অস্টিওপোরোসিস রোগের কারণ ও লক্ষণ।

অস্টিওপোরেসিস (Osteoporosis) হলো ক্যালসিয়াম এর অভাব জনিত হাড়ক্ষয় রোগ। অস্টিওপোরোসিস রোগ হলে হাড়ের ঘনত্ব কমে গিয়ে হাড় হালকা ও ভঙ্গুর হয়ে যায় এবং হাড় ভাঙার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

আমাদের বয়স বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে যে রোগগুলো আমাদের দেহে বাসা বাঁধতে শুরু করে, তার মধ্যে অন্যতম রোগ হল অস্টিওপোরোসিস বা হাড়ের ক্ষয়। মূলত হাড়ের ক্ষয় রোগটি হওয়ার পেছনে নির্দিষ্ট মাত্রায় হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়াকে দায়ী করেন বিশেষজ্ঞরা। অস্টিওপোরোসিস সম্পর্কিত ফ্র্যাকচারগুলি পিছনে, কব্জিতে বা মেরুদণ্ডে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।

হাড়ের ঘনত্ব কমতে শুরু করলে হাড়ে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ কমে আসে এবং হাড়ের স্বাভাবিক গঠন নষ্ট হয়ে যায়। ফলে অস্টিওপোরোসিসের মতো রোগ শরীরে বাসা বাঁধে। এবার জেনে নেওয়া যাক, অস্টিওপোরোসিস রোগের কারণ ও লক্ষণ সম্পর্কে।

অস্টিওপোরোসিস রোগের কারণ

নিচে অস্টিওপোরোসিস রোগের কারণ দেওয়া হলো –

  • হাড়ের গঠন স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার কারণে।
  • শরীরে ক্যালসিয়ামের অভাব থাকার কারণে।
  • নারীদের শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোনের অভাবে থাকার কারণে।
  • পুরুষের শরীরে টেস্টোস্টেরন হরমোনের অভাব থাকার কারণে।
  • শরীরে ভিটামিন-‘ডি’ এর অভাব থাকার কারণে।
  • শরীরে থাইরয়েড এবং প্যারাথাইরয়েড গ্রন্থিজনিত সমস্যা থাকার কারণে।
  • জেনেটিক বা বংশানুক্রমিক রোগ যেমন- হাড়ের ক্যান্সার রোগ থাকলে অস্টিওপোরোসিস হয়ে থাকে।

অস্টিওপোরোসিস রোগের লক্ষণ

নিচে অস্টিওপোরোসিস রোগের লক্ষণ দেওয়া হলো –

  • দীর্ঘদিন ধরে ঘাড় ও পিঠে ব্যথা হলে।
  • খুব সহজে দেহের বিভিন্ন স্থানে হাড় (মেরুদণ্ড, কোমর বা কব্জির হাড়) ভেঙে গেলে।
  • দীর্ঘদিন ধরে হাড় ও পেশিতে ব্যথা হলে।
  • হাড়ের পুরুত্ব কমতে থাকে।
  • পেশির শক্তি কমতে থাকে।
  • শরীর আস্তে আস্তে কুঁজো হয়ে যেতে থাকলে বুঝতে হবে অস্টিওপোরোসিস রোগে আক্রান্ত।