নিজেকে ভাল রাখার উপায়।

আমাদের জীবনে যতই ব্যস্ততা থাকেনা কেন, যতই ঝড় ঝাপটা থাকুক না কেন। আমাদের নিজেকে ভাল রাখতে হবে। প্রতিযোগিতার দৌড়ে প্রাণ খুলে হাসার সময়টাই যেন আমাদের নেই। তারপর আবার কাজের চাপ। ফলে বড়ছে স্ট্রেস, মানসিক অবসাদ। কিন্তু ভাল তো থাকতেই হবে। সহজ কয়েকটা উপায় মেনে চললেই নিজেকে ভাল রাখতে পারেন।

আসুন এবার জেনে নেওয়া যাক, নিজেকে ভাল রাখার কিছু উপায় সম্পর্কে-

হাসি খুশি থাকুন:
নিজেকে ভাল রাখতে চাইলে হাসি খুশি থাকা সবচেয়ে ভালো উপায়। তাই প্রাণ খুলে হাসুন। হাসি মস্তিষ্কে গুড হরমোনের মাত্রা বাড়ায় যা মানসিক শান্তি প্রদান করে।

সময় পেলেই হাঁটুন:
হেঁটে যাওয়া যায় এমন দূরত্বে রিকশা বা গাড়ির পরিবর্তে হেঁটে যাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। শরীর ও মন ভালো রাখতে প্রতিদিন ভোরে উঠে খালি পায়ে হাঁটুন। ঘাসের উপর হাটতে পারেন কিংবা মাটিতে। খালি হাঁটলে দেহের উপকার হয় এবং শরীর ও মন দুটিই ভালো থাকে।

নিজেকে ভালোবাসুন:
নিজেকে ভালোবাসুন। সবার আগে নিজেকে ভালোবসতে শিখুন। কিছুটা সময় রাখুন নিজের জন্য। শখের বিষয়গুলো করুন। কিংবা পরিবারের সবার জন্য কিছু একটা করুন।

নিজের ওপর আস্থা রাখুন:
নিজেকে ভালো রাখতে নিজের ওপর আস্থা রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সব নেতিবাচকতা এড়িয়ে নিজেকে অভয় দিন, ‘দিন শেষে আমিই জয়ী!’

এলকোহল থেকে দূরে থাকুন:
যেকোন নেশা জাতীয় দ্রব্য থেকে নিজেকে দূরে রাখুন। এলকোহল কখনই আপনাকে মানসিক ও শারীরিক দিক থেকে ভালো থাকতে দেবে না। তাই এলকোহল থেকে দূরে থাকুন।

নিজেকে অন্যের সঙ্গে তুলনা না করা:
ওর ওটা আছে, আমার নেই’—এ ধরনের চিন্তা থেকে নিজেকে দূরে রাখুন। এই সব চিন্তা ভাবনা আপনার মধ্যে হতাশা কাজ করবে। মনে রাখবে, সবার সবকিছু থাকে না। কারও হয়তো পড়াশোনায় মেধা আছে, আবার কারও খেলাধুলায়। তাই চেষ্টা করুন নিজের প্রতিভাকে বিকশিত করার।

ছুটি নিন:
জীবনটা শুধুই করে কাজ করার জন্যে নয়। নিয়মিত বিরতিতে ছুটি নিন এবং আবার ছুটি শেষে পূর্ণ উদ্যমে কাজে সময় দিন।

ঠিকমতো খাবার খান ও ঘুমান:
শরীর ও মন একটি আরেকটির ওপর নির্ভরশীল। তাই একটি নির্দিষ্ট রুটিন অনুযায়ী চলার চেষ্টা করুন। যেমন পরিমিত পরিমাণে খাবার ও ঘুম। এছাড়া প্রতিদিন সকালে কিংবা সন্ধ্যায় শারীরিক ব্যায়াম বা ইয়োগা করতে পারেন। এতে দুশ্চিন্তা অনেকটাই লাঘব হয়।

শারীরিক কার্যক্রম বাড়ান:
হতে পারে তা সাঁতার কাটা বা সাইকেল চালানো। কিন্তু এই কাজগুলোই আপনাকে মানসিক ক্লান্তি থাকে মুক্তি দেবে।

মানুষ কি ভাববে তা নিয়ে দুশ্চিন্তা করবেন না:
আপনাকে নিয়ে অন্যেরা কী ভাবছে তা নিয়ে আপনার এনার্জি খরচ করার দরকার নেই। নিজের মৌলিক গুণ বা বৈশিষ্ট্যগুলো ধরে রাখুন এবং সবার কাছে আকর্ষণীয় একজন মানুষ হয়ে উঠুন।

পরিবার ও বন্ধুর সঙ্গে সময় উপভোগ:
বন্ধুমহল কিংবা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান। তাদের সঙ্গে আলোচনা করুন। এতে দুই পক্ষই খুশি হবে। এমন অনেক ব্যাপার থাকে, যা আমরা প্রিয় মানুষটির চেয়ে বন্ধুটির কাছে প্রকাশ করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। তাই কিছুটা সময় বন্ধু মানুষটির সঙ্গে বেড়িয়ে আসুন।