৪-৮ বছর বয়সের সন্তানদের অভিভাবকদের কি কি করণীয়। জেনে নিন।

আপনার বাচ্চা বড় হচ্ছে। আপনি কি লক্ষ্য করেছেন যে আপনার ৪ থেকে ৫ বছর বয়সী বাচ্চা আরও স্বাধীন এবং আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠছে?

এই বয়সের বেশিরভাগ বাচ্চারা বৃহত্তর স্বাধীনতা, আত্ম-নিয়ন্ত্রণ এবং সৃজনশীলতার বিকাশ হতে শুরু করে। তারা তাদের খেলনাগুলির সাথে দীর্ঘ সময় ধরে খেলে তৃপ্ত হয়, নতুন জিনিস চেষ্টা করতে আগ্রহী হয় এবং যখন তারা হতাশ হয়, তখন তাদের আবেগ প্রকাশ করতে আরও ভাল সক্ষম হয়।

যদিও বাচ্চারা তাদের নিজস্ব গতিতে বেড়ে ওঠে এবং বিকাশ করে তবে আপনার শিশু সম্ভবত ৬ বছরের বৃদ্ধির আগে নিম্নলিখিত বিকাশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জন করবে।

কৌতূহলী মনকে শ্রদ্ধা করুন:

৪ থেকে ৮ বছর বয়সের বাচ্চারা  কৌতূহলী এবং জিজ্ঞাসুবাদী হয়ে থাকে। আপনাকে হয়তো অতিষ্ট করে তুলছে। বাবা এটা কি? বাবা ওটা কি? এটা কেন হয়? রাগ না করে,  ধর্য্য ধরে বুঝিয়ে দিন। সুন্দরভাবে উত্তর দিন। দেখবেন এতে বাচ্চার অনেক উন্নতি হচ্ছে। তার চিন্তাশক্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আপনার সন্তানের শব্দভাণ্ডার বৃদ্ধি পাচ্ছে। শিশু সহজ এবং যুক্তিযুক্তভাবে সকল প্রশ্নের উত্তর দিতে সক্ষম হবে। তাদের অনুভূতি আরও ভালভাবে প্রকাশ করতে পারবে।

প্রতিযোগিতা নয়, আগ্রহ তৈরি করুন:

আমাদের দেশের কথা বিবেচনা করলে অতীতে ৫-৬ বছর এবং বর্তমানে ৩-৪ বছর বয়সে বাচ্চারা স্কুলে যাওয়া শুরু করে। আর এই সময়টাতেই আমরা(মা-বাবারা) অবুঝের মতো কান্ড করে থাকি।

বাচ্চাদের যে সময়টা আনন্দ করে পড়ার এবং জানার কথা সেই সময় আমরা পিতামাতারা সন্তানদের ভিতর প্রতিযোগিতার মনোভাব ঢুকিয়ে দেই।

প্রতিযোগিতার মনোভাব থাকাটা জরুরী। প্রতিযোগিতা থাকবে। এর ভালো দিক রয়েছে। কিন্তু অন্য সব কিছু বাদ দিয়ে কেবল এক মনে এক ধ্যানে ক্লাসের ফার্স্টবয়/ ফার্স্ট গার্ল হওয়ার মানসিকতা

আসলে অসুস্থ্যতা ছাড়া আর কিছুই নয়। এই সময়টাতে বাচ্চাদের মনে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ তৈরি করতে হবে।

বাস্তবতার মাধ্যমে শিক্ষা:

দশ বা ততোধিক বস্তু গণনা করার ব্যাপারে অর্থাৎ বাস্তব কাজকর্মের ভেতর দিয়ে অংক শেখান। ৪-৮ বছর বয়সের বাচ্চাদের ক্ষেত্রে, মনে করুন আপনার বাচ্চার বয়স ৭ বছর। আপনি তাকে দোকানে নিয়ে চকলেট, চিপস কতকিছু কিনে দিচ্ছেন। বাচ্চাকে বিষয়টির সাথে সম্পৃক্ত করুন।

আপনাকে যেটা করতে হবে। দুটো চিপস ২০ টাকা, বিস্কুট এক প্যাকেট ২০ টাকা, চকলেট তিনটা ৩০ টাকা। কত হলো? বাচ্চাই বলবে ৭০ টাকা। এই ১০০ টাকা তুমি দোকানদারকে দাও। দোকানদার তোমাকে কত ফেরত দেবে। ওই বলবে ৩০ টাকা।

আনন্দের সাথে শিখান:

বাচ্চারা খেলার মাধ্যমে শিখতে পারে।  আপনার ৪ থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের এটি করা উচিত। এই বয়সে আপনার বাচ্চাটি দৌড়াদৌড়ি করা, হপিং, ছুড়তে এবং ফুটবলে লাথি মারতে, চড়তে এবং সহজেই দুলতে পারে। মনে রাখবেন, আনন্দহীন শিক্ষা শিক্ষা নয়।

মাত্রাতিরিক্ত অভিভাবকত্ব করবেন না:

এখনো অনেক মা-বাবা আছেন যারা সন্তানদের লাঠি নিয়ে বা ভয় দিয়ে পড়তে বসান। আমরা তো কত মার্ খেয়েছি বা রাত জেগে পড়াশোনা করেছি। বাচ্চার ঘুম এসে গেছে। পড়া নিয়ে জোরাজুরি। তুমি কেন দিনে ঘুমাওনি। এখন ৮-৯ টার মধ্যে ঘুম। মারামারী বা বাচ্চার গায়ে হাত তোলা। পড়াশোনাও হলো না। মনমেজাজ খারাপ করে ঘুমোতে যাওয়া। উভয়ের শারীরিক মানসিক ক্ষতি।

আত্নবিশ্বাসী ও আত্নপ্রত্যয়ী হতে দিন:

সন্তানের নিজের কাজগুলো নিজেকে দিয়ে করান। তার জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখা, খাবার খাওয়া, স্নান বা গোসল করা, টিফিন, স্কুল। নিজে নিজে কিভাবে করতে হয় সেটা সন্তানকে সেখান।

আপনি যদি ভাবেন সারাদিন অফিস করে আসলাম। এতো খাটাখাটি, বাজার-ঘাট, শপিং সব করে এসে এখন আমি আর কিছু পারবো না। নিজের জুতো অগোছালো ভাবে খুলে, জামা কাপড় অগোছালো ভাবে রেখে দিলাম। এগুলো সন্তানের উপর খুব বাজে প্রভাব ফেলে।

শাস্তি কিন্তু টের পাবে না:

শাস্তি মানে তাকে ঘরে দরজা বন্ধ করে শাসন করতে হবে বা মারতে হবে তা নয়। ভুলের শাস্তি লজিকাল ও মিনিংফুল হতে হবে। তোমার ছোট্ট বোনটিকে খেলনা দিলে বা রিক্সা চালাতে দিলে তোমাকে আরো ভালো খেলনা কিনে দেওয়া হবে। না দিলে কিন্তু দেব না।

বাচ্চাদের সময় কাটাতে আমরা মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, ট্যাব ইত্যাদি দেই। খেয়াল রাখি না বাচ্চাটি কত ঘন্টা যাবৎ মোবাইল বা ল্যাপটপ ব্যবহার করছে বা কি দেখছে?

বাচ্চারা অনুকরণ প্রিয়। এটা নতুন কিছু নয়। কিন্তু আমরা বাচ্চাদের সামনে এমন আচরণ করে বসি যা তারা খুব সহজে রপ্ত করে বসে।

প্রাত্যহিক ক্রিয়াকলাপের ক্রম তৈরি করে দিন। সময়ের ধারণা আরও ভালভাবে বোঝার জন্য সকালের প্রাতঃরাশ, দুপুরে মধ্যাহ্নভোজন এবং রাতের খাবারের নির্দিষ্ট সময় রুটিনের মতো শিখিয়ে দিন। কিছু কমান্ড অনুসরণ করানো ভালো যেমনঃ দাঁত ব্রাশ করো এবং তারপরে বিছানায় যাও।

 

 

Share