যে গাছগুলি ঘরের ভেতর ঠান্ডা ও দূষণ মুক্ত রাখে।

সৃষ্টির প্রথম থেকে মানুষ ও গাছের সাথে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। মানুষ যে অক্সিজেন গ্রহণ করে বেঁচে থাকে তার অধিকাংশই গাছ থেকে আসে আবার গাছের খাবার তৈরি করার জন্য প্রয়োজনীয় কার্বন ডাই অক্সাইড মানুষের প্রশ্বাস থেকে পাওয়া যায়। নগরায়নের ফলে শহরকেন্দ্রিক জীবনে দিন দিন গাছের পরিমাণ কমে আসছে। তাই প্রাণ ভরে সবুজ দেখা বা ফ্রেশ অক্সিজেন গ্রহণ বেশ দুরূহ হয়ে পড়ছে।

আজকাল শহরের অনেকেই ছাদ বাগান, ব্যালকনি বাগান ইত্যাদি করেন যা আমাদের পরিবেশের জন্য ভালো। অনেক গাছ আছে যেগুলি বৃদ্ধির জন্য খুব বেশি আলো বাতাসের প্রয়োজন হয় না। এই গাছগুলি আমরা আমাদের ঘরের মধ্যে রাখতে পারি। এতে ঘরের মধ্যে বিশুদ্ধ অক্সিজেনের প্রবাহ যেমন বাড়বে তেমনি ঘরও ঠান্ডা থাকবে। আসুন কিছু গাছ সম্পর্কে জেনে নিন যে গাছগুলি আমাদের ঘরের ভেতর ঠান্ডা ও দূষণ মুক্ত রাখে।

স্পাইডার প্ল্যান্ট:

এই গাছটির বাঁচার জন্য প্রাকৃতিক আলো প্রয়োজন ঠিকই, কিন্তু সরাসরি সূর্যের আলো দরকার হয় না। কারণ সূর্যের আলো এই গাছটির ক্ষতি করতে পারে। এই গাছটির জন্য রান্না ঘরই ভালো। কারণ রান্নাঘরের মধ্যে যে পরিমাণ কার্বন মনোক্সাইড থাকে তা গ্রহণ করে নিতে পারে স্পাইডার প্ল্যান্ট নামক এই গাছটি। প্রায় ২০০ বর্গ মিটার জায়গা বিশুদ্ধ রাখতে পারে।

ফিকাস:

এই গাছটি বাতাসের তাপমাত্রা ঠান্ডা রাখার পাশাপাশি বাতাস দূষণ কমাতে এবং বাতাসের গুণমান উন্নত করতে সহায়তা করে। বাতাসের টক্সিন শুষে নিতে পারে ফিকাস। সাধারণত অন্য গাছপালার যতটা আলো বাতাস প্রয়োজন, এই গাছের আলো বাতাস প্রয়োজনীয়তা অনেকাংশেই কম।

অ্যালোভেরা:

অ্যালোভেরা গাছ খুব সহজেই বৃদ্ধি পায়। বায়ু দূষণ রোধে অ্যালোভেরা গাছ অদ্বিতীয়। বাতাস থেকে ক্ষতিকর পদার্থ শোষণ করার পাশাপাশি অক্সিজেন সরবরাহ করতেও এর জুড়ি মেলা ভার।

পিস লিলি:

ঘরের যে কোনো জায়গায় বসানো যায় এই গাছটি। বাঁচার জন্য পানি, বাতাসের বেশি প্রয়োজন পড়ে না। ফলে সহজেই বেঁচে থাকে পিস লিলি। ঘরের মধ্যে থাকা বাতাস থেকে ক্ষতিকর উপাদান নষ্ট করে এই গাছ।

স্নেক প্ল্যান্ট:

স্নেক প্ল্যান্ট রাত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই গাছটি বাতাস থেকে কার্বন-ডাই-অক্সাইড শোষণ করে অক্সিজেন ছাড়ে। বেডরুমের জন্য আদর্শ স্নেক প্ল্যান্ট। শীতল রাখার পাশাপাশি বাড়িতে প্রচুর পরিমাণে টক্সিন শুষে রাখে।

আরেকা পাম:

রুমের ভিতরে লাগানো সর্বাধিক জনপ্রিয় গাছ আর্কা পাম গাছ। এই গাছটি কম আলো পছন্দ করে ও প্রাকৃতিক হিউমিডিফায়ার হিসাবে কাজ করে। বাড়ি শীতল রাখার পাশাপাশি, এটি বায়ু থেকে বেনজিন, ফর্মালডিহাইড এবং ট্রাইক্লোরিথিলিন সরাতে পারে।

গোল্ডেন পোথোস:

সামান্য যত্নেই বেড়ে ওঠে এই গাছটি। ঘরের সৌন্দর্য্য বাড়ানোর পাশাপাশি বাতাস শীতল ও শুদ্ধ রাখবে। ঘরের যেকোনো এক কোণে বেশ ভালোই মানায় গোল্ডেন পোথোস। এই গাছ কার্বন মনোক্সাইড, বেঞ্জিন এবং ফরমালডিহাইডের দূষণ থেকে ঘরের ভিতরের পরিবেশকে মুক্ত করে।

বোস্টন ফার্ন:

এই উদ্ভিদটি কেবল শীতল বা আর্দ্রতা বাড়াতে সহায়তা করে না, তবে অ্যালোভেরার মতো এটি বাতাসের বাইরে ফর্মালডিহাইড পরিষ্কার করার জন্যও ভাল। আসলে, নাসার বিজ্ঞানীরা বলেছেন ফার্ন অন্যতম কার্যকর বায়ু-বিশোধক উদ্ভিদ।

Share