বাদাম কোলেস্টেরল কমাতে, হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ও ব্রেন পাওয়ার বৃদ্ধিতে কার্যকরী।

সবার খুবই পছন্দের একটি স্নাক্স হলো বাদাম। যেকোন ধরণের বাদাম খুবই সুস্বাদু এবং সবার খুবই পছন্দের। অনেক ধরণের বাদাম রয়েছে যেমন – কাজুবাদাম, ব্রাজিল বাদাম, পেস্তা বাদাম, আখরোট, চিনাবাদাম ইত্যাদি। এসব বাদামের মধ্যে অতিপরিচিত বাদাম চীনাবাদাম। যাইহোক এইসব ধরণের বাদাম আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী।

বাদামে রয়েছে ক্যালোরি, প্রোটিন, ফ্যাট, কার্বোহাইড্রেট, ফাইবার, ভিটামিন “ই”, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, কপার, ম্যাংগানিজসহ আরও অনেক উপকারী পুষ্টি উপাদান।

বাদাম কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ও ওজন কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া বাদাম ক্লান্তিভাব দূর করে এনার্জি বৃদ্ধিতে এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে খুবই কার্যকরী।

বাদামের পুষ্টিগুণ

বাদাম অত্যন্ত পুষ্টিকর। বাদামে অনেক পুষ্টিগুণ রয়েছে। নিচে বাদামের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টিগুণ দেওয়া হলো –

  • ক্যালোরি: ১৭৩
  • প্রোটিন: ৫ গ্রাম
  • ফ্যাট: ১৬ গ্রাম
  • ভিটামিন “ই”: ১২% (RDI)
  • জিংক: ২৩% (RDI)
  • ম্যাঙ্গানিজ: ২৬% (RDI)
  • সেলেনিয়াম: ৫৬% (RDI)
  • ফসফরাস: ১৩% (RDI)

বাদাম খাওয়ার উপকারিতা

নিচে বাদামের স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে আলোচনা করা হলো –

ওজন হ্রাস করতে পারে:

বাদাম উচ্চ-ক্যালোরিযুক্ত খাবার হওয়ার পরও ওজন হ্রাস করতে পারে। অতিরিক্ত ওজন আছে এমন মহিলাদের একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, বাদাম খাওয়ার ফলে প্রায় তিনগুণ ওজন হ্রাস পেয়েছে এবং কোমরের আকারও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্রাস পেয়েছে।

কোলেস্টেরল এবং ট্রাইগ্লিসারাইড কমাতে:

বাদাম কোলেস্টেরল এবং ট্রাইগ্লিসারাইড স্তরে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। যারা স্থূলকায় এবং ডায়াবেটিসে আক্রান্ত, পেস্তা বাদাম তাদের মধ্যে ট্রাইগ্লিসারাইড এর মাত্রা কমাতে পারে। স্থূল লোকদের উপর ১২ সপ্তাহের এক গবেষণায় দেখা গেছে, পেস্তা খাওয়ার ফলে ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা প্রায় ৩৩% কম ছিল।

বাদাম কোলেস্টেরল হ্রাস করতে পারে কারণ এতে উচ্চমাত্রার মনস্যাচুরেটেড এবং পলিঅনস্যাচুরেটেড (polyunsaturated) ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে। যেমন- আলমন্ড “খারাপ” কোলেস্টেরল (LDL) হ্রাস করে এবং “ভাল” কোলেস্টেরল (HDL) বৃদ্ধি করে। এছাড়া আখরোট ও পেস্তা বাদাম কোলেস্টেরলের মাত্রা ঠিক রাখতে সাহায্য করে।

হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি হ্রাস করতে পারে:

বাদাম হার্টের জন্য অত্যন্ত ভালো। বেশ কয়েকটি গবেষণায় বলা হয়েছে যে, বাদাম “খারাপ” কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে, ধমনী কার্যকারিতা ঠিক রেখে হার্টের রোগ ও স্ট্রোক ঝুঁকি হ্রাস করতে পারে।

টাইপ-2 ডায়াবেটিসে উপকারী:

টাইপ-2 ডায়াবেটিস একটি সাধারণ রোগ। আর বিপাক সিনড্রোম এমন একটি ঝুঁকির কারণকে বোঝায় যেগুলি আপনার হার্টের রোগ, স্ট্রোক এবং টাইপ-2 ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। টাইপ-2 ডায়াবেটিসযুক্ত ব্যক্তিদের জন্য বাদাম একটি সেরা খাবার।

প্রদাহ হ্রাস করতে পারে:

বাদামে শক্তিশালী অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি বৈশিষ্ট্য রয়েছে। শরীরের বিভিন্ন ধরণের আঘাত, ব্যাকটেরিয়া এবং অন্যান্য ক্ষতিকারক রোগজীবাণু থেকে নিজেকে রক্ষা করা মানে হলো প্রদাহ হ্রাস করা। তবে দীর্ঘস্থায়ী, দীর্ঘমেয়াদী প্রদাহ আমাদের শরীরের ক্ষতি করে এবং রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

গবেষণা পরামর্শ দেয় যে, বাদাম খাওয়ার অভ্যাস প্রদাহ হ্রাস করতে পারে এবং বার্ধক্যতা দূর করতে পারে। পেস্তা বাদাম, আখরোট এবং চীনাবাদাম ডায়াবেটিস ও কিডনি রোগের মতো গুরুতর রোগের সাথে লড়াই করতে পারে।

ব্রেন পাওয়ার বৃদ্ধি পায়:

আমেরিকার অ্যান্ড্রস ইউনিভার্সিটির গবেষকদের করা এক পরীক্ষায় দেখা গেছে, বাদামে এমন কিছু উপাদান রয়েছে, যা মস্তিষ্কের ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

ক্যান্সারের মতো রোগ দূরে থাকে:

বাদাম হল অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট পাওয়ার হাউস। বাদামে পলিফেনল সহ আরও কয়েকটি অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট রয়েছে যা, ফ্রি র‌্যাডিকেলকে অকার্যকর করে অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে। যা ক্যান্সারের জন্য দায়ী।

ক্লান্তি দূর করে:

বাদাম শক্তির ভালো উৎস। বাদাম খাওয়ার ফলে দেহে এনার্জি দেয়। নিয়মিত এই বাদাম খেলে শরীরের ক্লান্তি দূর হয়।

সতর্কতা:

বাদাম খুবই স্বাস্থ্যকর একটি স্নাক্স। তবে অনেকের বাদামে এলার্জি থাকতে পারে। তবে আপনি যদি জটিল কোনো রোগে আক্রান্ত হন বা অন্য কোনো কারণে রেগুলার কোনো মেডিকেল কোর্স-এর মধ্য দিয়ে যান তাহলে অবশ্যই খাওয়ার আগে আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ নিবেন।

সূত্র: হেলথলাইন

রেফারেন্স:
Health benefits of nuts

Share