উচ্চতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে যেসব খাবার।

অনেকেই লম্বা হওয়ার বা উচ্চতা বাড়ানোর চেষ্টা করেন। তবে বিষয়টা সম্পূর্ণ নির্ভর করে বংশগত বৈশিষ্ট্যের ওপর। একটা নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত মানবদেহের বৃদ্ধি ঘটে, উচ্চতা বাড়ে। তবে উচ্চতা ঠিকমতো বৃদ্ধি পাওয়ার ক্ষেত্রে সঠিক খাবারের ভূমিকা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, সুস্থ্য ও সক্রিয় জীবনযাপন করলে উচ্চতা বাড়ানো সম্ভব। শরীরচর্চা ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস উচ্চতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এই সময় যদি প্রতিদিনকার খাদ্যতালিকায় এই খাবারগুলো রাখা যায় তবে দেহের উচ্চতা বৃদ্ধির গতি ত্বরান্বিত হবে।

প্রোটিন স্বাস্থ্যকর বিকাশে মুখ্য ভূমিকা পালন করে, টিস্যু মেরামত এবং ইমিউন ফাংশন ঠিক রাখে। ক্যালসিয়াম, ভিটামিন “ডি”, ম্যাগনেসিয়াম এবং ফসফরাস হাড়ের স্বাস্থ্যের সাথে জড়িত।

উচ্চতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে যেসব খাবার:

আসুন এবার দেখে নেওয়া যাক, উচ্চতা বাড়াতে সাহায্য করে যেসব খাবার:

ডিম:

ডিম একটি সুষম খাদ্য। এতে প্রচুর পরিমান প্রোটিন ও ভিটামিন রয়েছে, যা আপনার উচ্চতা বৃদ্ধিতে সহায়ক। ডিম উচ্চতা বাড়াতে সবচেয়ে কার্যকর ও জনপ্রিয় একটি খাদ্য। ডিমে আছে ভিটামিন “ডি”, ক্যালসিয়াম এবং রিবোফ্ল্যাবিন। ডিমে থাকা উচ্চমাত্রার প্রোটিন উপাদান হাড়ের উন্নয়ন ও হাড়কে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে।

আপেল:

উপকারী ফল আপেল। দিনে একটি আপেল খেলে তা আমাদের সুস্থ থাকতে সাহায্য করে, একথা প্রায় সবারই জানা। তবে আপেল কিন্তু লম্বা হতেও সাহায্য করে। আপেলে থাকা ফাইবার এবং পানি লম্বা হতে সাহায্য করে থাকে। তাই যাদের এখনও লম্বা হওয়ার বয়স আছে, তারা প্রতিদিন খাবারের আধা ঘণ্টা আগে একটি করে আপেল খেলে মিলবে উপকার।

মটরশুঁটি:

মটরশুঁটি ছোট বড় সবাই বেশ পছন্দ করেন। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, মিনারেল, ফাইবার, লুটেইন ও প্রোটিন আছে যা শরীরের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে সহায়তা করে এবং উচ্চতা বাড়াতে সহায়ক। তবে শুকনো মটরশুঁটিতে এই সকল উপাদান উপস্থিতি থাকে না।

ঢেঁড়স:

উচ্চতা বৃদ্ধিতে সহায়ক যে সবজিগুলো আছে, তার মধ্যে ঢেঁড়স অন্যতম। ঢেঁড়সে আছে ভিটামিন, মিনারেল, কার্বোহাইড্রেট, জল ও ফাইবার যা গ্রোথ হরমোনের কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে উচ্চতা বাড়াতে সহায়তা করে।

শাক-সবজি ও ফলমূল:

পচিঁশ বছরের পরও উচ্চতা বাড়াতে সাহায্য করবে শাক ও সবজি। তাজা শাক সবজিতে প্রচুর পরিমাণ আয়রন, ফাইবার ও ভিটামিন রয়েছে, যা উচ্চতা বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত জরুরী। আর এজন্য খেতে পারেন পেঁপে, আম, মিষ্টি আলু ও টমেটো। এগুলোতে উপস্থিত ভিটামিন “এ” হাড়ের বৃদ্ধি সাধন করে উচ্চতা বাড়াতে সাহায্য করে।

চিকেন:

চিকেন বা মুরগির মাংস পচিঁশ বছর বয়স পরে উচ্চতা বাড়াতে সবথেকে বেশি কার্যকরী। চিকেনে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ প্রোটিন যা মাসল ও টিস্যূকে শক্ত করতে সাহায্য করতে পারে।

মুরগিতে বিশেষত ভিটামিন বি-12 এর উচ্চ পরিমাণে থাকে, একটি জল দ্রবণীয় ভিটামিন যা লম্বা হয়ে ওঠা এবং আপনার উচ্চতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া মাংস অ্যামিনো অ্যাসিড সমৃদ্ধ যা হাড়ের গঠন এবং বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে।

মাছ:

সামুদ্রিক মাছগুলোতে প্রচুর পরিমাণ প্রোটিন ও ভিটামিন আছে যা উচ্চতা বৃদ্ধিতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। সার্ডিন ফিশ, টুনা ফিশ ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণ প্রোটিন আছে যা উচ্চতা বৃদ্ধিতে ম্যাজিকের মতো কাজ করে।

পালংশাক:

প্রায় সকলেই শাক পছন্দের খাবার। তার মধ্যে পালংশাকের রয়েছে বিশেষ কদর। পালং শাকে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন “সি”, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম, ফাইবার। আর এই উপাদানগুলি উচ্চতা বৃদ্ধি করে থাকে। নিয়মিত পালং শাক খেলে অল্প কিছু দিনের মধ্যে উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে।

দই:

প্রোটিন সহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদানের একটি দুর্দান্ত উৎস দই। দইয়ের প্রায় ২০ গ্রাম প্রোটিন। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত করা এবং প্রদাহ হ্রাস করার পাশাপাশি, কিছু গবেষণা দেখায় যে দইয়ে থাকা প্রোবায়োটিকগুলি শিশুদের বৃদ্ধি সহায়তা করতে পারে। এছাড়া দই ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস এবং পটাসিয়াম সহ হাড় বিপাকের সাথে জড়িত বেশ কয়েকটি পুষ্টির একটি দুর্দান্ত উৎস।

ব্রকলি:

উচ্চতা বৃদ্ধিতে সবুজ রঙের এই সবজিটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সামান্য তেতো স্বাদের কারণে অনেকে ব্রোকলি পছন্দ করেন না। কিন্তু এতে রয়েছে ভিটামিন “সি”, ফাইবার, আয়রন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা উচ্চতা বাড়াতে সহায়তা করে।

ডার্ক চকোলেট:

চকোলেট খেতে তো সবাই পছন্দ করে। তবে অনেকে নানা কারণে শিশুদের চকোলেট খেতে দিতে চান না। কিন্তু ডার্ক চকোলেট শিশুদের লম্বা করতে সাহায্য করে। এতে থাকা ক্যালরি কোষ বদ্ধি করে ফলে শিশু দ্রুত লম্বা হয়ে ওঠে।

বাঁধাকপি:

প্রকৃতির এক অপূর্ব প্রক্রিয়ায় সৃষ্টি হয় বাঁধাকপি। এটি একটি সিজনাল সবজি। তাই যখন এই সবজি পাবেন পর্যাপ্ত পরিমাণে খাওয়ার চেষ্টা করবেন। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, মিনারেল, আয়রন, প্রোটিন ও ফাইবার যা উচ্চতা বৃদ্ধি করার পাশাপাশি ক্যান্সার প্রতিরোধেও ব্যাপক ভূমিকা রাখে।

মিষ্টি আলু:

মিষ্টি আলু অবিশ্বাস্যভাবে স্বাস্থ্যকর। এগুলি ভিটামিন “এ” সমৃদ্ধ, যা হাড়ের স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে পারে এবং আপনাকে লম্বা হতে বা আপনার উচ্চতা বজায় রাখতে সহায়তা করে। এগুলিতে উভয় দ্রবণীয় এবং দ্রবণীয় ফাইবার থাকে, যা হজম স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে পারে এবং ভাল অন্ত্র ব্যাকটেরিয়া এর বিকাশ ঘটাতে পারে।

শিম:

শিম অবিশ্বাস্যরূপে পুষ্টিকর এবং প্রোটিনের একটি ভালো উৎস। প্রোটিন ইনসুলিনের মতো বৃদ্ধি করে, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ হরমোন যা শিশুদের বৃদ্ধিকে সাহায্য করে।

শিমের আয়রন ও “বি” ভিটামিনও প্রচুর পরিমাণে থাকে, যা রক্তাল্পতা থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। টিস্যু বৃদ্ধির জন্য কেবল আয়রনের প্রয়োজন হয় না, তবে আয়রনের ঘাটতিজনিত রক্তাল্পতা শিশুদের বিলম্বিত বৃদ্ধিতেও অবদান রাখতে পারে।

এছাড়া এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, খনিজ ও প্রোটিন। এই সকল উপাদান শরীরের টিস্যু ও মাংসপেশি গঠনে সাহায্য করে। ফলে আমাদের শরীরের উচ্চতা বৃদ্ধি পায়।

দুধ:

গরুর দুধে আছে প্রচুর ক্যালসিয়াম। ক্যালসিয়াম আমাদের হাড়ের উন্নয়ন ও হাড় শক্তিশালীকরণে কাজে লাগে। গরুর দুধে থাকা ভিটামিন “এ” দেহের ক্যালসিয়াম সংরক্ষণেও কাজ করে এবং এর সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার নিশ্চিতে সহায়তা করে। ক্যালসিয়াম প্রাকৃতিকভাবে উচ্চতা বাড়ানোর সহায়ক উপাদানগুলোর মধ্যে একটি।

কুমড়ো বীজ:

এরা ম্যাগনেশিয়াম সমৃদ্ধ। যা হাড় দাঁতের গঠনের জন্য জরুরি। এছাড়া এতে আছে অ্যামাইনো এসিড যা উচ্চতা বাড়াতে সহায়ক ভুমিকা পালন করে।

মটরশুটি, ছোলা, মসুর:

ডাল জাতীয় খাবার রাখুন প্রতিদিনের খাবারের তালিকায়। এধরনের খাবারে প্রচুর প্রোটিন, ফাইবার, অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস, ভিটামিন “বি” এবং আয়রন রয়েছে। যেগুলো শরীরের কোষ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে থাকে এবং এর পাশাপাশি এগুলো লম্বা হতে সাহায্য করে।

বাদাম:

বাদাম উচ্চ পুষ্টিগুনে সমৃদ্ধ। বাদাম স্বাস্থ্যের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ একটি খাবার। বাদামে থাকা বিভিন্ন প্রোটিন ও ভিটামিন দেহে বিভিন্ন পুষ্টি যোগায় ও লম্বা হতে সহায়তা করে। এতে যে ভিটামিন, খনিজ এবং অ্যামাইনো এসিড থাকে তা দেহের টিস্যু মেরামত এবং নতুন হাড় ও মাংসপেশির বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। যার ফলে উচ্চতাও বাড়ে।

এছাড়া বাদাম ভিটামিন “ই” সমৃদ্ধ, একটি চর্বিযুক্ত দ্রবণীয় ভিটামিন যা অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট হিসাবে কাজ করে। এই গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিনের ঘাটতি শিশুদের বৃদ্ধি সহ গুরুতর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হতে পারে।

  • উচ্চতা বৃদ্ধির জন্য অবশ্যই নিয়মিত ব্যয়াম করুন।
  • প্রতিদিন অন্তত আট ঘন্টা ঘুম নিশ্চিত করুন।
  • ক্যাফেইন পানীয় (চা, কফি) যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন।
  • দীর্ঘক্ষন একটানা বসে থাকবেন না। সিড়ি থেকে উঠা-নামা করলেও উচ্চতা বাড়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।
রেফারেন্স:
Share