পেঁপে খেলেই সব হজম। পেটের সমস্যা বা হজমের জন্য পেঁপে কতটা কার্যকর?

পেঁপে খেলে সব হজম। কথাটা কি ঠিক? হ্যা, কথাটা সঠিক। এছাড়া বন্ধুরা, অনেকেই প্রশ্ন করে থাকেন বা জানতে চান পেঁপে পেটের সমস্যায় ভালো কিনা? পেঁপে পেটের সমস্যায় ভালো অর্থাৎ পেঁপে হজম শক্তি বাড়ায়।

পেঁপেতে পাপাইন নামে একটি এনজাইম থাকে যা হজমে সহায়তা করে। Papain in Papayas-মনে রাখা খুব সহজ।

পেঁপে ফলের মধ্যে দুটি এনজাইম, পাপাইন এবং কিমোপাপাইন থাকে। উভয় এনজাইমগুলি প্রোটিন হজম করে, এর অর্থ তারা হজমে সহায়তা করতে পারে এবং প্রদাহ হ্রাস করতে পারে।

আসলে এটি মাংসের টেন্ডারাইজার হিসাবে ব্যবহার করা যেতে পারে। পেঁপেতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার এবং জলের পরিমাণ রয়েছে। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য রোধ করতে ও স্বাস্থ্যকর হজমশক্তি প্রচার করতে সহায়তা করে।

সারা বিশ্বেই জনপ্রিয় ফলগুলোর মধ্যে পেঁপে অন্যতম। পুষ্টিগুণের জন্যই সবাই এই ফলটি বেশি পছন্দ করেন। তবে এর উৎসেচক যাতে সঠিকভাবে কাজ করে সেই কারণেই একেবারে ভরা পেটে না খেয়ে খালি পেটে পাকা পেঁপে খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। বিকেলের পর পেঁপে না খাওয়াই ভালো।

পেঁপেতে আছে ভিটামিন এ, সি, কে, ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম ও প্রোটিন। এছাড়াও প্রচুর পরিমাণ ফাইবারও রয়েছে। আর পেঁপেতে ক্যালোরির পরিমাণ খুবই কম। সেই সঙ্গে স্বাদেও মিষ্টি, যে কারণে সুগার রোগীদের প্রতিদিন একবাটি করে পাকা পেঁপে খেতে বলা হয়।

এছাড়াও অনেকে হজমের সমস্যায় ভোগেন। এদের প্রতিদিন পেট পরিষ্কার হয় না, ফলে শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বেরুতে পারে না। তাই তাদের প্রতিদিন পাকা পেঁপে খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকরা।

বাঙ্গালীর বারো মাসে তেরো পার্বণ বা উৎসব।  ঈদ, পূজা, বড়োদিন, নববর্ষ কত কি? আর উৎসব মানেই দেদার খানাপিনা। কিন্তু শুধু খেয়ে গেলেই তো আর চলবে না, তাকে হজমও করতে হবে।

পেটের সমস্যা বা হজমের জন্য পেঁপে কতটা কার্যকর তা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো:

পেঁপে কাঁচা বা কাঁচা পেঁপে সেদ্ধ করে বা গাছের পাকা পেঁপে যেভাবেই খান না কেন এর আছে আশ্চর্য কিছু গুণ। শরীর সুস্থ রাখতে ও শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর করতে কাঁচা পেঁপে দারুণ কার্যকর। বিশেষজ্ঞরা বলেন, মানুষের ভেতরের সৌন্দর্যের যত্ন নিলে তা আপনা-আপনি বাইরের সৌন্দর্য হিসেবে ফুটে ওঠে। মানুষের শরীরের ভেতর থেকে পরিষ্কার করতে পারে—এমনই এক দুর্দান্ত উপাদান হচ্ছে কাঁচা পেঁপে। একে ‘সুপারফুড’ বলা চলে।

স্টোমাক বা পেট ভালো রাখে:

পেঁপে খাওয়া হজমে উত্সাহ দেয়, বদহজমকে স্বাচ্ছন্দ্য দেয় এবং কোষ্ঠকাঠিন্যে সহায়তা করে। ম্যাজিকটি এনজাইমগুলিতে রয়েছে পেপেইন, একটি প্রাকৃতিক হজম এনজাইম যা পেটে জ্বলন্ত খাবারগুলি ভেঙে দেয়। এবং Chymopapain(কিমোপাপাইন)-যা একটি স্বাস্থ্যকর অ্যাসিডিক পরিবেশ প্রচার করে প্রোটিনগুলি ভেঙে দেয় এবং পেটকে প্রশান্ত করে।

শরীরের দূষিত বস্তূ বের করে দেয়:

অন্ত্রের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করতে,  খালি পেটে পেঁপে খেতে পারেন। এটি একটি সুপারফুড। সারা বছর পাওয়া যাই অর্থাৎ সহজ প্রাপ্যতার কারণে, পেঁপে সহজেই আপনার প্রাতঃরাশে অন্তর্ভুক্ত করা যায়। ফলগুলি কেবল শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থগুলি বের করে দেবে না, খারাপ কোলেস্টেরল কমিয়ে দেবে এবং হৃদরোগ প্রতিরোধ করবে।

এনজাইমের ভান্ডার:

অনেকেই পেঁপের  গুণাগুণ সম্পর্কে হয়তো জানেন। কাঁচা সবুজ পেঁপেতে নানা রকম প্রাকৃতিক এনজাইম থাকে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য দুটি এনজাইম হচ্ছে  পাপাইন এবং কিমোপাপাইন। এই দুটি এনজাইম প্রোটিন, চর্বি ও কার্বোহাইড্রেট ভাঙতে সাহায্য করে।

পুষ্টির পাওয়ার হাউস:

নিউট্রিশন নামের ব্রিটিশ জার্নাল বা সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণা তথ্য অনুযায়ী, কাঁচা পেঁপেতে অনেক বেশি ক্যারটিনয়েডস থাকে, যা গাজর বা টমেটোর চেয়ে বেশি। মানুষের শরীরে জন্য কাঁচা পেঁপেতে থাকা ক্যারটিনয়েড বেশি উপযোগী।

হজমে সাহায্য করে:

পেঁপে মুখের রুচি ফেরায়। সেই সঙ্গে খিদেও বাড়ায়। আর পেট পরিষ্কার করে। পেট পরিষ্কার হলেই খিদে বাড়বে। সেই সঙ্গে গ্যাস অম্বলের সমস্যা কমবে। এমনকী যাদের অর্শ্ব রোগ আছে তাদের ক্ষেত্রেও খুব ভালো কাজ করে পেঁপে। শরীর থেকে ক্ষতিকর টক্সিন বেরিয়ে গেলেই শরীর থাকবে সুস্থ।

ত্বকের সুরক্ষায়:

পেঁপের আঁশ শরীরের ভেতরের বিষাক্ত ভাব দূর করে বলে নিয়মিত কাঁচা পেঁপে খেলে ত্বকের সমস্যা দূর হয়। বিশেষ করে ব্রণ এবং ত্বকের ওপর নানা দাগ দূর করতে পারে কাঁচা পেঁপে। মৃত কোষ সমস্যা দূর করতে পারে পেঁপে।

ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে:

পেঁপেতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, বিটা ক্যারোটিন, ফ্লেভানয়েড, লুটেইন, ক্রিপ্টোক্সান্থিন আছে। এছাড়াও আরো অনেক পুষ্টি উপাদান আছে যেগুলো শরীরের জন্য খুবই উপকারী। ক্যারোটিন ফুসফুস ও অন্যান্য ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়।

বয়সকালে খাবারের পাতে পেঁপে সেদ্ধ খান কিংবা খাওয়ার শেষে একটু জিরিয়ে নিয়ে কয়েক টুকরো পাকা পেঁপে খেয়ে যান নিয়ম করে। কেন এভাবে পাকা পেঁপে খেতে বলা?‌ পাকস্থলী, অগ্ন্যাশয়কে ভাল রাখার জন্যই এই পরামর্শ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের।

কারণ বয়সকালে যেটা হয়, শরীরের হজমকারী উৎসেচকের উৎপাদন ক্ষমতা কমে যায়। ফলে খাবার সহজে হজম হতে চায় না। পেঁপে সেই সমস্যা দূর করে। কারণ পেঁপে হজমকারক।

পেঁপেতে পাপাইন‌সহ নানা ধরনের ‘‌প্রোটিওলাইটিক এনজাইম’‌ থাকে। এই রাসায়নিকগুলি প্রোটিন হজম করায়। যার জন্য পেঁপে দিলে মাংস নরম হয়ে যায়। পেঁপে মাংসের খাদ্য আঁশকে ভেঙ্গে নরম করে দেয়। ফলে মাংস খেলেই হজমের সমস্যা হয় যাঁদের, তাঁরা কাঁচা পেঁপে দিয়ে রান্না করা মাংস খান।

খাবার খেলেই বদহজমের সমস্যা, যাঁদের এইরকম ভোগান্তি নিত্যনৈমিত্তিক তাঁদের নিয়মিত কাঁচা পেঁপের ঝোল বা সেদ্ধ এবং পাকা পেঁপে খাওয়া অভ্যাস করতে হবে। মাস দুয়েক এভাবে পেঁপে খাওয়া টানা চালিয়ে যেতে পারলে সব কিছুই খেতে ইচ্ছে করবে। হজমও হবে।

ক্যান্সার রোগীদের পেঁপে খেতে বলা হয় খাবার হজম করাতে। আটা, ময়দায় যে হড়হড়ে আঠালো পদার্থ গ্লুটেন থাকে এবং এরকম গ্লুটেন-‌সমৃদ্ধ খাবার‌-দাবার যাঁদের হজম হয় না, তাঁরা পেঁপের তরকারি খান, উপকার পাবেন। কাঁচা পেঁপে খেলে পেট ফাঁপা থেকেও রেহাই পাওয়া যায়।

পেটে গ্যাস?‌ ব্যথা?‌ খিদে মরে গেছে?‌ তার মানে পাকস্থলীতে অম্লরস কমে গেছে। কাঁচা পেঁপের তরকারি খান দু‌’‌বেলা। সহজে খাবার হজম হয় না যাঁদের, গ্যাস অম্বল নিত্যসঙ্গী, তাঁরা সপ্তাহে তিনদিন কাঁচা পেঁপের ভাপে সেদ্ধ তরকারি খান।

তথ্যসূত্র:

https://www.medicalnewstoday.com/articles/275517, এনডিটিভি