মোবাইল ফোনের গল্প।

মোবাইল ফোন

—————————

আজকের দিনে মোবাইল ফোন চেনে না বা দেখে নি – এমন কাউকে বোধ হয় পাওয়া যাবে না। আমাদের গুরুজনদের কারো কারো মোবাইল ফোন আছে।

কিন্তু যাদের নেই তাদের অনেকেই মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে জানে – কেউ একটু বেশি, কেউ একটু কম। মোবাইল ফোন দিয়ে যে কতো কিছু করা যায় তার সবটা অবশ্য সবাই জানে না।

তবে যারা একটু কম জানে তারাও প্রয়োজন মতো তাদের কাজটুকু মোবাইল ফোনে সেরে নিতে পারে। এখন এমন মোবাইল ফোনও আছে যাতে ইন্টারনেট সংযোগ থাকে, ছবি তোলা যায়, সিনেমা দেখা যায়।

এসব মোবাইলে আমরা বই পড়তে পারি, গান শুনতে পারি, এসএমএস পাঠাতে পারি। এমনকি টাকাও পাঠাতে পারি। তুমি তোমার বাসায় বসে মোবাইলে ছবি তুলে সেই ছবি পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে পাঠাতে পার।

কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না যে, মোবাইল ফোন আবিষ্কার হলো কেমন করে, অথবা এত কেমন করে কাজ করে। আসলে মোবাইল ফোন কেউ একজন আবিষ্কার করেননি।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় থেকেই এটার উদ্ভাবন কাজ শুরু হয়। তারপর কালে-কালে একটু একটু করে আজকের মোবাইল ফোন বেরিয়েছে প্রতি বছরই এর পরিবর্তন ও উন্নয়ন ঘটছে।

আমেরিকার বিখ্যাত বিজ্ঞানী আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল টেলিফোন আবিষ্কার করেন। ১৮৭৬ সালের ১০ই মার্চ তিনি তার সহকারী টমাস অগাস্টাস ওয়াটসনের সাথে প্রথমবারের মতো সফল টেলিফোন কল করেন।

প্রথম পর্যায়ে সীমিত আকারে মোবাইল ফোন ব্যবহার শুরু হয় সেন্ট লুই শহরে ১৯৪৭ সালে। ধাপে ধাপে এর উন্নতি ঘটে। ১৯৬৪ সালের দিকে শুধু গাড়িতে মোবাইল ফোন থাকত। তার ওজন ছিল প্রায় এক কেজি।

১৯৭১ সালে ফিনল্যান্ডে সকল মানুষের জন্য মোবাইল ফোন ব্যবহার শুরু হয়। ১৯৭২ সালে গবেষক মার্টিন কুপার হাতেধরা ছোট সেট তৈরি করেন।

পাশের ঘরে ফোন করা থেকে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তেই এখন ফোন দিয়ে যোগাযোগ করা হচ্ছে। কিন্তু ব্যাপারটা কিভাবে ঘটে?

যে এলাকা জুড়ে মোবাইল ফোন কাজ করবে তার সবটাকে কতকগুলো অংশে ভাগ করা হয়। প্রত্যেক অংশে শক্তিশালী বেতার টাওয়ার (মাস্তুল) বসানো হয়।

এই টাওয়ারগুলো একটি অন্যটির সাথে যোগাযোগের একটা অদৃশ্য জাল (নেটওয়ার্ক) তৈরি করে। মোবাইল সেটের মধ্যে থাকে একটা “অ্যান্টেনা”।

সারাক্ষণ তরঙ্গের মাধ্যমে সেটি টাওয়ারের সাথে যোগাযোগ রাখে। মনে কর কোনো সেট থেকে বোতাম চেপে অন্য কোনো নম্বরে যোগাযোগ করা হলো।

তখন সবচেয়ে কাছের টাওয়ারের মাধ্যমে অন্য প্রান্তের মোবাইল সেটকে সেটি খুঁজে নেয়। একটাতে না পেলে রিলেরেসের মতো সেটি পরপর যতগুলো টাওয়ার দরকার সব পার হয়।

মুহূর্তের মধ্যে পৌঁছে যায় নির্দিষ্ট নম্বরটিতে। হ্যালো বলার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎগতিতে তা তরঙ্গে পরিণত হয়।

নেটওয়ার্কের মাধ্যমে চলে যায় অন্য প্রান্তে। আবার গ্রাহকের ফোনসেট বেতার তরঙ্গকে কথায় বা আওয়াজে রূপান্তরিত করে। অনেকগুলো জায়গায় বসানো নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে সমন্বয় করে মোবাইল ফোনের কার্যক্রম পরিচালিত হয়।