ভুট্টা শক্তি জোগাতে, দৃষ্টি শক্তি বৃদ্ধিতে ও হজম সমস্যা দূর করতে কার্যকরী।

ভুট্টা সেকে তার সাথে লেবুর রস আর হালকা লবণমরিচ, কি মন বলছে এখনই যদি খেতে পারতাম, তাই না? সবুজ খোসার ভিতরে সারিবদ্ধ ভাবে দাঁড়িয়ে থাকা ছোট ছোট ভুট্টার দানা অনেক ভিটামিন, ফাইবার, খনিজ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর। মনে হয় কেউ যেন এদের নিয়ম করে দিয়েছে লাইনের বাইরে গিয়ে দাঁড়ানো যাবে না।

ভুট্টার বৈজ্ঞানিক নাম Zea mays এবং ইংরেজীতে Corn ও Maize. এই শস্যটির আদি উৎপত্তিস্থল মেসোআমেরিকা। ইউরোপীয়রা আমেরিকা মহাদেশে পদার্পণ করার পর এটি পৃথিবীর অন্যত্র ছড়িয়ে পড়ে। হলুদ রঙের ভুট্টা বিশ্বজুড়ে প্রচলিত, কিন্তু অন্যান্য অনেক রঙেরও ভুট্টা রয়েছে যেমন লাল, কমলা, বেগুনি, নীল, সাদা এবং এমনকি কালো। দিনে দিনে ভুট্টা জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

ভুট্টা ফাইবার বা আঁশে ভরা। এতে বায়োফ্লাভোনয়েডস ও ক্যারোটিনয়েডসের মতো প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, যা শরীরকে সুস্থ্য রাখতে সাহায্য করে। তবে এর একটি অবাক করা দিক রয়েছে সেটা হলো ভুট্টা ওজন বাড়িয়ে দেয় এবং রক্তের শর্করাও বৃদ্ধি করে। তবে সবথেকে গুরত্বপূর্ণ বিষয় হলো ভুট্টায় উচ্চমাত্রার ফাইবার থাকার জন্য পরিপাকতন্ত্রের বিভিন্ন সমস্যা যেমন- কোষ্ঠকাঠিন্য, অর্শরোগ ও কোলোরেক্টাল ক্যান্সার প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

পুষ্টি উপাদান

নিচে ভুট্টার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টিউপাদান দেওয়া হলো –

  • ক্যালোরি: ১৭৭ ক্যালোরি
  • কার্বহাইড্রেট: ৪১ গ্রাম
  • প্রোটিন: ৫.৪ গ্রাম
  • ফ্যাট: ২.১ গ্রাম
  • ফাইবার: ৪.৬ গ্রাম
  • ভিটামিন “সি”: ১৭% (DV)
  • থায়ামাইন (ভিটামিন বি 1): ২৪% (DV)
  • ফোলেট (ভিটামিন বি 9): ১৯% (DV)
  • ম্যাগনেসিয়াম: ১১% (DV)
  • পটাশিয়াম: ১০% (DV)

ভুট্টার উপকারীতা

বর্তমানে সবার খুবই পছন্দের একটি খাবার ভুট্টা। তাই ভুট্টা আমাদের শরীরের জন্য কতটা উপকারী এটা জানা খুবই দরকার। আসুন জেনে নেওয়া যাক ভুট্টার উপকারীতা সম্পর্কে –

দৃষ্টি শক্তি বৃদ্ধি করে:

ভুট্টায় বিটা ক্যারোটিনের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি যা চোখ ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। এছাড়া লুটিন এবং জেক্সানথিন সামগ্রী চোখের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। ভুট্টায় বিশেষত লুটেইন এবং জেক্সানথিনের পরিমাণ বেশি, এই দুটি ক্যারোটিনয়েড যা ছানি এবং বয়স-সম্পর্কিত ম্যাকুলার অবক্ষয়কে প্রতিরোধ করতে পারে। ৩৬৫ প্রাপ্তবয়স্কদের একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, যারা কম ক্যারোটিনয়েড গ্রহণ করেছিল তাদের তুলনায় যারা বেশি পরিমাণে ক্যারোটিনয়েড গ্রহণ করে ছিল তাদের বয়স-সম্পর্কিত ম্যাকুলার অবক্ষয় (AMD) হওয়ার সম্ভাবনা ৪৩% কম ছিল। সুতরাং, নিয়মিত ভুট্টা খেলে চোখের স্বাস্থ্যে ভালো থাকে – বিশেষত যারা বয়স-সম্পর্কিত ম্যাকুলার অবক্ষয়ের ঝুঁকিতে আছেন।

হজম সংক্রান্ত সমস্যা দূর করতে পারে:

ভুট্টায় প্রচুর পরিমাণে ডায়েটরি ফাইবার রয়েছে যা হজম স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। ডায়েটরি ফাইবার গ্রহণের ফলে হার্টের রোগ এবং কিছু ক্যান্সারসহ বেশ কয়েকটি রোগের ঝুঁকির কমে যায়। পর্যাপ্ত পরিমাণে ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্যতা এবং অন্ত্রের যেকোন সমস্যা থেকে আমাদের রক্ষা করতে পারে। ডাইভার্টিকুলার (diverticula) ডিজিজ সহ নির্দিষ্ট হজমজনিত সমস্যা থেকে রক্ষা করতে পারে।

ব্লাড সুগার দ্রুত বৃদ্ধি করতে পারে:

ভুট্টার বেশিরভাগ কার্বগুলি স্টার্চ থেকে আসে – যা আপনি কতটা খান তার উপর নির্ভর করে। এটি দ্রুত রক্তের শর্করাকে বাড়িয়ে তুলতে পারে। তবে এটিতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার রয়েছে যা আপনার রক্তে শর্করার মাত্রা ভারসাম্য করতেও সহায়তা করতে পারে। তাই ভুট্টা গ্রহণ ডায়াবেটিস রোগীদের নিরাপদ নাও হতে পারে।
কারণ ডায়াবেটিস পরিচালনার জন্য কম কার্ব ডায়েট বেশি কার্যকর।

ওজন বৃদ্ধি করতে পারে:

যারা ওজন বৃদ্ধি করার চেষ্টা করছেন কিন্তু পারছেন না। তাদের জন্য ভুট্টা একটি আর্দশ খাবার। কারণ ১৬৪ গ্রাম ভুট্টায় ১৭৭ ক্যালরি থাকে। যা ওজন বৃদ্ধি করতে সাহায্য করবে। ১৩৩,৪৬৮ জন প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে হার্ভার্ডের একটি ২৪ বছরের গবেষণায় দেখা গেছে যে, প্রতিদিন ভুট্টা খেলে ৪ বছর পর ০.৯-কেজি ওজন বৃদ্ধি পেয়েছিল।

প্রচুর শক্তি:

প্রচুর শর্করা থাকে বলে দীর্ঘ ও স্বল্পমেয়াদে শরীরে শক্তি জোগাতে পারে। মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের সঠিক কার্যক্রমের সহায়ক। এক কাপ ভুট্টায় ৪১ গ্রাম শর্করা থাকে। অ্যাথলেটদের জন্য ভুট্টা উপকারী। ব্যায়াম শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে ভুট্টা খাওয়া উচিত।

সতর্কতা:

আপনি যদি জটিল কোনো রোগে আক্রান্ত হন বা অন্য কোনো কারণে রেগুলার কোনো মেডিকেল কোর্স-এর মধ্য দিয়ে যান তাহলে অবশ্যই খাওয়ার আগে আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ নিবেন।

সূত্র: হেলথ লাইন

Share