স্তন ক্যান্সার কি এবং স্তন ক্যান্সার কেন হয় ? এর ক্ষতিকর প্রভাব কতটুকু।

স্তনের কোষে বেড়ে ওঠা ক্যান্সারকে স্তন ক্যান্সার বলে। স্তন ক্যান্সার নারী পুরুষ উভয়েই হরে পারে। তবে নারীদেরই স্তন ক্যান্সার বেশি হয়ে থাকে। অনেক মানুষের কিছু ভ্রান্ত ধারণা আছে যে, ক্যান্সার বংশগত রোগ। একদিকে পারিবারিকভাবে বংশপরম্পরায় বহন করে আসছি অন্যদিকে আমার ভাগ্যটাতো সবসময়ই খারাপ অর্থাৎ এর থেকে বাঁচার আর কোনো পথ বোধহয় খোলা নেই।

আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটির গবেষণা থেকে জানা যাই, প্রতি ১০০-জনের মধ্যে মাত্র ৫ থেকে বড়জোর ১০ জন বংশগত জিনের কারণে ক্যান্সারে আক্রন্ত হয়।জেনেটিক্যালি ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা খুবই কম। তাহলে দেখা যাচ্ছে, শতকরা ৯০ থেকে ৯৫ জন ক্যান্সারে ভুগছে ব্যায়াম না করা,বাজে খাদ্যাভাস, অনিয়ন্ত্রিত ও বেপরোয়া জীবনাচার ইত্যাদি নানা কারণে।গবেষণায় প্রমাণিত, আমেরিকান নারীদের মধ্যে যারা এলকোহল (মদ ) বেশী খাই এবং ওজন বেশি তারাই স্তন ক্যান্সারে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে।

স্তন ক্যান্সার কেন হয় ? কোন কোন কারণগুলি ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

বিভিন্ন কারণে স্তন ক্যান্সার হতে পারে। সচেতন থেকে ডাক্তারের পরামর্শমতো পরীক্ষানিরীক্ষা করিয়ে বংশগত কারণে স্তন ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। মানুষের তৈরি কারণগুলো আমরা অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে দূর করতে পারি। মানুষ নিজের কর্মফলের মাধ্যমে কিভাবে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে আসুন দেখা যাক :

স্থূলতা :

বয়স ৪০বা ৫০ পেরিয়ে গেছে। এদিকে ওজন না কমে বেড়ে যাচ্ছে। ওজন কমানোর দিকে কোনো খেয়ালতো নেই উপরন্তু মাংস ছাড়া ভাত খেতে পারি না। প্রচুর চর্বিযুক্ত রেড মিট ( গরুর মাংস, খাসীর মাংস, উটের মাংস, ভেড়ার মাংস, মহিষের মাংস,হরিণের মাংস, দুম্বার মাংস, আরো কত কি ) খেয়ে যাচ্ছি। মাংস, তেল, মশলা ছাড়া বাড়ির মহিলাদের মুখে স্বাদ লাগে না। খাবার পাতে মাংস প্রতিদিন হলে আরো ভালো হয়। বর্তমান ফার্স্ট ফুড এর দুনিয়ায় যা খাবেন তাতেই মাংস + অসম্পৃক্ত চর্বি বা বাজে কলেস্টেরল। একদিকে অধিক ওজন অন্যদিকে চর্বিযুক্ত লাল মাংস, বাজে কলেস্টেরল। তেল ছাড়া যেনো কোনো খাবার তৈরী হয়না বা ভালোও লাগে না। ব্যাস ক্যান্সার আর ঠেকাবে কে ? ক্যান্সার তো হবেই।

এলকোহল সেবন :

কেমন যেন মনে হয় মানুষ নেশার কাছে পরাজয় বরণ করেছে। নেশার দাস হয়ে গেছে। হোটেল, রেস্টুরেন্ট, পার্টিতে যাচ্ছি- প্রচুর মদ, বিয়ার, ও নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করছি সেইসাথে মাংসও খাচ্ছি। প্রচুর পরিমানে মদ খেলে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকটা বেড়ে যায়।

বয়স বাড়ার সাথে সাথে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বেড়ে যায়। প্রথম সন্তান অনেক দেরিতে নিলে অনেক সময় স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বেড়ে যায়। একেবারে কম বয়সে মাসিক শুরু হওয়া আবার বেশি বয়সে মাসিক শুরু হওয়া এবং একেবারেই গর্ভবতী না হওয়া স্তন ক্যান্সারের রিস্ক ফ্যাক্টরগুলির মধ্যে পড়ে।

পোস্ট manopausal হরমোন থেরাপি, রেডিয়েশন এক্সপোজার স্তন ক্যান্সারের জন্য ভয়াবহ।

পুরুষের চেয়ে মহিলাদের শরীরে স্তন ক্যান্সার দানা বাধার সম্ভাবনা বেশি তাই তাদের সবসময় সতর্ক থাকতে হবে। আপনি biopsy করলেন এবং রিপোর্টে দেখা গেলো লবুলার কার্সিনোমা ইন সিটু (LCIS ) বা এটিপিক্যাল হাইপারপ্লাসিয়া অফ the ব্রেস্ট। আপনি তাহলে স্তন ক্যান্সারের increasing রিস্ক-এর আওতায়।

পিতামাতা থেকে সন্তানের মধ্যে স্তন ক্যান্সার এর জীবাণু হস্তান্তরিত হতে পারে। সতর্ক থাকতে হবে। ফ্যামিলি হিস্টোরি এবং gene mutation স্তন ক্যান্সারের রিস্ক -এর মধ্যে পড়ে।

প্রতিবছর আমাদের বাংলাদেশে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে নারীদের মৃত্যুর সংখ্যা কম নয়। এটি দিনে দিনে বাড়ছে। আমাদের দেশে অজ্ঞতা এবং অসচেতনতার কারণে বেশিরভাগ নারী স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে। সেই সাথে যোগ হয়েছে দারিদ্রতা। অজ্ঞতার কারণে জেনেটিকালি সে ঝুঁকির মধ্যে আছে কিনা সেটা পরীক্ষা করছে না। স্তনে বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিলেও সেদিকে খেয়াল করছে না। এর কারণ দারিদ্রতাও হতে পারে। সামাজিক লজ্জাবোধ থেকেও হতে পারে। যার কারণে সহজেই এই রোগ শরীরে জায়গা করে নিচ্ছে।

একবার ক্যান্সারের জীবাণু শরীরে ছড়িয়ে গেলে সেটা কতটা যন্ত্রণাদায়ক ও কষ্টকর তা বলে বোঝানো যাবে না। কেমোথেরাপি দিয়ে ক্যান্সারের জীবাণুটাকে কিছুটা দমিয়ে রাখা যাই কিন্তু একসময় এর কাছে হার মানতে হয়। আর এই হার মানাটা যে কতো কষ্টকর কারণ প্রিয়জনকে হারাতে হয় এবং এর সাথে অবর্ণনীয় দুঃখ, কষ্ট, যন্ত্রনা, কষ্টার্জিত অর্থদণ্ড আপনাকে ফ্রীতে বহন করতে হবে।

স্বাস্হ্যকর অভ্যাস যেমনঃ কম এলকোহল গ্রহণ ও সচেতন থাকা, শাকসবজি ও ফলমূল অর্থাৎ সুষম খাবার গ্রহণ করা, আমিষ কম খাওয়া, ব্যায়াম করা, ওজন বাড়তে না দেওয়া ইত্যাদি অভ্যাসে পরিণত করতে হবে। জীবনযাপনের রীতি পরিবর্তনের মাধ্যমে আমরা স্তন ক্যান্সারের বিরুদ্ধে শক্ত ভীত গড়ে তুলতে পারি।

Share