বাচ্চাদের জন্য চিনি বা চিনি জাতীয় খাবার ভালো না খারাপ?

চিনি বাচ্চাদের কাছে খুবই পছন্দের। শুধু চিনি নয় যেকোন মিষ্টি জাতীয় খাবার পেলে বাচ্চারা সব কিছু ভুলে যায়। এখনও অনেক অভিবাবক আছেন তারা মনে করেন চিনি বা কৃত্রিম মিষ্টি জাতীয় খাবার বাচ্চাদের জন্য উপকারী।

চিনি বাচ্চাদের স্বাস্থ্যের জন্য কোন দিক থেকে উপকারী। চিনি কি বাচ্চার স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করে নাকি দাঁত ভালো রাখে নাকি বাচ্চার শারীরিক বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

আসলে এসব কোন উপকারই করে না চিনি। তাহলে প্রশ্ন তারপরও আমরা বাচ্চাদের কেন চিনি খাওয়াই? চিনি আমাদের শিশুদের স্বাস্থ্যের উপকার করার বদলে ক্ষতি করছে। যেমন দাঁত নষ্ট হচ্ছে, ব্রেনের ক্ষতি হচ্ছে, বাচ্চাদের চেহারায় চিনির ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে।

সম্প্রতি ব্রিটেনের রয়্যাল কলেজ অব পেডিয়াট্রিকস অ্যান্ড চাইল্ড হেলথের গবেষকেরা এক রিপোর্টে দেখেছেন, বাচ্চাদের খাবারে মিষ্টির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা গেলে এবং মিষ্টি খাবারের প্রতি তাদের নির্ভরশীলতা তৈরির আগেই সবজি খাওয়ানো শুরু করা গেলে তা তাদের সুষম পুষ্টির যোগান দেবে।

মা-বাবাদের উচিত শিশুদের একটু তেতো খাবারও দেয়া। বিশেষজ্ঞদের মতে এর ফলে শিশুরা দাঁত ক্ষয়, স্থূলতা বা মোটা হয়ে যাওয়া এবং অপুষ্টির হাত থেকে বেঁচে যাবে। সেই সঙ্গে স্থূলতা থেকে পরবর্তীতে ডায়াবেটিস হবার আশংকাও কমবে।

মিষ্টি পানীয় বন্ধ

শিশুদের মিষ্টি জাতীয় পানীয় একেবারেই দেয়া উচিত নয়। চিকিৎসকেরা বলছেন ক্যান জাতীয় খাবারে বাচ্চাদের অভ্যস্ত না করে বরং তাজা ফলমূল, মিষ্টি ছাড়া দুধ জাতীয় খাবারে বাচ্চাদের অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত।

গবেষক দলের প্রধান প্রফেসর মেরি ফিউট্রেল বলছেন, বাচ্চাদের দুধ ছাড়ানোর জন্য মা-বাবারা অনেক সময় মিষ্টি জাতীয় খাবারের অভ্যাস করান আর এই সময়েই মিষ্টি খাবারের আসক্তি হয় বাচ্চাদের।

বেশি করে সবজি দিন

চিনি জাতীয় খাবার ছেড়ে বাচ্চাদের তাজা ফলমূল, সবজি দিন। এতে তাদের চিনির জাতীয় খাবারের প্রতি আকর্ষণ কমবে। প্রফেসর ফিউট্রেল বলছেন, মিষ্টি জাতীয় খাবারের প্রতি শিশুদের আকর্ষণ থাকবেই। কিন্তু মা-বাবাদের খেয়াল করতে হবে কোন খাবার শিশুর জন্য ভালো।

“শিশুরা কিন্তু প্রাকৃতিকভাবেই নানা ধরণের খাবার খেয়ে দেখতে চায়, যদি তাদের সে সুযোগ দেয়া হয়। ফলে তাদের নানা রকম খাবারের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়াও খুব জরুরী।”

এজন্য মা-বাবাদের খাবারের উপকার এবং অপকার দুটোই জানতে হবে। যুক্তরাজ্যে প্রতিবছর পাঁচ বছরের কম বয়সী বাচ্চাদের ২৩ শতাংশ দাঁতের সমস্যায় ভোগে।

তাজা ফল দিয়ে ঘরেই ফলের জুস বানিয়ে দিন। তবে এতে চিনি যোগ করবেন না। ওদের প্রতিটি খাবারের স্বাদ উপভোগ করতেদিন।

২ বছরের কম বয়সী বাচ্চাদের খাদ্য তালিকায় কোনওরকম চিনি বা চিনি জাতীয় খাবার রাখা উচিত নয়। কারণ জীবনের প্রথম দিকে প্রচুর পরিমাণে চিনি খাওয়ার ফলে স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ এবং টাইপ-2 ডায়াবেটিস হতে পারে। এই সমস্যাগুলি থেকে শিশু এবং অল্প বয়স্কদের হার্টের রোগের ঝুঁকি বাড়ে।

সবচেয়ে খারাপ শর্করা হল প্রক্রিয়াজাত খাবার, স্পোর্টস ড্রিঙ্কস, মিষ্টান্ন এবং কিনা ফলের রস এসব খাবারে কোনও পুষ্টি গুণ থাকে না। মিষ্টি জাতীয় খাবার সন্তানের ডায়েটে থাকতে পারে, তবে এটি প্রতিদিন হওয়া উচিত নয়। অনেক ফল থেকে আমরা প্রাকৃতিক মিষ্টি বা চিনি পেয়ে থাকি। এসব প্রাকৃতিক মিষ্টি বা চিনি বাদ দিয়ে শিশুদের প্রসেসড চিনির দরকার হয় না।

রেফারেন্স:
Share