রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করার উপায়।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আমাদের শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। যখন আমাদের শরীরে ক্ষতিকারক কোনও ভাইরাস – যেমন সর্দি বা ফ্লু প্রবেশ করে, তখন আমাদের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা এইসব ভাইরাসকে আক্রমণ করে ভাইরাসের প্রভাবকে নিষ্ক্রিয় করার চেষ্টা করে।

আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যদি দুর্বল হয় তাহলে আপনি অসুস্থ্যতা বোধ করবেন। কোন ভাইরাস বা রোগের বিরুদ্ধে সহজে মোকাবেলা করতে পারবেন না। তাই আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা খুব দরকার।

বেশ কয়েকটি খাবার এবং লাইফস্টাইল কিছু পরিবর্তন আপনার দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও জোরদার করতে এবং ক্ষতিকারক রোগজীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করতে সহায়তা করে।

নিচে এমন কয়েকটি উপায় দেওয়া হলো যেগুলি মেনে চললে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি শক্তিশালী হবে –

ব্যায়াম করা:


শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির সাথে শারীরিক পরিশ্রমের সম্পর্ক আছে। একজন মানুষ যখন শারীরিক পরিশ্রম করে তখন শরীরের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কাজ করে।শরীরের মাংসপেশি এবং হৃদযন্ত্র অনেক কার্যকরী হয়। একই সাথে শরীরের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়।

ফলে শরীরের দূরতম প্রান্ত পর্যন্ত অক্সিজেন পৌঁছবে। তখন শরীরের কোষগুলোতে শক্তি উৎপাদন শুরু হবে। সুতরাং প্রতিদিন শারীরিক পরিশ্রমের সাথে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির সম্পর্ক আছে।

পর্যাপ্ত পানি পান করা:


আমাদের যতটা সম্ভব নিজেদের হাইড্রেট রাখতে হবে। পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করলে আমরা আমাদের শরীরকে বেশির ভাগ রোগ থেকে রক্ষা করতে পারবো। শরীরে পানির মাত্রা যত বাড়তে থাকে, তত প্রস্রাবের মাত্রাও বেড়ে যায়। ফলে দেহের অন্দরে কোনও ধরনের ক্ষতিকর জীবণু বাসা বাঁধার সুযোগ পায় না। তাই সুস্থ থাকতে নিয়মিত ২-৩ লিটার পানি পান করতে ভুলবেন না।

মানসিক চাপমুক্ত থাকুন:


অতিরিক্ত মানসিক চাপে আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে ফেলে। তাই মানসিক চাপমুক্ত থাকার চেষ্টা করতে হবে। টিভি, সোশ্যাল মিডিয়ায় যে খবরগুলো আপনাকে মানসিক চাপে ফেলছে, সেগুলো থেকে দূরে থাকুন। পরিবারের অন্য সদস্যদের সাথে ভালো সময় কাটান, গান শুনুন, বই পড়ুন, মুভি দেখুন বা নতুন কিছু শিখতে মনোনিবেশ করুন। মেডিটেশন একটি খুব ভালো উপায় মনকে শান্ত রাখার।

ভিটামিন “সি” যুক্ত খাবার খান:


ভিটামিন “সি” এর প্রাকৃতিক উৎস হচ্ছে টক জাতীয় ফল, যেমন- লেবু, কমলা, মাল্টা, আমড়া, জাম্বুরা ইত্যাদি। এছাড়াও শাক সবজি ও ভিটামিন “সি” এর দুর্দান্ত উৎস। ভিটামিন “সি” আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে সহায়তা করে।

১১,০০০ জনেরও বেশি পর্যালোচনা অনুসারে, প্রতিদিন ১,০০০-২,০০০ মিলিগ্রাম ভিটামিন “সি” গ্রহণের ফলে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে সর্দি-কাশির সময়কাল ৮% এবং শিশুদের মধ্যে ১৪% হ্রাস পায়।

ভিটামিন “ডি”:


ভিটামিন “ডি” এর ঘাটতি আপনার অসুস্থ্য হওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলতে পারে। ভিটামিন “ডি” এর প্রাকৃতিক উৎস হচ্ছে সূর্যরশ্মি। যা সকালে কিছুটা সময় রোদে থাকার চেষ্টা করুন। এছাড়াও ভিটামিন “ডি” সমৃদ্ধ খাবার যেমন- ডিমের কুসুম, মাছের তেল, চিংড়ি, চিজ এগুলো খেতে পারেন।

যথেষ্ট ঘুম:


অপর্যাপ্ত ঘুম আমাদের দুর্বল করে দিতে পারে। ১৮৪ জন সুস্থ্য প্রাপ্ত বয়স্কদের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, যারা প্রতি রাতে ৬ ঘণ্টারও কম ঘুমাতেন তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম ছিল যারা ৬ ঘন্টার বেশি ঘুমতো তাদের তুলনায়।

প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতি রাতে ৭ ঘন্টা ঘুম পরা উচিত, কিশোর-কিশোরীদের ৮-১০ ঘন্টা এবং শিশুদের ১৪ ঘন্টা ঘুম প্রয়োজন।

প্রাকৃতিক খাবার খান:


ফলমূল, শাকসবজি, বাদাম, বীজ এবং লেবু জাতীয় খাবার পুষ্টিকর এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ যা ক্ষতিকারক রোগজীবাণুগুলির বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে।

এসব খাবারে থাকা অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট ফ্রি র‌্যাডিকাল নামক ক্ষতিকর কোষের সাথে লড়াই করে প্রদাহ হ্রাস করতে সহায়তা করে। এছাড়া ফল এবং শাক সবজি ভিটামিন “সি”তে সমৃদ্ধ, যা সাধারণ সর্দি এর সময়কাল হ্রাস করতে পারে অর্থাৎ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পারে।

স্বাস্থ্যকর ফ্যাটযুক্ত খাবার খান:


স্বাস্থ্যকর ফ্যাটযুক্ত খাবার প্রদাহ হ্রাস করে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলতে পারে। স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের অন্যতম উৎস হলো অলিভ অয়েল। অলিভ অয়েল প্রদাহ-বিরোধী, হার্টের রোগ এবং টাইপ-2 ডায়াবেটিসের মতো দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি হ্রাস করতে সহায়তা করে।

এছাড়া এর অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্যগুলি আপনার শরীরকে ক্ষতিকারক রোগজনিত ব্যাকটিরিয়া এবং ভাইরাসগুলির বিরুদ্ধে লড়াই করতে সহায়তা করতে পারে।

দই:


২০২০ সালে দাঁড়িয়ে প্রযুক্তি যেমন উন্নতি করেছে ঠিক সেইভাবেই এই উন্নতি এই সমাজকে দুষনময় করে তুলেছে। যা আমাদের শরীরের ইমিউনিটি সিস্টেমকে খুবই দুর্বল করে তুলেছে। দই আমাদের শরীরের সেই ইমিউনিটি সিস্টেমকে আবার শক্তিশালী করে তোলে এবং বিভিন্ন রোগের থেকে সুরক্ষা প্রদান করে।

রাইনোভাইরাস (rhinovirus) সংক্রামিত ১৫২ জনের একটি ২৮ দিনের গবেষণায়, যারা প্রোবায়োটিক বিফিডোব্যাক্টেরিয়াম অ্যানিমালিসের (probiotic Bifidobacterium animalis) সাথে পরিপূরক করেছেন তাদের ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা শক্তিশালী ছিল।

রেফারেন্স:
এই সম্পর্কিত আরও পোস্ট পড়ুন:
Share