হজম এনজাইম বৃদ্ধি করে কোন খাবারগুলো।

পরিপাকতন্ত্রের কাজ সঠিকভাবে করার জন্য অনেকগুলো অঙ্গের একসাথে কাজ করতে হয়। এই অঙ্গগুলো খাবারকে প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট এবং ভিটামিন এ রূপান্তরিত করে। এই উপাদান গুলিকে হজম এনজাইম ভেঙে আরো ক্ষুদ্র অনুতে পরিণত করে। এগুলি রক্তপ্রবাহে মিশে আমাদের শক্তি সরবরাহ করে।

পরিপাকতন্ত্রের এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ায় হজম এনজাইমগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ এগুলি ফ্যাট ,প্রোটিন এবং কার্বোহাইড্রেট কে ভেঙে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অনুতে পরিণত করে যা আমাদের শরীর খুব সহজে পরিপাক করতে পারে।

তিন ধরণের হজমকারী এনজাইম রয়েছে: প্রোটিসেস, লাইপাস, অ্যামাইলেসস

যদি শরীর পর্যাপ্ত পরিপাক এনজাইম তৈরি করতে সক্ষম না হয় তবে খাদ্য অণুগুলি সঠিকভাবে হজম হয় না। প্রাকৃতিক হজম এনজাইমগুলির উচ্চমানের খাবারগুলি হজম উন্নতিতে সহায়তা করতে পারে।

আনারস

আনারস হজম এনজাইম সমৃদ্ধ একটি সুস্বাদু ফল। আনারসে ব্রোমেলাইন নামক একাধিক হজম এনজাইম থাকে। এই এনজাইম প্রোটিনকে ভেঙে অ্যামিনো অ্যাসিড সহ বিভিন্ন উপাদানে পরিণত করে। এতে হজম শক্তি বৃদ্ধি পায়. একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, ব্রোমেলাইন যুক্ত খাবার গ্রহণ করার ফলে প্যানক্রিয়াটিক থেকে নিঃসৃত এনজাইমের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।

পেঁপে

কাঁচা পেঁপে বা পাকা পেঁপে হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। এতে হজম এনজাইম রয়েছে। পেঁপেতে এমন কিছু উপাদান রয়েছে যা প্রোটিন হজমে সহায়তা করে। এতে একটি হজম এনজাইম রয়েছে যা, পেপাইন নামে পরিচিত। পেপাইন হজম স্বাস্থ্যকে উন্নত করতে সহায়তা করে। গবেষণায় দেখা গেছে যে, পেঁপে কোষ্ঠকাঠিন্যতা এবং গ্যাস্ট্রিক হ্রাস করতে সহায়তা করে।

আম

আমে অ্যামাইলেস নামক একটি হজম এনজাইম থাকে। অ্যামাইলেস এনজাইম স্টার্চ থেকে শর্করা ভেঙে গ্লুকোজ এবং মাল্টোজ জাতীয় শর্করায় পরিণত করে। আম পাকার সাথে সাথে এর এনজাইম সক্রিয় হয়ে ওঠে। তাই পাকা আম খেলে হজম শক্তি বৃদ্ধি পাই।

মধু

মধুতে হজম এনজাইম সহ অনেক উপকারী যৌগ রয়েছে। মধুতে থাকা এনজাইম হজমে সহায়তা করতে সহায়তা করে। তাই হজম শক্তি ঠিক রাখতে নিয়মিত মধু খাওয়ার অভ্যাস করা ভালো।

কলা

কলা প্রাকৃতিকভাবে হজম এনজাইম ধারণ করে আছে। এতে অ্যামাইলেস এবং গ্লুকোসিডেসস নাম দুটো এনজাইম রয়েছে। কলাতে এনজাইম সামগ্রীর শীর্ষে হল ডায়েটরি ফাইবার। কলা ডায়েটরি ফাইবারের একটি দুর্দান্ত উৎস, যা হজম স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে সহায়তা করতে পারে। ৩৪ জন মহিলা নিয়ে দুমাসের এক গবেষণায় দেখা গেছে, যে মহিলারা প্রতিদিন দুটি কলা খেয়েছিলেন তাদের অন্ত্রে স্বাস্থ্যকর ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছিল।

দই

দইয়ের মধ্যে অনেকগুলো হজম এনজাইম থাকে যেমন: লিপেজ, প্রোটেস এবং ল্যাকটেজ। একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, দইয়ে থাকা ল্যাকটোজ হজম স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে সাহায্য করে. এছাড়া এতে থাকে প্রচুর পরিমাণে প্রোবায়োটিক অর্থাৎ উপকারী ব্যাকটেরিয়া। দইয়ের মাধ্যমে এই ব্যাকটেরিয়া মানুষের পৌষ্টিকতন্ত্রে পৌঁছয় ও খাদ্য হজমে সাহায্য করে।

রেফারেন্স:

Share