চল্লিশ পেরোলেই নারী-পুরুষ সতর্ক হন। যৌবন ধরে রাখার জন্য কিছু খাদ্যতালিকা জেনে নিন।

বর্তমান সময়ে আমরা নারী-পুরুষ সবাই সারাদিন কত কাজই না করছি। প্রথমে একজন মায়ের কথা বলি। একজন মা একাধারে সংসারের কাজ করার পাশাপাশি অফিসেও ছুটছেন। ট্রেনে, বাসে কত না ধকল শরীরের উপর দিয়ে যাচ্ছে। হাঁটছেন, দৌড়াচ্ছেন, ঘামছেন, শরীরের উপর চাপ বাড়ছে।

অফিসের কাজের চাপ। এরপর বাড়ি ফিরে ছেলে মেয়েকে পড়াশোনা করানো, তাদেরকে তৈরী করাসহ সবকিছু মিলিয়ে পাহাড়সম চাপ এর ছড়াছড়ি। একজন পুরুষেরও ঠিক তাই। অফিসের কাজের পাশাপাশি সংসারের পুরো দায়িত্ব। নিজের প্রতি একটু খেয়াল করা হয়ে ওঠে না।

একটা অনীহা বাসা বাঁধছে আমাদের নিজেদের প্রতি। আয়নার সামনে একটু দাঁড়ানোর সময় যেন নেই বা থাকলেও ইচ্ছা করে দাঁড়াচ্ছি না। এরকম করতে করতে হঠাৎ করে একটা সময় আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে আবিষ্কার করলেন- এ এক অন্য, সম্পূর্ণ নতুন আপনি। আপনি নিজেকে চিনতে পারছেন না।

অনেকক্ষণ দেখলেন আপনাকে। খুঁজে পেলেন এক অচেনা আপনাকে যাকে এর মধ্যে বয়সের থেকে বেশী বয়স্ক লাগছে। এই জায়গা থেকে যদি আপনি নিজেকে রক্ষা করতে চান, আপনার ত্বককে, আপনার লাবন্যকে, আপনার যৌবনকে ধরে রাখতে চান তাহলে নিচের বিষয়গুলি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।

সংসারের সকল দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিজের প্রতিও খেয়াল রাখুন। বয়স চল্লিশ পেরোলেই শরীরে একটা বার্ধক্যের ছাপ পড়তে শুরু করে। চোখে-মুখে বলিরেখা, ত্বকে ভাঁজ, ত্বক কুঁচকে যাওয়া, ত্বক ঝুলে পড়া, ডার্ক স্পট ইত্যাদী।

যাইহোক, প্রাকৃতিকভাবে আমরা কিভাবে আমাদের ত্বকের যৌবন ধরে রাখবো সেই সম্পকে জানবো। কোন কোন খাবারগুলি আমাদের ত্বকের লাবণ্য ধরে রাখে। তার আগে আমরা জানবো আমাদের চামড়ার নিচে থাকা একটি প্রোটিন “কোলাজেন” ও কোলাজেন ধংসকারী ফ্রি-রেডিক্যালস সম্পর্কে।

কোলাজেন কি?

কোলাজেন হল আমাদের শরীরে উৎপন্ন একটি প্রোটিন যা ত্বকের বর্ণকে উজ্জ্বল, দৃঢ়, সতেজ বা মোটা, এবং তারুণ্যদীপ্ত করে। এই প্রোটিনটি আপনার চামড়ার ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত তৈরি করে।

নিউইয়র্ক শহরের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডেনিস গ্রস বলেছেন, “কোলাজেন ফাইবারগুলি একগুচ্ছ দৃঢ় এবং চর্বিযুক্ত ত্বকের উপরের স্তরটি ধরে রাখে। আপনি যখন যুবক এবং সুস্থ্য তখন স্তম্ভগুলি দৃঢ়, সরল এবং প্রচুর পরিমাণে হয়, তাই ত্বক মসৃণ দেখায় এবং ত্বক স্বাস্থ্যকর থাকে। আমরা কোলাজেন দেখতে পারিনা। এটি স্বাস্থ্যকর ত্বকের সারাংশ।

ফ্রি-রেডিক্যালস কি?

ফ্রি র‌্যাডিকালগুলি হ’ল তীরের মতো যা কোলাজেন ফাইবারগুলিকে ছিদ্র করে এবং ভেঙে দেয়, ত্বককে পাতলা করে তোলে। ফ্রি-রেডিক্যালস-এর কাজ হলো আমাদের ত্বকের উপর যে কোলাজেন থাকে তাকে নষ্ট করে দেওয়া।

তবে অতিবেগুনি রশ্মি, ধূমপান, দূষণ, স্ট্রেস এবং অন্যান্য কারণগুলির মতো জিনিসগুলি আপনার ত্বকে ফ্রি র‌্যাডিক্যাল তৈরি করে সর্বনাশ ডেকে আনে। সূর্যকে বেশি ভয় পাবার দরকার নেই। অতিরিক্ত সূর্যের তাপে ত্বকের কিছুটা ক্ষতি হয় তবে ত্বকের সবথেকে বড়ো শত্রু হলো দূষণ।

ত্বককে উজ্জ্বল, টানটান রাখতে চান তাহলে নিম্নিলিখিত খাবারগুলি খান

“কোলাজেন” সুন্দরীর উপর আমাদের ভিলেন “ফ্রি-রেডিক্যালস” সবসময় ঝাঁপিয়ে পড়তে প্রস্তুত। কিন্তু নিম্নলিখিত খাবারগুলি হিরোর মতো কোলাজেন সুন্দরীকে রক্ষা করে, আগলিয়ে রাখে।

ব্লুবেরি ও আমলকি:

ব্লুবেরি ও আমলকি প্রচুর এন্টি-অক্সিডেন্ট ও ভিটামিন সি সমৃদ্ধ। যা আপনার বাইরের যৌবনকে, ত্বকের যৌবনকে, ত্বকের লাবন্যকে ধরে রাখতে সাহায্য করে। অর্থাৎ ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ ফল আমাদের প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখা উচিত।

অত্যধিক পরিশ্রমের পরে এবং অত্যধিক টেনশন ও চাপে আমাদের শরীরের লাবণ্য কমে যায়। তার উপর রোদ, বৃষ্টি ও বায়ুদূষণ। আমাদের ত্বকে কোলাজেন নামক যে পদার্থ থাকে সেই কোলাজেনকে ধংস করে দেয় আমাদেরই শরীর থেকে নির্গত কিছু ফ্রি-রেডিক্যালস। ফ্রি-রেডিক্যালস-এর কাজ হলো আমাদের ত্বকের উপর যে কোলাজেন থাকে তাকে নষ্ট করে দেওয়া।

বেদানা:

বেদানা বা ডালিম কোলাজেন বান্ধব। ডালিম কোলাজেনকে রক্ষা করে। ফ্রি-রাডিক্যালস উৎপন্ন হলেও কোলাজেনকে নষ্ট করতে দেবে না। কোলাজেনের টুটি ধরে রাখার মতো।

মাশরুম:

আমাদের শরীরটাকে মজবুতভাবে ধরে রাখতে হলে শরীরের ভিতরের কাঠামোটাকে মজবুত করতে হবে। ভিতরের কাঠামো অর্থাৎ অসংখ্য হাড় সম্বলিত কঙ্কালটাকে শক্ত ও মজবুত করতে হবে। ক্যালসিয়ামের অভাবে বিশেষ করে মহিলাদের চল্লিশ বছর পর থেকে হাড়ক্ষয় হতে শুরু করে। একারণে হাটু ব্যাথা, গাঁটে ব্যাথা, কোমরে ব্যাথা ইত্যাদি দেখা যায়।

মাশরুম ভিটামিন ডি-এর ভান্ডার হিসাবে পরিচিত। “মাশরুম” উৎপাদিত খাদ্যের মধ্যে ভিটামিন ডি -এর একমাত্র উৎস। ভিটামিন ডি শরীরকে ক্যালসিয়াম শোষণে সহায়তা করে শক্ত হাড় গঠনে সহায়তা করে। ভিটামিন ডি ডায়েট এবং সূর্যালোকের মাধ্যমে পাওয়া যায়, এ কারণেই এটিকে “রৌদ্র ভিটামিন” হিসাবেও উল্লেখ করা হয়।

তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় মাশরুম রাখুন। এটি ফ্রি রেডিক্যালস দূর করতে সহায়তা করে।

Nut বা বাদাম:

চীনাবাদাম, আখরোট, আমন্ড, কাজু, পেস্তা- উপকারী ফ্যাট, প্রোটিন ও মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টস-এ ভরপুর। খারাপ কোলেস্টেরোল কমায়। খিদে কমায়। কোলাজেনকে সুরক্ষিত রাখে।

আনারস:

কোলাজেন তৈরি হতে সাহায্য করে বেশ কিছু অ্যামিনো অ্যাসিড। আনারস শরীরে প্রচুর পরিমানে অ্যামিনো অ্যাসিড উৎপাদনে সাহায্য করে। তাই আনারস খাওয়া মানে কোলাজেনের প্রতি যত্নবান হওয়া।

এটি পূর্ণবয়স্ক, সুস্থ্য, স্বাভাবিক মানুষের জন্য একটি নির্দেশনা। আপনি যদি ডায়াবেটিস রোগী হন বা অন্য কোনো কারণে রেগুলার কোনো মেডিকেল কোর্স-এর মধ্য দিয়ে যান তাহলে অবশ্যই আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ নিবেন।

প্রকৃতপক্ষে, চল্লিশ (৪০) এবং পঞ্চাশ (৫০) বছর বয়সের নারী-পুরুষদের এক নম্বর হত্যাকারী হল ক্যান্সার এবং হৃদরোগ দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। ডায়াবেটিস এবং স্ট্রোকও আপনার ৫০ এবং ৬০ বছর বয়সে যাওয়ার সাথে সাথে সঙ্গী হতে পারে।

তাই বয়স চল্লিশ (৪০)-পার হওয়ার পর থেকে তেলে ভাজা, চর্বিযুক্ত লাল মাংস, ফার্স্ট ফুড, স্পোর্টস ড্রিঙ্কস, কার্বোনেটেড বেভারেজ, হট সস, গ্লুটেন ফ্রি ফুড, আইস-ক্রিম ইত্যাদি খাবার খেতে নিষেধ করা হয়। এর পরিবর্তে ফলমূল, শাকসবজি, ডাল, বাদাম, টমেটো, অলিভ অয়েল, কুমড়া, সামুদ্রিক মাছ ইত্যাদি খেতে পরামর্শ দেয়া হয়।