কামরাঙা শিম মাথাব্যথা কমায়, চোখের জন্য ভালো ও তারুণ্য ধরে রাখে।

খুবই বিরল আজকাল দেখা যায় না। অনেকে চেনেও না। এতো পুষ্টিকর একটি শিম আজ আমাদের মধ্যে থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে। এর পাতা, ডালপালা, ফুল, বীজ, ইত্যাদি কোন না কোন ভাবে খাওয়া যায়। কামরাঙা শিম ছাড়া এর আরো নাম আছে যেমন -গোয়া বিন, চার কোণ বিন, বা রাজকন্যা মটরও বলা হয়।

পশ্চিম আফ্রিকা কামরাঙা শিমের আদি স্থান। কামরাঙা শিমের বৈজ্ঞানিক নাম: Psophocarpus tetragonolobus এবং ইংরেজিতে: Winged bean. বরবটি ও দেশি শিমের মতো লতা গাছ। ফলের আকৃতি পাখা বা শিরা বিশিষ্ট যা দেখতে অনেকটা কামরাঙা ফলের মতো। এজন্য এই শিমের নামকরণ করা হয়েছে কামরাঙা শিম।

কামরাঙা শিমে প্রোটিন অনেক বেশি। বীজে সয়াবিনের মতো প্রোটিন থাকে (৩০-৩৯%)। আরও আছে মিনারেলস, কার্বোহাইড্রেট, ফ্যাট। কার্বোহাইড্রেট ও সোডিয়ামের পরিমাণ বেশি থাকে ও কোলেস্টেরল থাকে না। ক্যালসিয়ামের উপস্থিতি এতে খুব বেশি।

কামরাঙা শিম অনেক পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ। হারবাল ঔষুধ তৈরিতে উপাদান হিসেবে এই শিম গাছ ব্যবহার করা হয়।

কামরাঙা শিমের স্বাস্থ্য উপকারিতা

কামরাঙা শিম গাছে সাধারণত অক্টোবর মাসে ফুল ধরে এবং পুরা শীতকাল জুড়েই শিম হতে থাকে। কামরাঙা শিম কচি অবস্থায় সংগ্রহ করতে হয়। বেশি বয়স হয়ে গেলে এই শিম খাওয়ার অনুপোযোগী হয়ে পড়ে। নিচে এর স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে আলোচনা করা হলো –

তারুণ্য ধরে রাখে:

কামরাঙা শিমের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে কপার থাকে যা একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট। অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট ফ্রি র‌্যাডিকেল থেকে কোষ সুরক্ষার জন্য কাজ করে ফ্রি র‌্যাডিকালগুলির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে করে।

ফ্রি র‌্যাডিকাল বিভিন্ন অঙ্গ আক্রমণ করে যেমন বয়সের ছাপ বাড়িয়ে দেয়, বিভিন্ন ধরণের ক্যান্সার, ম্যাকুলার অবক্ষয় এবং কিডনির রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। প্রতিদিনের ডায়েটে পর্যাপ্ত কপার থাকলে আপনার বয়সের তুলনাই কম বয়সী দেখাবে। কামরাঙা শিমের মধ্যে ৫.২৪২ মিলিগ্রাম কপার থাকে।

মাথাব্যথা হ্রাস করে:

গবেষণায় দেখা গেছে যে শরীরে ট্রাইপটোফান (tryptophan) হ্রাস পেলে মাথাব্যথা এবং মাইগ্রেনের সাথে সম্পর্কিত ব্যথা হয়। অস্ট্রেলিয়ার মারডোক ইউনিভার্সিটি স্কুল অব সাইকোলজি দ্বারা পরিচালিত একটি গবেষণায় আবিষ্কার করা হয়েছিল যে ট্রাইপটোফান সহ ১৯ টি বিভিন্ন অ্যামিনো অ্যাসিড সহ একটি পানীয় পান করার পাঁচ থেকে আট ঘন্টা পরে মাইগ্রেনের লক্ষণগুলি হ্রাস পেয়েছে।

তাই মাথাব্যথা এবং অন্যান্য সম্পর্কিত সমস্যা কমাতে কামরাঙা শিমের মতো ট্রিপটোফান সমৃদ্ধ খাবার অন্তর্ভুক্ত করুন।

গর্ভবতী মহিলাদের জন্য:

সাধারণত চিকিৎসকরা গর্ভবতী মহিলাদের খাদ্য তালিকায় আয়রন সমৃদ্ধ খাবার রাখার পরামর্শ দেন। পর্যালোচনার একটি রিপোটে দেখা গেছে প্রসবকালীন সময়ে ডায়েটে আয়রন কম থাকলে গর্ভাবস্থায় গর্ভবতী মায়ের রক্তাল্পতা দেখা দেয়।

গর্ভবতী মহিলারা অবশ্যই দিনে ২৭ মিলিগ্রাম আয়রন গ্রহণ করতে হবে। কামরাঙা শিমে ২৪.৪৬ মিলিগ্রাম আয়রন থাকে। তাই পর্যাপ্ত পরিমাণে আয়রন পাওয়ার জন্য এটি আপনার ডায়েটে নিয়মিত অন্তর্ভুক্ত করা ভালো।

চোখের জন্য ভালো:

গবেষণা প্রমাণ করেছে যে কামরাঙা শিম থাকা ভিটামিন বি-1(থায়ামিন) চোখের ছানি এবং গ্লুকোমার মতো দৃষ্টি সমস্যা থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করতে পারে। এই শিমে ভিটামিন বি-1 এর অন্যতম সেরা উৎস।

এতে ১.৮৭৫ মিলিগ্রাম ভিটামিন বি-1 রয়েছে। তাই আপনার চোখের সমস্যা দূর করতে প্রতিদিন কামরাঙা শিম খান।

ওজন কমানো:

হজমকে সহায়তা করা এবং কোষ্ঠকাঠিন্য রোধ করা ছাড়াও ফাইবার ওজন কমাতে এবং স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখাতে সাহায্য করে। ফাইবার যুক্ত খাবার অন্যান্য খাবারের তুলনায় দীর্ঘ সময় ধরে পেটে ভরিয়ে রাখতে সহায়তা করে।

উচ্চ ফাইবারযুক্ত খাবারগুলিতে ক্যালরি কম থাকে। কামরাঙা শিম ফাইবারের অন্যতম সেরা উৎস তাই ওজন কমাতে চাইলে এটি নিয়মিত ডায়েটে অন্তর্ভুক্ত করুন।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে:

জিঙ্ক সমৃদ্ধ খাবার ঘন ঘন ঠান্ডা ও অসুস্থতার বিরুদ্ধে লড়াই করতে প্রাকৃতিক ওষুধের মতো কাজ করে। কামরাঙা শিম জিঙ্ক সমৃদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি ভিটামিন “সি”তে পরিপূর্ণ। যা অনেক সংক্রমণের বিরুদ্ধে শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা জোরদার করতে সহায়তা করে।

এটি রক্তনালীগুলির স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখতে সহায়তা করে এবং শরীরকে ক্যান্সার থেকে রক্ষা করে।

উচ্চ প্রোটিন সমৃদ্ধ:

শিমের বীজ প্রোটিনের একটি ভালো উৎস। কামরাঙা শিমের বীজে সয়াবিনের মতো প্রোটিন থাকে। আরও আছে মিনারেলস, কার্বোহাইড্রেট, ফ্যাট। গবেষণায় দেখা গেছে যে অন্যান্য অনেক বীজের মতো কামরাঙা শিমে দুধের সমান প্রোটিন থাকে।

সতর্কতা:

আপনি যদি জটিল কোনো রোগে আক্রান্ত হন বা অন্য কোনো কারণে রেগুলার কোনো মেডিকেল কোর্স-এর মধ্য দিয়ে যান তাহলে অবশ্যই খাওয়ার আগে আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ নিবেন।

রেফারেন্স:

Share