। এতে কোলাইন, জিংক, কপারও অল্প পরিমানে রয়েছে। তাহলে বুঝতেই পারছেন, কি অসাধারণ একটা কম্বো প্যাক আপনার জন্য অপেক্ষা করছে।

হাড় ও দাঁতকে শক্তিশালী করে:

যেহেতু ছানা দুধ থেকে তৈরি তাই এটি ক্যালসিয়ামেরও একটি ভাল উৎস। ক্যালসিয়াম স্বাস্থ্যকর হাড় এবং দাঁতের জন্য প্রয়োজনীয় একটি খনিজ। দুধে উপস্থিত ভিটামিন ডি শক্তিশালী হাড় বজায় রাখতে সহায়তা করে। এগুলি ছাড়াও ছানা হৃদ্‌রোগের জন্য ভাল এবং হজমে উন্নতি করে।

ওজন হ্রাসে সহায়তা করে:

ছানা ডায়েটারি ফাইবারযুক্ত যা বিপাকের উন্নতি করে হজমে সহায়তা করে। উচ্চ প্রোটিন সামগ্রী থাকার কারণে এটি আপনার পেট ভরিয়ে রাখে। আপনার ক্ষুধা কম লাগে। বার বার খাওয়ার প্রবণতা কমে। সুতরাং, ওজন হ্রাস করতে সহায়তা করে।

যেহেতু রসগোল্লা  তৈরিতে কোনও ফ্রাই জড়িত না এবং ব্যবহৃত চিনির সিরাপটি ধারাবাহিকতায় খুব পাতলা হয়, অন্য ভারতীয় মিষ্টির তুলনায় এটিতে ক্যালরি কম থাকে।

সুজি হল আরেকটি উপাদান যা প্রোটিনের পরিমাণে বেশি এবং চর্বি কম থাকে যা ওজন হ্রাস করার চেষ্টা করছে এমন লোকদের জন্য এটি দুর্দান্ত করে তোলে। এটিতে একটি কম গ্লাইসেমিক সূচকও রয়েছে যা এটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও দুর্দান্ত করে তোলে। এতে ফোলেট এবং থায়ামিন সহ বি ভিটামিন রয়েছে যা আপনাকে শক্তি দেয় এবং মস্তিষ্কের কার্যকারিতা সমর্থন করে।

হজমের উন্নতি ঘটায়:

ছানায় প্রচুর পরিমাণে ফসফরাস রয়েছে যা হজম করতে এবং স্বাস্থ্যকর অন্ত্র বজায় রাখতে সহায়তা করে। ছানার ম্যাগনেসিয়ামে রেবেস্টিক প্রভাব রয়েছে যা মলকে অন্ত্রের দেয়ালগুলির মধ্য দিয়ে সহজেই যেতে দেয়।

হার্ট-এর স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়:

ছানায় পটাশিয়াম রয়েছে যা রক্তচাপ কমিয়ে রাখতে সহায়তা করে। যেহেতু পটাসিয়াম রক্তে অত্যধিক নুনের প্রভাব হ্রাস করে তাই এটি রক্তচাপকে হ্রাস করে এবং হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের মতো কার্ডিওভাসকুলার রোগের ঝুঁকি হ্রাস করে।

সতর্কতাঃ

যা কিছু খাবেন পরিমাণমতো খাবেন। আপনার শরীরের অবস্থা বুঝে খাবেন। অতিরিক্ত কোনো কিছুই ভালো নোই। আপনি যদি কোনো জটিল রোগে আক্রান্ত হন বা নিয়মিত কোনো চিকিৎসকের তত্বাবধানে থেকে কোনো ওষুধ গ্রহণ করলে খাওয়ার আগে অবশ্যই আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাবেন।

সূত্র:

recipes.timesofindia.com,  boldsky.com

Share