কি কারণে হাড় ক্ষয় হয়?

হাড় ক্ষয় সমস্যায় অনেকেই ভোগেন। শরীরে হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়াকে হাড় ক্ষয় বলে। নারী-পুরুষ উভয়ের এ রোগ হয়ে থাকে কিন্তু নারীদের একটু বেশি হয়। হাড় ক্ষয় হলে হাড় অতি দ্রুত ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। হাড় ক্ষয় আমাদের জীবনযাপনে মারাত্মক সমস্যা হয়ে দাড়াতে পারে।

তবে হাড় ক্ষয় এমনি এমনি হয় এর পেছনে কয়েকটি কারণ আছে। আমাদের খাওয়া দাওয়ায় এবং জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন এনে রোগটির ঝুঁকি কমানো যেতে পারে।

নিচে হাড় ক্ষয়ের কয়েকটি কারণ দেওয়া হলো

 দীর্ঘসময় বসে থাকা:

কাজ বিহীন জীবনযাপনে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বেড়ে যায়। আমরা ব্যায়াম, হাঁটাচলা করে হাড়ের ওপর ভার প্রয়োগ করতে পারি, যা হাড় গঠনকারী কোষগুলোকে সতেজ করে। আমরা হাড়কে যত বেশি ব্যবহার করবো, তত বেশি খাপ খাওয়াতে পারবে ও মজবুত হবে।

তাই বয়স্ককালে আমাদের হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি কমাতে এখন থেকেই ব্যায়াম করতে পারি। হাড় ক্ষয় প্রতিরোধের একটি উত্তম উপায় হলো নিয়মিত হাঁটাচলা করা।

 উচ্চ প্রোটিনযুক্ত খাবার খাওয়া:

অধিক মাংস খাওয়া হাড়ের জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে। যেসব লোকেরা প্রচুর মাংস খান সেসব লোকেদের হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রয়োজনের চেয়ে অধিক প্রোটিন খেলে হাড় ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

অধিক মাত্রায় উচ্চ প্রোটিনযুক্ত খাবার খেলে কিডনিগুলো শরীর থেকে ক্যালসিয়াম বের করে দেয়। কিন্তু ক্যালসিয়াম হলো হাড় গঠনের অন্যতম প্রধান উপকরণ, এটি কমে গেলে হাড়ের ঘনত্ব কমে যায়।

 অধিক লবণ খাওয়া:

হাড় ক্ষয়ের আরেকটি কারণ হলো অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব লোকেরা অধিক পরিমাণে লবণ খান তাদের ফ্র্যাকচারের হার লবণ কম খাওয়া মানুষদের তুলনায় চারগুণ বেশি। প্রতিদিন ২,৩০০ মিলিগ্রামের বেশি লবণ খাওয়া ঠিক নয়।

ওজন কমে যাওয়া:

আমাদের সুস্থ্য থাকার জন্য শরীরের ওজন সঠিক পরিমান থাকা জরুরী। শরীরের ওজন বেশি বেড়ে গেলে অথবা কমে গেলে কোনোটাই হাড়ের জন্য ভালো নয়। হাড়ের সুস্থ্যতা বজায় রাখতে ওজন স্বাস্থ্যকর পর্যায়ে থাকা জরুরী।

অ্যালকোহলে আসক্তি:

অধিক অ্যালকোহল পানে হাড় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে। এ ধরনের পানীয় প্যানক্রিয়াস ও লিভারের ক্ষতি করে। অ্যালকোহল শরীরের হরমোনকেও প্রভাবিত করে। করটিসলের মাত্রা বেড়ে গিয়ে হাড়ের খনিজ ঘনত্ব কমে যেতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, হাড় গঠনকারী কোষ অস্টিওব্লাস্টের জন্য অ্যালকোহল বিষাক্ত।

 কফির আসক্তি:

কফি পান করা শুরুর দিকে উপকার হলে ও পরবর্তীতে হাড়ের জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে। হাড়ের ওপর ক্যাফেইন যে প্রভাব ফেলে তা বয়স্কদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। হাড় ক্ষয়ের যদি অন্যান্য রিস্ক ফ্যাক্টর থাকে তাহলে কফি পরিহার করাই ভালো। যদি কারো প্রচুর কফি পানের অভ্যাস থাকে তাহলে কমানোর চেষ্টা করতে হবে।

আমরা এসব দিকে খেয়াল রাখলে হাড় ক্ষয় রোগ থেকে মুক্তি পেতে পারবো।