সেলফি রোগে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। বাঁচতে হলে নিয়মকানুনগুলো মেনে চলুন।

Selfies : A boon or bane অর্থাৎ সেলফি আশীর্বাদ না অভিশাপ এটা একটা বিতর্কিত বিষয়। সেলফি একটি recent phenomenon বা সাম্প্রতিক ঘটনা এবং অক্সফোর্ড ডিকশনারি ২০১৩ সালের একটি শব্দ হিসাবে নামকরণ করেছিল। এটি এমন একটি ফটোগ্রাফ হিসাবে বর্ণনা করা হয় যা কোনও ব্যক্তি সাধারণত নিজের সামাজিক মিডিয়াতে ভাগ করে নেওয়ার উদ্দেশ্যে সম্ভবত একটি স্মার্টফোন ব্যবহার করে ছবি তোলেন।আসলে স্মার্ট ফোনগুলোতে সেলফি অপশন চালু হবার পর থেকে অনেকে মনে করেন সেলফি যত ভাল হবে, তত বেশি পছন্দ এবং অনুসরণ আপনি সোশ্যাল মিডিয়াতে পাবেন যেমন ইনস্টাগ্রামে, ফেসবুকে। হয়তো কিছুটা সত্য।

২০১৬ সালের অক্টোবরে, একটি ১২ বছর বয়সী রাশিয়ান মেয়ে, ওকসানা বি নামে পরিচিত, একটি সেলফি তোলার জন্য বারান্দার রেলিংয়ের উপরে উঠার পরে মারা গেল।

রাশিয়ান মানুষ, কিরিল ওরেশকিন, যার ১৭,৯০০ ফলোয়ার ছিল এবং তিনি তার ছবিগুলির জন্য খ্যাতিমান ছিল। গা শিহরিত ছবি পোস্ট করতেন। সব উঁচু ভবনের উপরে।

ড্র্রুসিকের মতো ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীরা লম্বা স্ট্রাকচারের শীর্ষে তোলা ছবি সহ অনলাইনে একটি বৃহৎ ছবির অ্যালবাম তৈরি করেছিলেন। ২০১৫ সালে একটি বিল্ডিং থেকে পড়ে তিনি মারা যান।

গুগল অনুমান করেছে যে ২০১৪ সালে গুগল ফটোতে ২৪ বিলিয়ন সেলফি আপলোড করা হয়েছিল। প্রতিদিন প্রায় ১ মিলিয়ন সেলফি ক্লিক করা হয় ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী জনসংখ্যায়। পিউ গবেষণা কেন্দ্রগুলিতে দেখা গেছে যে হাজার হাজারের প্রায় 55% সামাজিক মিডিয়া পরিষেবাগুলিতে একটি সেলফি পোস্ট করেছে।

প্রযুক্তি “সেলফি” এর ঘটনাটিকেও উত্সাহিত করেছে। “কীভাবে একটি নিখুঁত সেলফি তুলতে হবে” এবং “সেলফির জন্য বিভিন্ন ভঙ্গি” সম্পর্কিত তথ্য ভাগ করে নেওয়ার সাইট রয়েছে  “সেলফি লাঠি” এবং “সেলফি জুতো” প্রবর্তনের ফলে সেলফি তুলতে লোকেদের মধ্যে আবেগ বৃদ্ধি পেয়েছে। আজকাল স্মার্ট ফোনগুলির পছন্দ তাদের সেলফি ছবির মানের উপর ভিত্তি করে। এছাড়াও, স্কুল বা কলেজ পর্যায়ে কিছু ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হয় যা “সেরা সেলফি” পুরষ্কারের মতো “সেলফি” প্রচার করে।

ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নয়াদিল্লিতে অবস্থিত পাবলিক মেডিকেল কলেজগুলির একটি দল অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস (এআইএমএস) সেলফি-সম্পর্কিত মৃত্যুর বিষয়ে চমকপ্রদ অনুসন্ধান করেছে।সেলফি মৃত্যু একটি উদীয়মান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে সেলফি সম্পর্কিত মৃত্যুর মহামারীটি মূল্যায়ন করতে আমরা এই গবেষণা চালিয়েছি।আমরা “সেলফি মৃত্যু;” এর মতো কীওয়ার্ডগুলির জন্য একটি বিস্তৃত অনুসন্ধান করেছি; সেলফি দুর্ঘটনা; সেলফি মৃত্যু; স্ব আলোকচিত্রীর মৃত্যু; সেলফি মৃত্যুর তথ্য সংগ্রহের জন্য সংবাদ প্রতিবেদন থেকে মোবাইল মৃত্যু / দুর্ঘটনা ”।

ফলাফল:
অক্টোবর ২০১১ থেকে নভেম্বর 2017 পর্যন্ত ১৩৭ টি ঘটনায় সেলফি তুলতে গিয়ে সমগ্র বিশ্বে ২৫৯ জন মারা গেছে। গড় বয়স 22.94 বছর ছিল। মোট মৃত্যুর প্রায় 72.5% পুরুষদের মধ্যে এবং 27.5% মহিলাদের মধ্যে ঘটেছিল। ভারত এবং তারপরে রাশিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং পাকিস্তানে সর্বাধিক সংখ্যক ঘটনা ও সেলফি-মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।

জার্নাল অফ ফ্যামিলি মেডিসিন অ্যান্ড প্রাইমারি কেয়ারে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে দেখা গেছে যে,সেলফি দ্বারা সৃষ্ট মৃত্যুর সর্বাধিক কারণ ডুবে যাওয়া, ট্রেন বা অন্য পরিবহন থেকে পড়ে যাওয়া এবং পাহাড়, সুউচ্ছ ভবন বা কোনো উঁচু থেকে পড়ে যাওয়া। সেলফি তোলার কারণে মৃত্যুর কারণগুলিও ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ হিসাবে আমরা শ্রেণিবদ্ধ করেছি। ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ অ-ঝুঁকিপূর্ণ আচরণের চেয়ে সেলফি তুলতে বেশি মৃত্যু ঘটায়। ঝুঁকিপূর্ণ আচরণের জন্য পুরুষদের, মহিলাদের তুলনায় মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় তিনগুণ বেশি।

উপসংহার:

সেলফি সংক্রান্ত মৃত্যুর ঘটনা হ্রাস করতে পর্যটন অঞ্চলগুলিতে বিশেষত জলাশয়, পর্বতশৃঙ্গ এবং উচ্চতর বিল্ডিংয়ের মতো জায়গাগুলিতে “কোনও সেলফি অঞ্চল” বা নিরাপদ সেলফি জোন ঘোষণা করা উচিত।

জন্মদিন, বিয়ে, অবসর ভ্রমণ, ধর্মীয় অনুষ্টান ও প্রেম সব কিছুই এখন খুব সহজে জানা যায় সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে। তবে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় মধ্যে ফেসবুক এখন খুবই জনপ্রিয়।ফেসবুকে অনেকে সেলফি দিয়ে স্ট্যাটাস দিতে দেখা যায়।পছন্দমত ছবি তোলা ও পোস্ট করা এখন রীতিমত নেশা রোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে।এই সেলফি তুলেতে গিয়ে অনেকের অকাল মৃত্যু হচ্ছে। যত্রতত্র সেলফি তোলার কারণে সারা বিশ্বে মারা যাচ্ছে অনেক মানুষ্।

ভারতের ‘জার্নাল অব ফ্যামিলি মেডিসিন অ্যান্ড প্রাইমারি কেয়ার’-এর সমীক্ষা ও তার ফল অনুযায়ী, ওই সময়ে পৃথিবীতে হাঙরের কামড়ে মৃত্যু হয়েছে ৫০ জনের। তবে সেলফি তুলতে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে তার চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি মানুষের।
গত ১০ বছরে এই ‘অসুখ’ আরও বেড়েছে বলেই মত মনোবিদদের। তবে নারীদের এই রোগের প্রবণতা পুরুষদের চেয়ে কম নয়।

সমীক্ষায় দেখা গেছে, পুরুষদের মধ্যেও এই আসক্তি রয়েছে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নারীদের ছবি তুলতে গিয়ে তাদের মৃত্যু হচ্ছে।

সেলফি রোগ থেকে বাঁচতে কী করবেন?

সেলফি তুলতে গিয়ে অনেকে মৃত্যু হচ্ছে। তাই এ বিষয়ে কিছু সর্তকতা অবলম্বন করতে হবে।

১. কীভাবে ভালো সেলফি তো যায় তার জন্য আপনি বিভিন্ন ওয়েবসাইট সাহায্যে নিতে পারেন।

৩. সেলফি তোলার জন্য শুধু স্টিক’ নয়,নিজস্বী তোলার জন্য বিশেষ জুতোও পাওয়া যাচ্ছে বাজারে। সেলফি-ফ্রেন্ডলি হওয়ার উপরেই স্মার্টফোনের বিক্রি বাড়ছে। ইতিমধ্যে ইউরোপে ‘সেলফি স্টিক’ কে ‘নার্সিসাস স্টিক’ বলেও ডাকা হচ্ছে।

৪. ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় দাড়িয়ে সেলফি তোলা থেকে বিরত থাকুন।

৫. গাড়ি চালানোর সময় সেলফি তুলবেন না।

তবে সবথেকে বড়ো ঔষধ হলো সচেতনতা। সেলফি মৃত্যু কমাতে পারে এই সচেতনতা।পরের বার আপনি যখন কোনও প্রাকৃতিক খাঁড়া বাঁধের প্রান্তের কিনারে বা জলপ্রপাতের শীর্ষে দাঁড়িয়েছেন, দ্রুত সেলফি তোলার আগে সচেতন হন, নিজের যত্ন নিন। এটি আপনার শেষ কাজ হতে পারে।

Share