প্রচন্ড জ্বরে ভুগছেন? কি খাবেন ? জ্বরের পর মুখের তেতোভাব কিভাবে দূর করবেন।

প্রচন্ড এই গরমে অনেকেরই জ্বর হচ্ছে। প্রতিবছর জৈষ্ঠ্য আষাঢ়ের এই সময়টায় অনেকেই জ্বরে আক্রান্ত হন। গায়ে প্রচন্ড জ্বর। আর সহ্য করতে পারছি না। তার উপর কিছুই খেতে পারছি না। যা খাচ্ছি সেটাই বমি হয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে।

এই মৌসুম বদলের সময়ে সর্দি-জ্বর খুবই সাধারণ একটি বিষয়। একটু সচেতন হতে না পারলে ৩ থেকে ৭দিন ভুগতে হতে পারে। আর জ্বরের পর রয়েছে এক ধরনের ঘোর, জ্বরের পর সারা দিন মুখে তিতকুটে ভাব, কোনও খাবারেই স্বাদ পাওয়া যায় না। এই স্বাদহীন ভাব জ্বরের অন্যতম উপসর্গ।

জ্বর হলে মুখে আর কোনোকিছুই যেন ভালো লাগে না, মুখে রোচে না। তখন রসগোল্লা, দইকেও যেন নিমপাতা বা চিরতার রস মনে হয়। স্বাভাবিক সব খাবার বন্ধ করে তখন খেতে হয় পথ্য ধরনের খাবার।

মুখে রুচি না থাকলেও একপ্রকার জোর করেই খেতে হয়। তবে এমনকিছু খাওয়া উচিত যা শরীরে শক্তি যোগানোর পাশাপাশি জ্বর সারাতে সাহায্য করবে। চলুন জেনে নেই এমনই কিছু খাবারের কথা:

জ্বর একটু কমেছে কিন্তু কি খাবো। মুখের অরুচি ও তেতো ভাব কিভাবে দূর করবো ?

জ্বর হলে কি খাবেন:

এক বারে অনেকটা না খেয়ে একটু একটু করে বারে বারে খান। যা মুখে ভাল লাগে, তাই খান। তেল-মশলা না খেলেই হল।

নরম খাবার:

ভাতটা গলা গলা বা নরম থাকলে ভালো। এজন্য অনেকে আমরা ফেনাভাত বা জাউভাত খেয়ে থাকি। সাবুদানা খেয়ে থাকি। জ্বরের জন্য সর্বশ্রেষ্ট খাবার বলা যাই এই সাবুদানা। কার্বোহাইড্রেট অর্থাৎ তাৎক্ষণিক শক্তি ও পুষ্টি যোগায় এই সাবুদানা।

সাইট্রাস ফল বা লেবুজাতীয় ফল:

আপেল, কমলালেবু, আঙুর, আনারস ইত্যদি ফলে ভিটামিন সি এবং ভিটামিন এ রয়েছে। তাই জ্বরের সময় ফ্রুট সালাদ খাওয়া উচিত বেশি করে।

যে কোনও নরম খাবার যেমন সবজি, ডিমসেদ্ধ ইত্যাদি খাবার হজম হতে সুবিধে হয়। ভাত চটকে খাওয়া যাদের পছন্দ নয় তারা এই খাবারগুলি খেতে পারেন। এগুলি পুষ্টিগুণেও ভরপুর। দিনে দুইবার কমলালেবুর রস খেলে উপকার পাবেন।

স্যুপ:

জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সবথেকে উপাদেয় খাবারের মধ্যে একটি হলো চিকেন বা সবজির স্যুপ। হালকা গরম গরম পাতলা পাতলা চিকেন বা সবজির স্যুপ খেলে জ্বরে অনেকটা স্বস্তি পাবেন।

চিকেন বা মুরগির মাংস দিয়ে, সাথে আদার মতোই রসুন দিয়ে তৈরি করুন চিকেন স্যুপ।  সর্দিজ্বর নিরাময়ে খুবই কার্যকরী। এককাপ মতো পানিতে একটি কোয়া ফেলে ফুটিয়ে নিয়ে সেই ইষদুষ্ণ পানি দিনে দুইবার খেলে জ্বর কমাতে সাহায্য করে।

ড্রাই ফ্রুইটস:

জ্বরের সময় মাঝেমধ্যেই একটি-দুটি করে কিসমি, নরম খেজুর খাওয়া ভালো কারণ এতে রয়েছে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট। তাছাড়া শরীরে এনার্জি সরবরাহ করে এই ড্রাই ফ্রুট।

তুলসী মধু:

সর্দি-কাশি প্রতিরোধে পরিচিত টোটকা তুলসি-মধু। জ্বর হলে একটি-দু’টি পাতা চিবিয়ে খেলেও উপকার হবে।

উপকারী ব্যাকটেরিয়া সমৃদ্ধ খাবার:

প্রোবায়োটিক বা অন্ত্রবান্ধব খাবার হলো টক দই বা youghurt বা ইয়োগার্ট।  ভালো ব্যাকটেরিয়া যারা শরীরে বাসা বেঁধে অন্যান্য ভাইরাসের হাত থেকে শরীরকে রক্ষা করে। চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে কোনও প্রোবায়োটিক ড্রিংক খাওয়া যায়। এছাড়া ঘোল বা বাটারমিল্কও প্রোবায়োটিক ফুড।

জ্বর রয়েছে তার ওপর সর্দি?

উ: কাঁচা আম, তেঁতুল এগুলি ভিটামিন-সি তে ভরপুর। জ্বরের মুখে ভালও লাগে। অরুচি কমবে। আবার সর্দিতে-ও কাজ দেবে। টক-মিষ্টি আপেলও খেতে পারেন।

ভাত খাওয়া যাবে?

উ: ভাত, রুটি, খিচুড়ি যা ইচ্ছে খেতে পারবেন। নরম করে তেল মশলা একেবারে কম করে খাবেন। বেশি করে জল খাবেন।

জ্বরের পর মুখের অরুচী বা তেতোভাব দূর করার কিছু ঘরোয়া উপায় :

জ্বরের পর মুখের অরুচি ও তেতোভাবে অনেককে বেশ ভালোভাবে ভোগায়। দ্রুত সুস্থ্য হতে এই সমস্যা কাটিয়ে ওঠা জরুরি। জ্বরের পর মুখের তেতোভাবে কাটিয়ে ওঠা খুব বেশি কঠিন কিছু নয়। সতর্ক হন। জানতে চেষ্টা করুন। পড়তে থাকুন। সমাধান আপনার হাতের কাছেই। কিন্তু না জানলে ছোট্ট একটা সময় নিয়ে অনেকে অনেক বেশি টেনশন করে।

লবঙ্গ ও দারুচিনি মুখে নিয়ে চিবান:

লবঙ্গ আর দারচিনি গুঁড়ো করে নিয়ে সেই গুঁড়ো ১ চামচ করে মুখে রাখুন। মুখের তেতো ভাব কেটে যাবে। মুখে শুধু লবঙ্গ রেখে চিবোতেও উপকার পাবেন। গুঁড়ো করে নিলে ভালো হয়।

লবন জল কুলকুচি করুন:

লবন জল কুলকুচি করার উপকারিতা অনেক। কিন্তু মানুষ এটাকে এতদিন গুরুত্ব দেয়নি। করোনা ভাইরাসের মহামারী আসার পর বলা যাই এটা  মানুষকে অনেকটা রক্ষা বা স্বস্তি দিতে পেরেছে। সাধারণ একটা বিষয় হলেও এটা মুখের ব্যাকটেরিয়া, দাঁতের ব্যথা ও মুখের রুচি ফিরিয়ে আন্তে দারুন কাজ করে।

পুদিনা পাতা মুখে নিয়ে চিবোন:

পুদিনা পাতা এখন দিনে দিনে অনেক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। আগে মানুষ অতটা চিনতো না। পুদিনা গোত্রের উদ্ভিদের মধ্যে তুলসী পাতা খুব পরিচিত সকলের কাছে। পুদিনা পাতার একটা-দুইটা গাছ লাগিয়ে রাখলে তার থেকে সারা জায়গা বিস্তার লাভ করে। আজকাল ছাদে স্বল্প  পরিসরে মাঝারি কোনো পাত্রে বা সিমেন্ট-এর বস্তায় লাগিয়ে তাই অনেক দিন ধরে খাওয়া বা ব্যবহার করা যায়।

পাতার সুন্দর গন্ধ ও পুষ্টিগুণ আপনার মুখের দুর্গন্ধ মুহূর্তেই দূর করে দেবে এবং মুখের রুচি ফিরিয়ে আনবে। পুদিনা পেশির ব্যথা কমাতেও ওস্তাদ।

লেবু:

সাইট্রাস বা লেবু জাতীয় ফল সারাবছর হাতের কাছেই থাকে। জ্বরের পর লেবু জাতীয় ফল যেমন শরীরের জন্য উপকারী, তেমনই মুখের তেতো ভাব কাটিয়ে স্বাদ ফেরাতেও অত্যন্ত কার্যকর।  কাগজী লেবু, সর্বতী লেবু, বাতাবি লেবু, মোসাম্বি, কমলালেবু জাতীয় ফল খেতে পারলে মুখের তেতো ভাব কেটে যাবে।

প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ গ্লাস জল খেতে হবে:

জ্বরের পর দিনে অন্তত না পারলে ৭-৮ গ্লাস জল খান। আস্তে আস্তে বাড়ান এবং ১০-১২ গ্লাস খাবার চেষ্টা করুন। জল পাকস্থলি থেকে টক্সিক অ্যাসিড পরিষ্কার করে মুখ আর জিভের তেতো ভাব কাটাতে সাহায্য করে।

মুখের ব্যাকটেরিয়া রোধে দাঁতটা দিনে তিনবার মাজতে হবে:

দাঁতের যত্ন নিতে আমরা সবসময় ভুলে যাই ঠিক না, আমরা আসলে অবহেলা করি। অলসতা করি। দিনে একবার হয়তো মাজি। গরজ করে দুই -তিন বার মাজার চেষ্টা করুন। ব্যাকটেরিয়া যাবে ,রুচি ফায়ার আসবে।

ধূমপান ও মদ্যপান এড়িয়ে চলুন:

এমনিতেই দুর্বল ফুসফুস সম্পন্ন লোক করোনা ভাইরাসে বেশি মারা যাচ্ছে। ধূমপান ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়। আবার বাড়িতে বসে বোর হতে থাকলে ধূমপানও করেন কেউ কেউ। এতে মুখের স্বাদহীন ও তিতকুটে ভাব আরও বেড়ে যায়।

 

Share